অন্যান্য সকল খেলার মতোই ক্রিকেটও, করোনা সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার পর থেকে বন্ধ রাখা হয়েছিল। কিছু খেলা এর মধ্যে ফিরতে শুরু করলেও ক্রিকেট করে ফিরবে তার এখনো কিছু ঠিক নেই। এখনও অবধি বিরাট কোহলিদের পরবর্তী সফর সম্পর্কে কোনওরকম আপডেট পাওয়া যায়নি। এই অবস্থায় ভারতীয় দলের পুরোনো অসাধারণ পারফরম্যান্সগুলির স্মৃতি রোমন্থন ছাড়া অন্য কোনও উপায় নেই। এইরকমই একটা বড়ো স্মৃতি উপস্থাপন করা জল লেখার পরবর্তী অংশে। 

আরও পড়ুনঃকীভাবে ভারতীয় দলের অধিনায়ক হয়েছিলেন সৌরভ,দু-দশক পর রহস্য ফাঁস

২০০৭ সাল থেকে ২০১৩ সাল,ভারতীয় ক্রিকেট এর ইতিহাসের স্বর্ণযুগ নাকি আইসিসি র ট্রফি জয় এর দিক থেকে সোনার যুগ, তা নিয়ে মতবিরোধ থেকে যাবে চিরকাল। ২০০৭ সালে ক্রিকেটের সংক্ষিপ্ততম ফরম্যাটে বিশ্বকাপ জয়। ২০১১ তে দেশের মাঠে একদিনের ক্রিকেটে বিশ্বকাপ জয়। ২০১৩ তে বিদেশের মাটিতে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি জয় এবং তা ঘটেছিল আজকের তারিখেই। বৃষ্টিবিঘ্নিত বার্মিংহামে টসে জিতে প্রথমে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেয় ভারত। বৃষ্টির জন্য ম্যাচের ওভার সংখ্যা কমে দাঁড়ায় এক ইনিংসে ২০। প্রথমে ব্যাট করে একের পর এক উইকেট হারিয়ে চাপে পরে যায় ভারত। গোটা টুর্নামেন্টে দুর্দান্ত ফর্মে থাকা ওপেনাররা তাড়াতাড়ি ফিরে গিয়েছেন। অধিনায়ক ধোনি ফিরেছেন ০ করে। শেষে কোহলি এবং বিশেষত জাডেজা-র ব্যাটে ভর করে নির্দিষ্ট ২০ ওভারে ৭ উইকেট হারিয়ে ১২৯ রান তুলতে সক্ষম হয় ভারতীয় দল।

আরও পড়ুনঃআইপিএলে অধিনায়ক হিসেবে রোহিত শর্মার সাফল্যের রহস্য জানালেন জয়াবর্ধনে

আপাত দৃষ্টিতে ২০ ওভার এ এই লক্ষ্য সহজ মনে হলেও, কোনো ফাইনাল ম্যাচে স্নায়ুর চাপ সামলে বোলিং বান্ধব পরিবেশে এই রান তোলা যথেষ্টই চ্যালেঞ্জিং ছিল। লক্ষ্য পূরণ এর লক্ষে ব্যাট করতে নেমে চাপ এর মুখে ভেঙে পড়ে ইংল্যান্ডের টপ-অর্ডার। ৪ উইকেট হারানোর পর ইংল্যান্ডের ইনিংসের হাল ধরেন অধিনায়ক ইয়ন মর্গান এবং রবি বোপারার জুটি। তাদের দুর্দান্ত এবং পরিণত ব্যাটিংয়ে ভর করে কাপ জয়ের দিকে ক্রমশ এগিয়ে চলেছিল ব্রিটিশরা। 

আরও পড়ুনঃবিসিসিআইয়ের আগেই বাংলার ক্রিকেটারদের পুরষ্কার মূল্য মিটিয়ে দিল সিএবি

এই সময় একটি ফাটকা খেলেন ভারতীয় অধিনায়ক মহেন্দ্র সিং ধোনি। অফ-ফর্মে চলতে থাকা পেসার ইশান্ত শর্মাকে ডেকে তার হাতে বল তুলে দেন। ম্যাচ এর মোর ঘোরানো ওভার এর নায়ক ঈশান্ত শর্মা একই ওভার এ দুজন সেট ব্যাটসম্যানের উইকেট তুলে নেন। প্রথমে স্লোয়ারে পরাস্ত হন ইয়ন মর্গ্যান। বলের পেস না বুঝে ব্যাট চালিয়ে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন। ওই একই ওভারে একটি শর্ট বলকে পুল করতে গিয়ে সোজা ফিল্ডারের হাতে তুলে দেন বোপারা। অবশেষে, ৫ রানে আয়োজক দেশ ইংল্যান্ড কে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি-র খেতাব ঘরে তোলে ভারত। অল-রাউন্ড পারফরম্যান্স করে ফাইনালে ম্যাচের সেরা হন জাদেজা। গোটা প্রতিযোগিতায় ধারাবাহিক ভাবে ভালো ব্যাটিং করে সিরিজের সেরা হন ধাওয়ান। বিশ্বের প্ৰথম অধিনায়ক হিসেবে আইসিসি আয়োজিত প্রত্যেকটি ট্রফি জেতার রেকর্ড গড়েন ভারতের ইতিহাসে সবথেকে সফল অধিনায়ক মহেন্দ্র সিং ধোনি।