১৯৯৯ সালের ভারত-দক্ষিণ আফ্রিকা সিরিজে গড়াপেটার অভিযোগ তোলপার হয়েছিল দেশ। তারপর ২০১৩ সালের স্পট ফিক্সিং কাণ্ড ক্রিকেট বিশ্বকে নাড়িয়ে দিয়েছিল। কঠোর শাস্তির মুখে পড়তে হয়েছিল অভিযুক্তদের। আইপিএলে স্পট ফিক্সিং কাণ্ড সামনে আসার পর বিসিসিআই ও আইসিসির কড়া অবস্থান নিয়েছিল। কিন্তু তারফলে যে ম্যাচ ফিক্সিংয়ের কালো ছায়া থেকে ভারত মুক্তি হয়েছে তেমনটা নয়। আইসিসির দুর্নীতি দমন শাখার দাবি সেই আশঙ্কাকে আরও জোরাল করেছে। আইসিসির তরফে বলা হয়েছে, বর্তমানে ম্যাচ ফিক্সিংয়ের যাবতীয় ঘটনায় উঠে আসছে ভারতের নাম। দুর্নীতির আতুঁরঘরে পরিণত হয়েছে ভারত।

আরও পড়ুনঃচিনের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগড়ে দিলেন হরভজন,নিলেন চিনা পণ্যের বিজ্ঞাপন না করার সিদ্ধান্ত

আইসিসির দুর্নীতি দমন শাখার আধিকারিক স্টিভ রিচার্ডসন জানিয়েছেন, বড় মঞ্চ না পেলে জুয়াড়িরা এখন ঘরোয়া ক্রিকেটেও নজর দিয়েছে। ফলে একেবারে তৃণমূল স্তর পর্যন্ত দুর্নীতির শিকড় ছড়িয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেছেন। তিনি বলেছেন, ম্যাচ ফিক্সিংয়ের মোট ৫০টি ঘটনা নিয়ে আমরা তদন্ত করছি। তার মধ্যে বেশিরভাগ ঘটনার সঙ্গে সরাসরি ভারতের নাম যুক্ত। এখানে যে সব জুয়াড়িরা নিয়মিত অপরাধ করছে তাদের তালিকাও আমাদের কাছে আছে। ক্রিকেটাররা এখানে শেষ ঘুঁটি। আসল দোষী হল যারা টাকা সরবরাহ করছে। এমন আটজনের নাম রয়েছে আমাদের কাছে। আরো গভীরে গিয়ে ফিক্সিংয়ের তদন্ত করতে চাইছি আমরা। তবে আইসিসির তরফে এটাও স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে যে, বড় কোনও ভারতীয় ক্রিকেটারের নাম তাদের সন্দেহের তালিকায় নেই। 

আরও পড়ুনঃআজব ঘটনা, ১০ গোল হজম করেও ম্যাচের সেরা গোলরক্ষক

আরও পড়ুনঃআইপিএলে বাতিল করতে হবে সমস্ত চিনা স্পনসর, বিসিসিআইকে হুঁশিয়ারী বণিকসভার

ভারতীয় ক্রিকেট দিনে দিনে দুর্নীতিবাজদের মুক্তাঞ্চল হওয়ার পেছনে কী কারণ তাও জানিয়েছেন স্টিভ রিচার্ডসন। তার মতে, ভারতে বেটিং নিয়ে কোনও কড়া আইন নেই। যতক্ষণ না গড়াপেটাকে অপরাধ বলে গণ্য করা হবে, ততক্ষণ এর উপদ্রব কমানো যাবে না বলে মত এসিইউ আধিকারিকের। একইসঙ্গে তিনি জানিয়েছেন, শ্রীলঙ্কা গড়াপেটা রুখতে কড়া আইন লাগু করেছে। যারফলে দ্বীপরাষ্ট্রে বেটিং নিয়ে আইন হওয়ার পর ওদেশে বুকিদের সক্রিয়তা কমেছেফিক্সিংয়ের বিরুদ্ধে কড়া অবস্থান নিয়েছে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়াও। তাই কঠোর আইন প্রণয়নই বেটিং রোখার একমাত্র পথ বলে জানানা হয়েছে আইসিসির দুর্নীতি দমন শাখার আধিকারিকের তরফে।