করোনা ভাইরাসকে হারিয়ে জীবন যুদ্ধে জয়ী হলেন বাংলার প্রাক্তন ক্রিকেটার তথা বাংলা বর্তমান দলের অন্যতম নির্বাচক সাগরময় সেন শর্মা। ১৯৮৯-’৯০ মরসুমে সম্বরণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে রঞ্জি ট্রফিতে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল বাংলা। সেই দলের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য ছিলেন এই প্রাক্তন বাঁহাতি পেসার। সাগরময় সেন শর্মার করোনা আক্রান্তের খবর চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছিল বাংলার ক্রিকেট মহলে। অবশেষে সব উদ্বেগের অবসান ঘটিয়ে সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরলেন প্রাক্তন বাঁ-হাতি পেসার।

আরও পড়ুনঃনির্বাসন শেষে ফের ক্রিকেটে ফিরতে চলেছেন শ্রীসন্থ

তবে এই সময়টা যে কতটা কঠিন ছিল সেই কথা জানিয়েছেন সাগরময় সেন শর্মা। প্রথমে তার স্ত্রী করোনা আক্রান্ত হন, তারপর মারণ ভাইরাসে আক্রান্ত হন নিজেও। রিপোর্ট পজেটিভ আসায় তড়িঘড়ি সাগরময় সেন শর্মাকে নিয়ে যাওয়া হয় রাজারহাটের একটি কোয়ারেন্টাই  সেন্টারে। কিন্তু অবস্থার দ্রুতি অবনতি হয় তার। শুরু হয় শ্বাস কষ্ট। তারপর তাকে ভর্তি করা হয় বাইপাসের ধারে একটি বেসরকারি হাসপাতালে। প্রাক্তন ক্রিকেটার জানিয়েছেন,'সেখানে আইসিইউতে রাখা হয় আমাকে। শ্বাসকষ্ট ও যন্ত্রণা বাড়ছিল। একটু জোরে শ্বাস নিলেই মনে হচ্ছিল আটকে যাচ্ছে। সকাল-বিকেল মিলিয়ে ১২-১৩ ইঞ্জেকশন, তার মধ্যে পেটে নাভির চারপাশে বেশ কয়েকটা দিত। লাগত খুব। পেটে মোট নিয়েছি ৪৫টা ইঞ্জেকশন। সব মিলিয়ে নিয়েছি ১২০টার মতো ইঞ্জেকশন। দু’বেলা মুঠো করে ওষুধও ছিল। কিন্তু পরিস্থিতি যাই হোক মনের জোর ছাড়িনি।আর করোনাকে নিজের উইকেট দেব না বলে টিক করে নিয়েছিলাম। তারপর ধীরে ধীরে অবস্থার উন্নতি হয় । পরীক্ষার পর জানা যায় আমি করোনা ভাইরাস থেকে মুক্তি পেয়েছি।' করোনা মুক্ত হয়ে সাগরময় সেন শর্মা জানিয়েছেন,রঞ্জি চ্যাম্পিয়ন হওয়ার আনন্দও তুচ্ছ।

আরও পড়ুনঃআইএসএলে কমছে বিদেশির সংখ্যা,আগামী মরসুম থেকে লাগু হচ্ছে একাধিক নয়া নিয়ম

আরও পড়ুনঃ২০ তারিখ ফিরছে সিঁরি আ,চিনে নিন ইতালিয়ান লিগের ইতিহাসের সেরা ১০ গোলকিপারদের

প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে ৪৭ ম্যাচে ১৪৯ উইকেট নিয়েছেন তিনি। পাশাপাশি লিস্ট-এ ফরম্যাটে ১৯ ম্যাচ খেলে ১৬ উইকেট নিয়েছেন। ১৯৮৭ থেকে ১৯৯৭ সাল পর্যন্ত বাংলা ও পূর্বাঞ্চল দলের নিয়মিত সদস্য ছিলেন তিনি। জীবন যুদ্ধে জয়ী হয়ে বাড়ি ফেরায় খুশি সাগরময় সেন শর্মার পরিবারও। বর্তমান  প্রাক্তন ক্রিকেটাররাও খোঁজ খবর নিয়েছেন তার। আপাতত বাড়িতেই রয়েছেন তিনি। সাগরময় শেন শর্মা সুস্থ হয়ে বাড়ি ফেরায় স্বস্তি ফিরেছে বাংলার ক্রিকেট মহলেও।