ঠিক ১০ বছর আগের ঘটনা। ২০০৯ সালের ১০ মার্চ। পাকিস্তান সফরে গিয়েছিল শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট দল। সেখানেই জয়বর্ধনেদের বাসের ওপর হামলা চালিয়েছিল সন্ত্রাসবাদীরা। বাস ড্রাইভারের উপস্থিত বুদ্ধির সৌজন্যে সেদিন প্রাণে বেঁচেছিলেন লঙ্কার ক্রিকেটাররা। হেলিকপ্টার করে সেদিন মাঠ ছাড়তে হয়েছিল সাঙ্গাকারাদের। ১০ বছর পার হয়ে গেলেও, সেই স্মৃতি এখনও টাকটা শ্রীলঙ্কার ক্রিকেটের মনে। ২০০৯ সালের পর ২০১৯ সালের আবার পাকিস্তানে ক্রিকেট খেলতে যাওয়ার কথা। পাক সফরের জন্য লঙ্কার বোর্ড দল ঘোষণা করার পরই শুরু হয়ে গেল সমস্যা। টি২০ ও একদিনের সিরিজের জন্য দল ঘোষণা হতেই পাকিস্তান যাবেন না বলে জানিয়ে দিয়েছেন শ্রীলঙ্কার দশ ক্রিকেটার। এই তালিকায় নাম রয়েছে একদিনের দলের অধিনায়াক দিমুথ করুনারত্নে, টি২০ দলের অধিনায়ক লাসিথ মালিঙ্গা, সিনিয়র ক্রিকেটার অ্যাঞ্জেলো ম্যাথিউসরা। এছাড়াও পাকিস্তানে যাবেন না বলে শ্রীলঙ্কা বোর্ড কে জানিয়ে দিয়েছেন, তিসারা পেরেরা, নিরোশান ডিকওয়েলা, কুশাল পেরেরা, ধনঞ্জয় ডি’সিলভা, অকিলা ধনঞ্জায়া, সুরাঙ্গা লাকমল ও দিনেশ চান্দিমাল। 

শ্রীলঙ্কার সিনিয়র ক্রিকেটাররা পাক সফর থেকে নাম প্রত্যাহার করতেই , চাপে পরে গেছে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড। এই বিষয়ে সরাসরি কোনও উক্তি এখনও তারা করেনি। কিন্তু সুত্রের খবর মালিঙ্গারা নাম তুলে নিতেই, পাক বোর্ডের কর্তাদের মাথায় আকাশ ভেঙে পরার মত অবস্থা। শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট বোর্ডের আভ্যন্তরীন বিষয় বলে এই প্রসঙ্গ এড়িয়ে যেতে চাইছেন তারা। কিন্তু মালিঙ্গারা পাকিস্তান না গেলে যে একদিকে যেমন সিরিজের আকর্ষণ কমবে, তেমনই ক্রিকেট বিশ্বে কিছুটা হলেও মুখ পুড়বে পাকিস্তানের। বারবার তাঁরা বোঝাতে চাইছেন ক্রিকেটারদের নিরাপত্তার সমস্তা ব্যবস্থা তারা করেছেন। কোনও ভাবেই আর ২০০৯এর স্মৃতি ফিরবে না। কিন্তু পাকিস্তানের এই আশ্বাসে মন গলছে না মালিঙ্গাদের। 

করুনারত্নেরা পাকিস্তান যেতে না চাইলেও শ্রীলঙ্কা বোর্ড ক্রিকেটারদের ওপর কোনও রকম চাপ তৈরি করতে চায় না। পাকিস্তানের প্রশাসনিক দিক থেকে  আশ্বাস আসার পরও শ্রীলঙ্কা বোর্ড ক্রিকেটারদের সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের অনুরোধ করেনি। বরং পাক সফরের জন্য মালিঙ্গাদের বিকল্প খোঁজার পথে লঙ্কা বোর্ড। 

২০০৯ সালে শ্রীলঙ্কা দলের ওপর হামলা হওয়ার পর পাকিস্তানে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট আর হয়নি বললেই চলে। বিশ্ব একাদশের একটি টি২০ ম্যাচ ছাড়া পাকিস্তান যাওয়ার বিষয়ে আগ্রহ দেখাননি অন্য দেশের ক্রিকেট বোর্ডের কর্তারা।  শ্রীলঙ্কা বোর্ড পাকিস্তানে তিনটি একদিনের ম্যাচ ও তিনটি টি২০ ম্যাচ খেলতে রাজি হলেও টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ম্যাচে পাকিস্তানের মাটিতে খেলতে রাজি হয়নি। সীমিত ওভারের ক্রিকেট পাকিস্তানের মাটিতে খেলার সময়ই ইমরানদের দেশের নিরাপত্তা ব্যবস্থা দেখে ডিসেম্বরে টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ নিয়ে সিদ্ধান্ত নেবে লঙ্কার বোর্ড। তবে ক্রিকেটাররা যে ভাবে নিজেদের কে পাক সফর থেকে সরিয়ে নিচ্ছেন তাতে  আদৌও পাকিস্তানের মাটিতে টেস্ট হওয়া সম্ভব কি না তা নিয়েউ উঠে গেল প্রশ্ন। ২৭ সেপ্টেম্বর করাচিতে প্রথম একদিনের ম্যাচ দুই দলের মধ্যে।