মঙ্গলবার সন্ধ্যায় খবরটা ছড়িয়ে পড়তেই হইচই পড়ে গিয়েছে ভারতীয় ক্রিকেট মহলে। বিসিসিআই-এর ডোপিং নীতি লঙ্ঘনের অপরাধে পৃথ্বী শ-কে আট মাসের জন্য সবরকম প্রতিযোগিতামূলক ক্রিকেট থেকে নির্বাসিত করা হয়েছে। দেশের পরবর্তী ব্যাটিং সুপারস্টার হিসেবে ইতিমধ্যেই চিহ্নিত তিনি। ভারতীয় ক্রিকেটের কাছে এটা অত্যন্ত বড় একটা ধাক্কা। তবে পৃথ্বী কিন্তু একেবারে জাত মুম্বইকরের মতোই 'খারুস'। ভুলটা মেনে নিয়ে ঘুরে দাঁড়াতে চোয়াল শক্ত করছেন তিনি।  

নির্বাসনের খবর পাওয়ার পর তাঁর করা টুইটেই তার ইঙ্গিত মিলেছে। পৃথ্বী লিখেছেন, ঘটনাটা তাঁকে ভিতর থেকে নাড়িয়ে দিয়েছে। কিন্তু নিয়তি বলে মেনে নিয়েছেন তিনি ইতিবাচক দিক খুঁজে নিয়েছেন। আশা করেছেন, তাঁর ভুল থেকে দেশের সমস্ত উঠতি খেলোয়াড়রা শিক্ষা নেবেন। ওষুধ খাওয়ার বিষয়ে এবার থেকে আরও বেশি সতর্ক হবেন। একইসঙ্গে তাঁর প্রতিজ্ঞা তিনি দ্রুত আরও ভাল ক্রিকেটার হয়ে ফিরবেন ময়দানে। কারণ ক্রিকেটই হল তাঁর জীবন। ভারতীয় দলের হয়ে খেলাটাই তাঁর সবচেয়ে গর্বের। সেই স্বপ্ন থেকে সরছেন না তিনি। 

ভারতীয় ক্রিকেটের ইতিহাসে সচিনের পর দ্বিতীয় কনিষ্ঠতম ব্যাটসম্যান হিসেবে টেস্ট অভিষেকে শতরান করেছিলেন পৃথ্বী। এখনও পর্যন্ত দুটি টেস্টে একটি শতরান এবং একটি অর্ধশতরান-সহ ২৩৭ রান রয়েছে তাঁর ঝুলিতে। কিন্তু তারপরই অস্ট্রেলিয়া সফরের ওয়ার্ম-আপ ম্যাচে পা পিছলে পড়ে কোমরের পেশিতে চোট লেগেছিল তাঁর। ফলে সফরের মাঝপথেই দেশে ফিরতে হয়। তারপর থেকে খারাপ সময় যেন পিছুই ছাড়ছে না তাঁর। 

ইন্দোরে সৈয়দ মুস্তাক আলি ট্রফি চলাকালীন গত ২২ ফেব্রুয়ারি ডোপিং টেস্টের জন্য পৃথ্বীর মূত্রের নমুনা নিয়েছিল বিসিসিআই। তাতে নিষিদ্ধ যৌগ 'টেরবুটালিন' পাওয়া গিয়েছে। এর জেরেই আট মাসের জন্য নির্বাসিত হয়েছেন।