ব্যাট হাতে দীর্ঘ বছর ভারতীয় দলের ওপেনিং দায়িত্ব সামলেছেন সচিন তেন্ডুলকর ও সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়। ২২ গজে তাদের ওপেনিং জুটি শুধু ভারতীয় ক্রিকেটে নয়, বিশ্ব ক্রিকেটের অন্যতম সেরা জুটি। ওপেনার হিসেবে ১৭৬ ইনিংসে দুজনের সংগ্রহ ৮ হাজার ২২৭ রান। যা এখনও পর্যন্ত বিশ্ব ক্রিকেটে সর্বোচ্চ। শুধু মাঠেই নয় মাঠের বাইরেও তাদের পার্টনারশিপ বা বন্ধুত্ব নতুন নয়। অনুর্ধ্ব-১৪ বয়সভিত্তিক ক্রিকেট থেকেই একসঙ্গে পথ চলা শুরু দুই কিংবদন্তির। ব্যক্তিগত জীবনেও দুজনে অন্তরঙ্গ বন্ধু। মাঠে ও মাঠের বাইরে বারবার মিলেছে সেই বন্ধুত্বের পরিচয়। কিন্তু  এহেন সচিন তেন্ডুলকরই একবার রেগে গিয়ে সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়কে কেরিয়ার শেষ করে দেওয়ার হুমকি দিয়েছিলেন। কী শুনে অবকা হলেন। হ্যা, এমনই এক ঘটনার কথা সোশ্যাল সাইটে সিক্ষাৎকার দেওয়ার সময় জানালেন সাংবাদিক বিক্রান্ত গুপ্তা।

আরও পড়ুনঃসচিনকে আউট করে লাগাতার খুনের হুমকি পেয়েছিলেন এই বোলার

ব্যাটসম্যান সচিন তেন্ডুলকরকে ক্রিকেট বিশ্ব ভগবানের আসনে বসিয়েছেন। কিন্তু প্রাক্তন ভারত অধিনায়ক হিসেবে সচিনের পারফরমেন্সের মাপকাঠি খুব একটা আহামরি  নয়।  তাঁর অধিনায়কত্বে দুই ফরম্যাটে মোট ৯৮টি ম্যাচ খেলেছিল ভারত। যার মধ্যে হার ৫২টিতে এবং মাত্র ২৭টি ম্যাচে জয় এসেছিল। কিন্তু সচিনের অধিনায়কত্বে ১৯৯৭ সালে একবার বেজায় চটে গিয়েছিলেন মাস্টার ব্লাস্টার। সেবছর ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে একটি টেস্ট ম্যাচে দ্বিতীয় ইনিংসে ভারতের জয়ের জন্য দরকার ছিল ১৪১ রান। তৃতীয় দিনের শেষে ভারতীয় দলের স্কোর ছিল বিনা উইকেটে দুই রান। হাতে দুই দিন সময় একইসঙ্গে রয়েছে ১০ উইকেট। রান বাকি আর মাত্র ১৩৯। তাই জয় একপ্রকার নিশ্চিত ধরেই নিয়েছিলেন তৎকালীন ভারত অধিনায়ক সচিন। সেলিব্রেশনের জন্য দিয়েছিলেন স্যাম্পেনের অর্ডারও। কিন্তু ম্যাচের চতুর্থ দিনে অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাস ডুবিয়েছিল ভারতকে। কার্টলে অ্যামব্রোজ ও ইয়ান বিশপদের বোলিংয়ের কাছে ধরাশায়ী হয় ভারতীয় ব্যাটিং। ১৪০ তাড়া করতে নেমে ৮১ রানে অলআউট হয়ে যান ভারতীয় ব্যাটসম্যানরা। অধিনায়ক সচিন করেন ৪ রান। সৌরভ, দ্রাবিড়, লক্ষ্মণ যথাক্রমে ৮,২,১৯ রান করেন।

আরও পড়ুনঃবিসিসিআইয়ের পাশে মাইকেল হোল্ডিং,বিশ্বকাপ না হলে আইপিএল করার পক্ষে সওয়াল

আরও পড়ুনঃবল পালিশে থুতুর ব্যবহার বন্ধে বোলারদের খুব সমস্যা হবে না, মন্তব্য হোল্ডিংয়ের

সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং সাইটে সাংবাদিক বিক্রান্ত গুপ্তা জানান,ম্যাচ হারের ফলে প্রচন্ড ভেঙে পড়েছিলেন সচিন। দলের উপর চটেও গিয়েছিলেন। ড্রেসিংরুমে নিজের রাগ চেপে রাখেননি লিটল মাস্টার। ক্ষোভ উগরে দেন তিনি। প্রশ্ন তোলেন নিজের অধিনায়কত্ব নিয়েও। সেই সময় দলের নতুন সদস্য সৌরভ সচিনের পাশে দাঁড়ানোর ও তাকে বোঝানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু সচিন এতটাই ক্ষুব্ধ ছিলেন যে পরের দিন প্র্যাকটিসের জন্য সৌরভকে তৈরি থাকতে বলেন।পরের দিনের ঘটনা বলতে গিয়ে বিক্রান্ত গুপ্তা বলেন,'কিন্তু পরের দিন সৌরভ ট্রেনিংয়ে উপস্থিত না থাকায় ফের চটে যান সচিন। সৌরভকে সোজা হুমকি দিয়ে বাড়ি পাঠিয়ে দেওয়ার কথা বলেন। এতে যে সৌরভের কেরিয়ার শেষ হয়ে যাবে, তাও মনে করিয়ে দেন সচিন।'যদিও পরবর্তী সময়ে সৌরভ-সচিন কাচাকাছি আসেন ও তাদের সম্পর্ক সুদৃঢ় হয় বলেও জানিয়েছেন বিক্রান্ত গুপ্তা। আর তারপর একসঙ্গে ওপেন করা, বছরের পর বছর একসঙ্গে খেলা, একের পর এক রেকর্ড সৃষ্টি করা থেকে শুরু করে বর্তমানে ক্রিকেটকে বিদায় জানানোর পরও সৌরভ-সচিন বন্ধু্ত্ব য়ে কতটা নিবিড় তা আমাদের সকলেরই জানা।