ভারতীয় ক্রিকেটে পুরুষ ক্রিকেটারদের তুলনায় মহিলাদের আয় নগন্য সমান সুযোগ, সুবিধা পান অস্ট্রেলিয়ার মহিলা ক্রিকেটাররা সেখানে অর্থ থেকে পরিকাঠামো পিছিয়ে হরমনপ্রীতরা ভাবার সময় এসেছে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের  

একদিকে আন্তর্জাতিক নারী দিবস, অপরদিকে একইদিনে মহিলা টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ফাইনাল। নারী শক্তির প্রতিষ্ঠা করতে মরিয়া দুই দেশের মহিলা ক্রিকেটাররা। বিশেষ করে যে কোনও স্তরের মহিলা ক্রিকেটে দেশকে প্রথমবার বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন করতে বদ্ধপরিকর হরমনপ্রীত কউর, স্মৃতি মন্দনা, শেফালি ভার্মারা। ভারতীয় তথা বিশ্ব ক্রিকেটে মহিলাদের সমমর্যাদারও প্রমাণের লড়াই ভারতীয় মহিলা দলের সামনে। কিন্তু এ ক্ষেত্রেও উঠছে বৈষম্যের অভিযোগ। যেখানে ফাইনালে নিজেদের পুরুষ দলের সমান অর্থ পেতে চলেছে অস্ট্রেলিয়া মহিলা দল, সেখানে ভারতের ছবিটা সম্পূর্ণ উল্টো। পুরুষ দলের তুলনায় ভারতীয় মহিলা ক্রিকেটারদের আয় একেবারে নগন্য।

Add Asianetnews Bangla as a Preferred SourcegooglePreferred

আরও পড়ুনঃপুরনো মেজাজই সচিন-সেওয়াগ জুটি, ওয়াংখেড়েতে ক্যারেবিয়ানদের হারাল ইন্ডিয়া লেজেন্ডস

ক্রিকেট পাগল ভারতে পুরুষ খেলায়ারদের ভগবানের জায়গায় বসানো হয়। শুধু খ্যাতি, প্রতিপত্তি, অর্থ নয় স্পনশরদের তরফে থেকে দেওয়া হয় গাড়ি, বাড়ি, ঘড়ি, হেডফোন, জুতো থেকে শুরু করে টুথ ব্রাশ পর্যন্ত। যেখানে অধিনায়ক বিরাট কোহলি সহ অন্যান্য শীর্ষ স্থানীয় ভারতীয় ক্রিকেটাররা বিসিসিআইয়ের বার্ষিক চুক্তি অনুসারে ৭ কোটি টাকা অর্থ উপার্জন করে। যা বিশ্বের সবথেকে ধনী। সেখানে ভারতীয় মহিলা দলের অধিনায়ক হরমনপ্রীত কউর, স্মৃতি মন্দনা, পুণম যাদব সহ অন্যান্য এ ক্যাটাগরির প্লেয়ারদের বার্ষিক চুক্তি মাত্র ৫০ লক্ষ টাকা। 

বোর্ডের বার্ষিক চুক্তির বাইরেও আইপিএল, বিভিন্ন স্পনশরশিপ, বিজ্ঞাপন, এনডোর্সমেন্ট ডিল থেকে কোটি কোটি টাকা আয় করে পুরুষ প্লেয়াররা। গত বছর বিরাট কোহলি ফোবসের প্রকাশিত ১০০টি ধনী ক্রিকেটারদের তালিকায় ছিলেন। যার আনুমানিক আয় ২৫ মিলিয়ন। সেখানে মহিলাদের জন্য নগন্য স্পনসরশিপ থাকলেও, নেই আইপিএলের মত কোনও কোটিপতি লিগ। গত বছর মহিলা ক্রিকেটের একটি মিনি আইপিএল ধরনের সংস্করণ হলেও, তাতে বিনিয়োগ তেমন ছিলনা। 

যদিও নিজেদের দাবির কথা খুব একটা জোর গলায় বলেলনি মহিলা ক্রিকেটাররাও। যেখানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে মহিলা ফুটবল দলের সদস্যরা বেতন বৈষম্যের জন্য তাদের ফেডারেশনের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন, সেখানে ভারতীয় মহিলারা ধীরে চলো নীতি অবলম্বন করেছেন। ভারতীয় মহিলা ক্রিকেট দলের সদস্য সম্প্রতি সংবাদ মাধ্যেমে বলেছেন, আমরা যে আয় করি তা পুরুষদের ক্রিকেটের মাধ্যমে হয়। যেদিন মহিলাদের ক্রিকেট উপার্জন পেতে শুরু করবে, আমি প্রথম ব্যক্তি হিসেবে সম অধিকারের দাবি জানাব। তবে এখনও সেই সময় আসেনি। ভারতীয় মহিলা দলের প্রাক্তন অধিনায়ক অঞ্জুম চোপড়া জানিয়েছেন, দল যেদিন বিশ্বস্তরে চ্যাম্পিয়ন হবে সেদিন অর্থ নিজে থেকেই আসবে।

আরও পড়ুনঃনিরেপক্ষ ভেন্যুতে হতে পারে এশিয়া কাপ, পরোক্ষভাবে বিসিসিআইয়ের দাবি মানল পিসিবি

আরও পড়ুনঃআইপিএল শুরুর আগেই ধাক্কা খেল দিল্লি, অদ্ভুত কারণ দেখিয়ে নাম তুললেন ওকস

ভারতীয় বোর্ডেরও গোটা বিষয়টি নিয়ে ভাববার সময় এসেছে। কারণ দেশের হয়ে কোনও ট্রফি জিতলে দুই দলই সমানভাবে দেশ ও দেশবাসীকে গর্বিত করে। কিন্তু মহিলা দলের সাফল্যের কম থাকায় বার বার প্রশ্ন ওঠে। কিন্তু অস্ট্রেলিয়া মহিলা দলের ক্রিকেটাররা যে অর্থ বা পরিকাঠামো পায়, তা আমাদের মহিলা ক্রিকেটদের আমরা কতটা দিতে পারি তা নিয়ে আত্মসমালোচনা করার সময় এসেছে। সময় এসেছে মানসিকতার পরিবর্তনেরও। তাহলেই হয়তো পুরুষদের মতোই বিশ্ব ক্রিকেট রাজত্ব করবে ভারতীয় মহিলারাও। প্রশ্নের অবকাশ থাকবে না বৈষম্য নিয়ে।