ক্রিকেটার কেরিয়ারে কতবার তিনি বেনিফিট অব ডাউটে পেয়েছেন সেটা গুনে বলতে হবে, তবে প্রশাসক সৌরভকে বেনিফিট অব ডাউটের ভিত্তিতে ছাড় দিলেন ভারতীয় ক্রিকেট কন্ট্রোল বোর্ডের এথিক্স অফিসার ডিকে জৈন। সৌরভ ক্রিকেট অ্যাসেশিয়েসন অব বেঙ্গলের সভাপতি, একই সঙ্গে তিনি ছিলেন ভারতীয় বোর্ডের, ক্রিকেট অ্যাডভাইজারি কটিমির সদস্য। পাশাপাশি গত আইপিএলে দিল্লি ক্যাপিটালস ফ্রাঞ্চাইজির মেন্টরও ছিলেন মহারাজ। এখজন ব্যক্তি একসঙ্গে এতগুলি পদে কিভাবে থাকতে পারেন? এটাই ছিল প্রশ্ন। তাই সৌরভের বিরুদ্ধে উঠেছেল স্বার্থের সংঘাতের প্রশ্ন। কিন্তু মহারাজের বিরুদ্ধে কনফ্লিক্ট অব ইন্টারেস্টের প্রশ্ন উঠতেই সৌরভ ক্রিকেট অ্যাডভাইজারি কমিটির পদ ছেড়ে দেন। পাশাপাশি আইপিএল শেষ হওয়ার পর তাঁর সঙ্গে দিল্লি ক্যাপিটালসের সম্পর্কও শেষ হয়ে যায়। তাই বর্তমানে সৌরভ শুধুই সিএবির সভাপতি। তাই এথিক্স অফিসার ডিকে জৈন সৌরভকে বেনিফিট অব ডাউট দিয়েছেন। একই সঙ্গে বোর্ডকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, তারা যেন দেখেন সৌরভ আগামী দিনে একই সময়ে একাধিক পদে না বসতে পারেন। 
বিগত কয়েক মাস ধরেই ভারতীয় ক্রিকেটে এই কনফ্লিক্ট অব ইন্টারেস্ট বা স্বার্তের সংঘাতের প্রশ্ন উঠে আসছে। সৌরভে, সচিন, লক্ষণ, দ্রাবিড় সবাই এই নতুন ট্রেন্ডের শিকার। কনফ্লিক্ট অব ইনিটারেস্টের জন্য এথিক্স কমিটি থেকে সরে গিয়েছেন সচিন, লক্ষণরা। তবে দ্রাবিড়ের বিরুদ্ধেও যখন এই প্রশ্ন ওঠে, তখন মুখ খোলেন সৌরভ। কলফ্লিক অব ইন্টারেস্টের আওয়াজ তোলাকে প্রচারে থাকার কৌশল বলে, টুইটে কটাক্ষ করেন মহারাজ, একই সঙ্গে বলেন ভগবানই ভারতীয় ক্রিকেটের মঙ্গল করুন। 

এথিক্স অফিসারের এই নির্দেশের পর আগামী মরসুমে আইপিএলে আর সৌরভকে দেখার সম্ভাবনা নেই বললেই চলে। কারণ বর্তমানে সৌরভ সিএবি সভাপতি আছেন। আসছে মহলায়ার দিন বাংলা ক্রিকেটের মসদন দখলের লড়াই হবে। ভোট হবে নাকি, সৌরভের প্রতিপক্ষ হিসেবে কেউ উঠে আসবেন সেটাও এখনও পরিস্কার নয়। কিন্তু সৌরভের উল্টোদিকে কেউ দাঁড়ালে তার পক্ষে নির্বাচন জেতা কার্যত অসম্ভব বলেই মনে করছে বঙ্গ ক্রিকেট। তাই সৌরভের সভাপতির পদ পাকা। তাই মহারাজের পক্ষে আর আইপিএল কোনও দলের সঙ্গে যুক্ত হওয়া সম্ভাব নয়। তাই বর্তমানে বাংলার ক্রিকেট প্রসাশক ছাড়া আরও মহারাজের কোনও ভূমিকা থাকছে না ক্রিকেটে।  

এদিকে ভারতীয় ক্রিকেট কন্ট্রোল বোর্ডের প্রসাশক প্রধান বিনোদ রাই আশাবাদী ২০ অক্টোবরই ভারতীয় ক্রিকেট কন্ট্রোল বোর্ডের নির্বাচন হবে। রাই জানিয়েছেন  বোর্ডের অধিনস্থ ৩০টি রাজ্য সংস্থা তৈরি নির্বাচন প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে। যাদের ক্ষেত্রে এখওন কিছু সমস্যা আছে তাদের সমস্যাও খুব দ্রুত সমাধান হবে বলেই মনে করেন বিনোদ রাই।