শুক্রবার বিসিসিআইয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল চিনা মোবাইল প্রস্তুতকারক কোম্পানি ভিভোই টাইটেল স্পনসর থাকবে আইপিএলের। এতে আখেরে ভারতীয় অর্থনীতিরই লাভ বলে জানিয়েছিলেন বোর্ডের কোষাধ্যক্ষ অরুণ ধুমল। কিন্তু ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই দেশবাসীর আবেগ ও চিন বিরোধী আবহ বুঝতে পেরেই নিজেদের অবস্থান থেকে পিছু হটল ভারতীয় ক্রিকেট কন্ট্রোল বোর্ড। লাদাখের গালওয়ান উপতক্যায় চিনা হামলা ২০ জন ভারতীয় সেনার শহীদ হওয়ার পর থেকেই উত্তাল গোটা দেশে। প্রতিবাদে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে উঠছে চিন বিরোধী স্লোগান। সরকারের কাছে চিনকে যোগ্য জবাব দেওয়ার দাবি জানানোর পাশাপাশি উঠেছে সমস্ত চিনা পণ্য বর্জনের আওয়াজও। চিনা দ্রব্যে আগুন ধরিয়েও চলছে প্রতিবাদ। কিন্তু দেশের এই আবহে অস্বস্তিতে পড়েছে ভারতীয় ক্রিকেট কন্ট্রোল বোর্ড। কারণ আইপিএল এর টাইটেল অর্থাৎ অন্যতম প্রধান স্পনসর চিনা মোবাইল প্রস্তুতকারক সংস্থা ভিভো। ফলে ভারত চিন কূটনৈতিক সম্পর্কের অবনতির প্রভাব পড়তে শুরু করেছে আইপিএলেও। ২০২২ সাল পর্যন্ত ভিভোর সঙ্গে চুক্তি থাকায় সেই চুক্তিকে মান্যতা দিতেই হবে বলেও জানানো হয়েছিল বোর্ডের তরফে।

আরও পড়ুনঃআন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেকের দিনে নস্টালজিক সৌরভ,ফিরে দেখা সেই ঐতিহাসিক ইনিংস

আরও পড়ুনঃআজ রাতে মাঠে ফিরছে সিঁরি আ,চিনে নিন লিগের ইতিহাসে সেরা ১০ লেজেন্ডদের

কিন্তু শনিবার রাতে ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের তরফে টুইট করা হয়েছে যে, লাদাখের গলওয়ান উপত্যকায় ভারতীয় সেনাদের মৃত্যুর ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে আইপিএলের স্পনসরশিপ রিভিউ করা হবে। আগামী সপ্তাহে আইপিএলের গভর্নিং কাউন্সিল এক বৈঠকে আলোচনা করবে এই ব্যাপারে। পরে বোর্ডের সরকারি টুইটার হ্যান্ডেলেও এটাই পোস্ট করা হয়েছে। যাতে পরিষ্কার, বর্তমান পরিস্থিতিতে দেশ জুড়ে চিন-বিরোধী আবেগের কথা মাথায় রাখছে বোর্ড।মনে করা হচ্ছে যে শুধু ভিভো নিয়েই আলোচনা হবে না। পেটিএম, ড্রিম ইলেভেনের মতো আইপিএলের অন্য যে স্পনসরগুলোয় চিনা কোম্পানির বিনিযোগ রয়েছে, সেগুলো নিয়েও চলবে চর্চা। পেটিএম আবার আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ভারতের টাইটেল রাইটস হোল্ডার। পাঁচ বছরের জন্য চুক্তির মূল্য ৩২৬ কোটি টাকা। বোর্ডের এক সূত্র জানিয়েছে যে, আইপিএলের সেন্ট্রাল স্পনসরদের কিছু অর্থ আসে চিন থেকে। এগুলো নিয়েই আলোচনা হবে। ফলে একদিকে করোনার জন্য আইপিএল স্থগিত হয়ে যাওয়া নিয়ে সমস্য। যার ফলে কবে আইপিএল তা নিয়ে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। তারউপর ইন্দো-চিন সম্পর্কের অবনতি হওয়ায় আইপিএলের টাইটেল স্পনসর সহ একাধিক চিনা কোম্পানি স্পনসর থাকার সমস্যা। যার ফলে অস্বস্তি ক্রমশ বাড়ছে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের। এখন দেখার বিষয় এই কঠিন সময়ে কি সিদ্ধান্ত নেয় বিসিসিআই।

 

 

আরও পড়ুনঃধোনির রাগ দেখে চাকরি হারানোর ভয় পেয়েছিলেন মাইক হাসি