২০০২ ন্যাটওয়েস্ট ফাইনালের স্মৃতি শুধু বাঙালি নয় কোনও দিন ভুলতে পারবে না গোটা দেশ রুদ্ধশ্বাস ফাইনালে হারের দোরগোরা থেকে ম্যাচ জিতেছিল সোরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন টিম ইন্ডিয়া। ঐতিহাসিক ইনিংস খেলেছিলেন মহম্মদ কাইফ ও যুবরাজ সিং। ম্যাচ জয়ের পর লর্ডসের গ্যালারিতে দাঁড়িয়ে সৌরভের জার্সি খুলে ঘোরানোর দৃশ্য আজও টাটকা সকলের মনে। অনেকেই বলেন ব্রিটিশ ঔদ্ধত্যের বিরুদ্ধে ওটাই ছিল ভারতের মোক্ষম জবাব। এত পর্যন্ত সকলের জানা কিন্তু ফাইনাল জয়ের পর শুধু সৌরভ নয়, জার্সি খুলেছিলেন আরও ভারতীয় ক্রিকেটার। তা কী কেউ জাননে? তিনি যুবরাজ সিং। ন্যাটওয়েস্ট ফাইনাল জয়ের অন্যতম নায়ক। এই তথ্য এক সাক্ষাৎকারে নিজেই জানিয়েছেন যুবরাজ সিং। ইংল্যান্ডে ঠান্ডার কারণে জার্সির নীচে সাদা গেঞ্জি পড়েছিলে যুবরাজ। তাই তিনি জার্সি খুললেও তা কেউ লক্ষ্য করেননি। আর অধিনায়ক সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় জার্সি খুলে ফেলায় অন্য কারও দিকে নজরও যায়নি মিডিয়ার।

আরও পড়ুনঃআমার বদলে বেশি রায়নাকে দলে চাইত ধোনি, বিস্ফোরক মন্তব্য যুবরাজ সিংয়ের

সেই ঐতিহাসিক ন্যাটওয়েস্ট ফাইনালের স্মৃতিচারণা করতে গিয়ে যুবরাজ জানিয়েছেন, 'ন্যাটওয়েস্ট ট্রফির আগে আমরা ৯-১০টা ফাইনাল হেরে গিয়েছিলাম। সে বার অনেকেই আমরা দলে নতুন ছিলাম। দাদার কাছ থেকে প্রচুর সাহায্যও পেয়েছিলাম। ইংল্যান্ড প্রথমে ব্যাট করে ৩২৫ রান করায় আমরা চাপে পড়ে গিয়েছিলাম। এই রান তাড়া করা ছিল খুবই কঠিন। সেই রান তাড়া করতে নেমে শুরুটা ভালই করেন সৌরভ ও বীরু। আমার বেশ মনে আছে, সচিন আউট হতেই ইংল্যাল্ডের ক্রিকেটাররা উৎসব পালন করতে শুরু করে দিয়েছিল। ম্যাচ হারছে ধরে নিয়ে স্টেডিয়াম ছেড়ে চলে গিয়েছিলেন ভারতের  অধিকাংশ সমর্থক। কাইফ ক্রিজে আসতেই ওকে বলি, চল শুরু করি। দু’উইকেটের মধ্যে আমরা বেশ ভালই দৌড়চ্ছিলাম। আমাদের মধ্যে বোঝাপড়াও বেশ ভাল ছিল। কারণ আমরা অনূর্ধ্ব ১৯ পর্বে একসঙ্গে খেলেছি। দু’জনেই বেশ ভাল খেলছিলাম। আমি অবশ্য একটু বেশি আক্রমণাত্মক ছিলাম। আমি আউট হওয়ার পরে কাইফ হাল ধরে। জীবনের সেরা ইনিংস খেলেছিল কাইফ। আমারও ইনিংসটাও কেরিয়ারের অন্যতম সেরা ছিল। সেই সময়ে আমি যদি একটু বুদ্ধির পরিচয় দিতাম, তা হলে হয়তো সেঞ্চুরিও করতে পারতাম।'

আরও পড়ুনঃটোকিও অলিম্পিকের যোগ্যতা অর্জন করলেন মিরাবাই চানু, জেরেমি লালরিনুঙ্গা

আরও পড়ুনঃলকডাউনে সক্রিয় বুকিরা,যোগাযোগ করা হচ্ছে ক্রিকেটারদের সঙ্গে,সতর্কবার্তা আইসিসির

ষষ্ঠ উইকেটে যুবরাজ ও মহম্মদ কাইফ ১২১ রান জোড়েন। ৬৩ বলে ৬৯ রানের ইনিংস খেলেছিলেন যুবরাজ সিং। ফাইনাল জয়ের পর সেলিব্রেশনের কথা বলতে গিয়েই যবুরাজ জানান,'আমিও সে দিন জার্সি খুলে ফেলেছিলাম। কিন্তু সেই শার্টের নীচে আরও একটা সাদা টি শার্ট পরেছিলাম। কারণ তখন ইংল্যান্ডে খুব ঠান্ডা ছিল। আমি যে জার্সি খুলে পেলেছিলাম, তা দেখতে পায়নি কেউই। যুবরাজকে কেউ লক্ষ্য না করায়, তাঁকে নিয়ে বেশি চর্চাও হয়নি'। নিজের ও কাইফের সেই ইনিংসকে কেরিয়ারের অন্যতম সেরা ইনিংস বলেও আখ্যা দিয়েছেন যুবরাজ সিং।