Asianet News BanglaAsianet News Bangla

আইপিএল-এ দল না পেয়ে ভেঙে পড়েছিলেন, তিনশো করে স্বীকারোক্তি মনোজের

  • বাংলার হয়ে অপরাজিত ত্রিশতরান মনোজ তিওয়ারির
  • হায়দ্রাবাদের বিরুদ্ধে খেললেন ৩০৩ রানের ইনিংস
  • এবারের আইপিএল-এ উপেক্ষিত মনোজ 
  • বাংলার ব্যাটসম্যানকে কোনও দলই কেনেনি
Manoj Tiwari admits that he was upset after remaining unsold in IPL auctions
Author
Kolkata, First Published Jan 21, 2020, 10:16 AM IST
  • Facebook
  • Twitter
  • Whatsapp

আইপিএল- এ দল না পাওয়াটা মেনে নিতে কষ্ট হয়েছিল। হায়দ্রাবাদের বিরুদ্ধে অপরাজিত ত্রিশতরান করার পর স্বীকার করে নিলেন বঙ্গ অধিনায়ক মনোজ তিওয়ারি। ৩৪ বছর মনোজ অবশ্য জানেন ধারাবাহিকভাবে রান করে গেলেও এখন আর ভারতীয় দলে প্রত্য়াবর্তন কঠিন। তা সত্ত্বেও হাল না ছেড়ে নিজের কাজটা করে যেতে চান তিনি। 

সোমবার কল্যাণীতে হায়দ্রাবাদের বিরুদ্ধে রঞ্জি ট্রফির ম্যাচে ৩০৩ রানে অপরাজিত থাকেন মনোজ। তাঁর দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ের জোরেই হায়দ্রাবাদের বিরুদ্ধে ৭ উইকেটে ৬৩৫ রানের পাহাড় প্রমাণ স্কোর খাড়া করে বাংলা। অথচ এই মনোজকে এবারের আইপিএল- এ কোনও দলই মনোজকে কিনতে আগ্রহ দেখায়নি। ফলে অবিক্রিতই থেকে যেতে হয়েছে বাংলার এই অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যানকে। তিনশো করার পর হতাশ মনোজ তাই বলেছেন, 'আইপিএল-এ দল না পাওয়াটা সত্যিই খুব হতাশাজনক ছিল। কিন্তু এটাই বাস্তব। যখন বাড়িতে বসে দেখব যে আমার থেকে জুনিয়ররা আইপিএল-এ খেলছে, তখন খারাপ তো লাগবেই। হয়তো ওদের জায়গায় আমি ওই শটগুলো মারার সুযোগ পেতাম। কিন্তু আমার কাছে এটাই এখন কঠিন বাস্তব।' হতাশ মনোজ মেনে নেন, 'আসলে আইপিএল ফ্র্যাঞ্চাইজি- রা একটু অন্যরকম করে ভাবে।'

শুধু আইপিএল কেন, এই মুহূর্তে ভারতীয় দলেও যে কঠিন প্রতিদ্বন্দ্বিতা রয়েছে, তাতে এই বয়সে জাতীয় দলে তাঁর প্রত্যাবর্তনের আশাও ক্ষীণ। সেটা মেনে নিয়েই মনোজ বলেন, 'এই মুহূর্তে ভারতীয় দল জিতছে। ভারতীয় দল যে পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে তাতে আমার পক্ষে সেখানে সুযোগ পাওয়া কঠিন। কিন্তু পৃথিবীতে কিছুই তো অসম্ভব নয়।' মনোজ বলেন, 'আত্মবিশ্বাসই আমার শক্তি। আমায় তো আশাবাদী থাকতেই হবে। বয়সটা আমার কাছে একটা সংখ্যা মাত্র।'

জাতীয় দলের হয়ে সুযোগ পেয়ে ২০১১ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে শতরান করার পরেও ধারাবাহিকতার অভাবে বাদ পড়েন মনোজ। এর পর ২০১৫ সালে ভারতীয় দলের হয়ে জিম্বাবোয়ে সফরে সুযোগ পেয়েছিলেন বাংলার এই সিনিয়র ক্রিকেটার। যদিও সেই সিরিজে দ্বিতীয় সারির দল পাঠিয়েছিল ভারত। এর পর আর জাতীয় দলের হয়ে নিজেকে প্রমাণ করার সুযোগ পাননি তিনি। 

প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে পঞ্চাশের উপরে গড় রেখে ৮৭৫২ রান রয়েছে মনোজের। নিজের ধারাবাহিকতায় খুশি বঙ্গ অধিনায়কও। কিন্তু জাতীয় দলের নির্বাচকরা তাঁকে উপেক্ষা করায় সেই হতাশা গোপন করে রাখতে পারেননি অভিজ্ঞ এই ব্যাটসম্যান। 

হায়দ্রাবাদের বিরুদ্ধে করা তিনশো রানের ইনিংসটি নিজের দেড় বছরের ছেলে যুবানকে উৎসর্গ করেছেন মনোজ। বঙ্গ অধিনায়কের মতে, ছেলেই তাঁর ভাগ্য ফিরিয়ে এনেছে। দেবাং গাঁধীর পর বাংলার দ্বিতীয় ব্যাটসম্যান হিসেবে ত্রিশতরান করলেন তিনি। আর মাত্র একুশ রান করলেই দেবাংকে টপকে বাংলার হয়ে রঞ্জিতে সর্বোচ্চ স্কোর করার হাতছানি ছিল মনোজের সামনে। কিন্তু সিনিয়র দেবাংয়ের প্রতি সম্মান দিয়েই ইনিংস ডিক্লেয়ার করে দেন মনোজ।  দেবাংয়ের নজির অক্ষুণ্ণ রাখা নিয়ে তিনি বলেন, 'আমি কখনও ওঁকে ছাপিয়ে যেতে চাইনি। বাংলার হয়ে ওঁর অনেক অবদান। ওনাকে ওই জায়গাতেই থাকতে দিন। আমি ৩০৩ করতে পেরেই খুশি। এর পরে তো আমার জন্য আরও সুযোগ আসবে।' মনোজ অবশ্য জানিয়েছেন এখনও জাতীয় দলের হয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে ১০৪ রানের ইনিংসকেই এগিয়ে রাখবেন তিনি। 

Follow Us:
Download App:
  • android
  • ios