জন্মদিনের দিনটা পরিবারের সঙ্গেই এবছর কাটিয়েছেন। করোনা ভাইরাসের কারণে খুব একটা সাড়ম্বর করেননি। কোনও দিনই জন্মদিন এলাহিবাবে পালন করেন না সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়। তারপর ভক্তদের শুভেচ্ছা ও ভালবাসায় দিনটা ভালই কাটিয়েছেন বাংলার দাদা। কিন্তু জন্মদিনের দিনও সুশান্ত সিং  রাজপুতকে ভুলতে পারলেন না সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়। সুশান্তের মৃত্যুর আফশোসও শোনা গেল বিসিসিআই প্রেসিডেন্টের গলায়। সুশান্তের মৃত্যুর ঘোর এখনও তিনি কাটিয়ে উঠতে পারেননি বলেও এক বাংলা দৈনিককে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়। বাংলা দৈনিককে আক্ষেপের সুরে সৌরভ জানান,'কীসের এত তাড়া ছিল তোমার, নিজে কেন ফিল্ম প্রোডিউস করলে না? এই লড়াইয়ের তো একটা উত্তেজনা আছে। একটা মজা আছে। ভাই সেটা বুঝলে না তুমি।'

আরও পড়ুনঃ২০২১ এ রাজ্যে বিজেপির মুখ কি সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়, ডোনার বক্তব্য উস্কে দিল সেই জল্পনা

প্রাক্তন ভারত অধিনায়ক সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় যে তার রোল মডেল ছিলেন,সেই কথা জানিয়েছিলেন সুশান্ত। সৌরভের বায়োপিকেও অভিনয় করার ইচ্ছে ছিল সুশান্তের। তা নিয়ে কথা বলতে বছর দুয়েক আগে একবার কলকাতায় সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের সঙ্গে দেখাও করেছিলেন সুশান্ত।সুশান্ত যেদিন কলকাতায় এসিছিলেন সেদিন সৌরভ কলকাতার লাহা বাড়িতে শুটিংয়ের কাজে ব্যস্ত ছিলেন। সেই সাক্ষাতের স্মৃতিচারণা করতে গিয়ে সৌরভ বলেন, যেদিন দেখা হয়েছিল  কী প্রাণোচ্ছল ছিল। সেই ছেলেই কীভাবে এমন চরম সিদ্ধান্ত নিল? সুশান্তের ঘটনায় আমি একেবারে হতভম্ব! আজও ঘোর কাটেনি। এটা কী করল? কেন করল? 

আরও পড়ুনঃসৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের জন্মদিনে ফিরে দেখা ২২ গজে তার 'দাদাগিরি'

আরও পড়ুনঃবর্তমানে বিশ্বের সব থেকে 'সেক্সিয়েস্ট অ্যাথলিট', জানুন আলিশা স্মিডের কাহিনি

জন্মদিনের দিন সুশান্ত সিং রাজপুতের মৃত্যু নিয়ে বলতে গিয়ে সৌরভের সাক্ষাৎকার নেওয়া বাংলা দৈনিককে জানান,সেই শকিং রবিবার দুপুরে শোনার পর থেকে আমি ভেবে পাচ্ছি না কেন করল? একবারও বাবার কথা ভাবল না? একবারও ভাবল না জীবনে কত সময় পড়ে আছে? এটা তো আমাদের স্পোর্টস লাইন না যে দু’-একবছর ক্ষতি মানেই অনেক ক্ষতি! এখানে বেশি বয়েসেও দিব‌্যি কাজ করা যায়। সত্তোরোর্দ্ধ মিস্টার বচ্চন নইলে কী করে আজও ‘বস’ থাকেন?” সুশান্ত তার কাছে পরামর্শ চাইলে তিনি কী বলতেন তাও জানিয়েছেন সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়। মহারাজ বলেন, আমি ওকে বলতাম,গুলি করছে তো তোমায়? গুলিটা খাও। খেয়ে ট্রেনিংয়ে যাও। আরও রগড়াও নিজেকে আরও বড় অ‌্যাক্টর করার জ‌ন‌্য। লড়াই বাড়াও। একটা হিট দাও। দেখবে দুনিয়া বদলে গিয়েছে। সব আবার পায়ে এসে পড়ছে। কেন ছেড়ে দেবে লড়াই এত তাড়াতাড়ি? তুমি তো একা এই সমস্যার সম্মুখীন হওনি, যুগ যুগ ধরে আরও অনেকেই ফেস করেছে। এই লড়াইয়ের তো একটা উত্তেজনাও আছে। একটা মজাও আছে। ভাই সেটা বুঝলে না তুমি?” ফলে জন্মদিন, বিসিসিআইয়ের কাজ, ব্যক্তিগত কাজের শত ব্যস্ততার মধ্যেও সুশান্ত সিং রাজপুতের মৃত্যু যে তাকে এখনও নাড়িয়ে দিয়ে যায়, সেই ব্যাথায় বোঝা গেল জন্মদিনের দিন সুশান্ত কে নিয়ে বলা প্রতিটা কথায়।