ম্যাচ গড়াপেটা বা ফিক্সিং নামক অভিশাপ বারবার কালিমালিপ্ত করেছে ২২ গজকে। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগ গড়াপেটার অভিযোগ থেকে বাদ যায়নি কোনও কিছুই। একটা সময় ক্রিকেটে গড়াপেটা হয়ে উঠেছিল সাধারণ বিষয়। কিন্তু বিগত কয়েক বছরে আইসিসির দুর্নীতি দমন শাখার সক্রিয়তার জেরে অনেকটা কমেছে ফিক্সিংয়ের এই কালো ছায়া। কিন্তু বর্তমানে করোনাভাইরাসের জেরে লকডাউনে খেলার মাঠ। বাইশ গজেও তালাচাবি।  লকডাউনের জন্য ঘরে বসেই সময় কাটছে ক্রিকেট তারকাদের। ফলে তাঁরা আগের তুলনায় অনেক বেশি সক্রিয় সোশ্যাল মিডিয়ায়। এটাকেই কাজে লাগিয়ে ফের সক্রিয় হয়ে উঠছে বুকিরা। আইসিসির সন্দেহ সোশ্যাল মিডিয়ায় ক্রিকেটারদের অত্যাধিক সময় কাটানোর বিষয়টাকেই হাতিয়ার বানিয়ে ক্রিকেটারদের সঙ্গে সুসম্পর্ক গড়ার চেষ্টা করছে বুকিরা। যাতে ভবিষ্যতে ক্রিকেটার এবং তাঁদের পরিবারের সদস্যদের ফিক্সিংয়ের প্রস্তাব দেওয়া যায়। যা কিনা চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে আইসিসির দুর্নীতিদমন শাখার।  ক্রিকেটারদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের দুর্নীতি-দমন শাখা।

আরও পড়ুনঃকরোনার থাবা ক্রিকেট বিশ্বে, দেউলিয়া হয়ে যেতে পারে একাধিক ক্রিকেট বোর্ড

আরও পড়ুনঃজুন থেকে দর্শকশূন্য মাঠে প্রিমিয়ার লিগ শুরু করার ভাবনা কর্তৃপক্ষের

র্নীতি-দমন শাখার প্রধান অ্যালেক্স মার্শাল বলেছেন, “আমরা দেখছি যে এই সময়কে কাজে লাগাতে যারা দুর্নীতির জগতে পরিচিত, তারা নেমে পড়েছে। এখনই সোশ্যাল মিডিয়ায় সবচেয়ে বেশি উপস্থিত থাকছেন ক্রিকেটাররা। এর ফলে তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগের মাধ্যমে সম্পর্ক গড়ে তুলে পরে কাজে লাগাতে চাইবে ওরা।” বিশ্ব জুড়ে ক্রিকেটীয় কার্যকলাপ বন্ধ থাকলেও ম্যাচ-গড়াপেটার প্রস্তাব নাও কমতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন মার্শাল। তাঁর মতে, “কোভিড-১৯ ছড়িয়ে পড়ার ফলে আন্তর্জাতিক ও ঘরোয়া ক্রিকেট বিশ্ব জুড়ে বন্ধ। কিন্তু দুর্নীতিবাজরা সক্রিয়ই রয়েছে। আমরা তাই সমস্ত সদস্য, ক্রিকেটার ও বৃহত্তর নেটওয়ার্ককে এই ব্যাপারে সতর্ক করেছি। সবাই যাতে এই ধরনের প্রস্তাবের বিপদ সম্পর্কে সচেতন থাকেন, তা নিশ্চিত করতে চাইছি।”আইসিসি বলছে, এ বিষয়ে সদস্য দেশগুলির সাথে ইতিমধ্যেই আলোচনা হয়েছে। ক্রিকেটারদেরও অনুরোধ করা হয়েছে সতর্ক থাকতে। এবং এই ধরনের অপচেষ্টা রুখে দিতে সবরকম চেষ্টা করা হচ্ছে। লকডাউনের জেরে ক্রিকেট বিশ্বে যে আর্থিক ধাক্কা আসতে চলেছে, তা ভালমতোই জানে আইসিসির দুর্নীতিদমন শাখা। তাই আধিকারিকদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, সসময় সতর্ক থাকতে। কোথাও কোনওরকম দুর্নীতি যাতে না হয়, তা নিশ্চিত করতে। 

আরও পড়ুনঃশোয়েব আখতার-এর কেরিয়ার বাঁচিয়েছিলেন এক প্রাক্তন বিসিসিআই কর্তা, জানুন নেপথ্য-কাহিনি