ভারতীয় ক্রিকেটের কঠিন সময়ে দলের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের কাধে। সেই খাদের কিনারা থেকে নতুন টিম ইন্ডিয়ার জন্ম হয়েছিল সৌরভের হাত ধরে। শিখিয়েছিলেন বিদেশের মাটিতে বিপক্ষের চোখে চোখ রেখে লড়াই।  সাফল্যের ঝুলিও কম কিছু নয়। অপ্রতিরোধ্য অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে ২০০১-০২ সালে ঘরের মাঠে ঐতিহাসিক টেস্ট সিরিজ জয়। অস্ট্রেলিয়াতে গিয়ে টেস্ট সিরিজ ড্র থেকে পাকিস্তানের মাটিতে টেস্ট ও ওয়ান ডে সিরিজ জয়। ২০০৩ বিশ্বকাপের রানার্স আপ সহ আরও কত কী। একের পর এক সাফল্যের জন্যই শুধু ভারত নয়, বিশ্ব ক্রিকেটের ইতিহাসে সৌরভ হয়ে উঠেছেন অন্যতম সেরা অধিনায়ক। কিন্তু কীভাবে ভারতীয় দলের অধিনায়কের দায়িত্ব পেয়েছিলেন সৌরভ। সেই তথ্যই প্রায় দু-দশকেরও বেশি সময় পর ফাঁস করলেন ভারতের প্রাক্তন নির্বাচক প্রধান চাঁদু বোরদে।

আরও পড়ুনঃভারতী ক্রিকেট সৌরভের থেকে দ্রাবিড়ের অবদান বেশি,ফের বিস্ফোরক গম্ভীর

ম্যাচ গড়াপেটার কালো ছায়ায় তখন জর্জরিত ভারতীয় ক্রিকেট। ম্যাচ গড়াপেটায় জড়িত থাকার অভিযোগে মহম্মদ আজহারউদ্দিনকে নির্বাসনে পাঠায় ভারতীয় বোর্ড। সেই সময় প্রথমে অধিনায়ক করা হয় সচিন তেন্ডুলকরকে। অস্ট্রেলিয়া সফরে ভরাডুবির পর নেতৃত্ব ছাড়েন সচিন। এরপর অনেক অনুরোধ করেও সচিনকে অধিনায়ক হতে রাজি করানো যায়নি। সেই সময় অধিনায়কের দায়িত্ব দেওয়া হয় সৌরভকে।  কিন্তু সৌরভের নাকি অধিনায়ক হওয়ার কথাই ছিল না! চাঁদু বোরদে জানিয়েছেন,'আমরা সচিনকে ক্যাপ্টেন হিসেবে অস্ট্রেলিয়ায় পাঠিয়েছিলাম। তবে ফিরে এসে ও ক্যাপ্টেন্সি চালিয়ে যেতে চায়নি। ও বলে নিজের ব্যাটিংয়ে মনোসংযোগ করতে চায়। তা সত্ত্বেও আমরা ওকে দীর্ঘ সময়ের জন্য ক্যাপ্টেন্সি করার প্রস্তাব দিই এবং বোঝাতে থাকি যে, নতুন প্রজন্মের জন্য আমরা একজন ক্যাপ্টেনের খোঁজে রয়েছি।সচিনকে কোনওভাবেই রাজি করানো যায়নি। ওর দাবি ছিল, ব্যাট হাতে দলের জন্য যেমনটা অবদান রাখতে চায়, তেমনটা পারছে না। আমার কয়েকজন সতীর্থ আমাকে জিজ্ঞাসা পর্যন্ত করেছিল যে, আমি সচিনকে এত করে কেন বোঝানোর চেষ্টা করছি। আমি বলেছিলাম, আমি ভবিষ্যতের দিকে তাকানোর চেষ্টা করছি। শেষে আমরা অনেকটা বাধ্য হয়েই সৌরভের হাতে ক্যাপ্টেন্সি তুলে দিই।  একবাক্যে রাজিও হয়ে গিয়েছিলেন সৌরভ।'

আরও পড়ুনঃএবার করোনা ভাইরাসের থাবা সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের বাড়িতে

আরও পড়ুনঃবউদির পর এবার কি করোনা আক্রান্ত সৌরভের দাদা,কী জানাল বিসিসিআই প্রেসিডেন্টের পরিবার

তারপরটা ইতিহাস। অধিনায়ক হিসেবে দেশকে একের পর এক সাফল্য এনে দিয়েছিলেন সৌরভ। বর্তমানে তিনি বিসিসিআই প্রেসিডেন্ট। ভারতীয় ক্রিকেটের দায়িত্বভার এখনও সামলাচ্ছেন সৌরভ। আর বলা বাহুল্য সাফল্যের সঙ্গেই সামলাচ্ছেন বেহালার বীরেন রায় রোডের ডাকাবুকো ছেলেটা। বিসিসিআই প্রেসিডেন্ট হিসেবেও গড়েছেন নয়া নজির। ভারতের মাটিতে প্রথম পিঙ্ক বল টেস্ট করিয়েছেন দায়িত্ব নিয়েই। বর্তমান পরিস্থিতিতে করোনা ভাইরাসের জেরে আইপিএল নিয়ে সমস্যা, চিনা স্পনসর নিয়ে সমস্যা ইত্যাদি একাধিক প্রতিকুলতার মধ্যেও লড়াই করে চলেছেন সৌরভ। কারণ নেতৃত্ব যে তার রক্তে।