সম্প্রতি গড়াপেটার অভিযোগে সব ধরনের ক্রিকেট থেকে তিন বছরের জন্য নির্বাসিত করা হয়েছে পাকিস্তানের উইকেটরক্ষক ব্যাটসম্যান উমর আকমলকে। আকমলের বিরুদ্ধে অভিযোগ,পাকিস্তান সুপার লিগে ম্যাচ ফিক্সিংয়ের প্রস্তাব পেয়েছিলেন তিনি। দুটি ডেলিভারির জন্য তাঁকে দু’লক্ষ ডলারের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। সেই সঙ্গে ভারতের বিরুদ্ধে না খেলার জন্য মোটা অঙ্কের অর্থেরও প্রস্তাব পেয়েছিলেন উমর। কিন্তু দুটি প্রস্তাবই বোর্ডের কাছ থেকে গোপন করে যান তিনি। বিষয়টি জানাজানি হতেই বযবস্থা নেয় পিসিবি। পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড মামলাটি শৃঙ্খলারক্ষা কমিটির কাছে পাঠায়। পিসিবির দুর্নীতিদমন আইনের আর্টিক্যাল ২.৪.৪ অমান্য করার অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হন উমর আকমল। অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি ফজল-ই-মিরান চৌহানের নেতৃত্বাধীন শৃঙ্খলারক্ষা কমিটি পাক তারকাকে তিন বছরের জন্য নির্বাসিত করার কথা ঘোষণা করেন। যদিও পাক বোর্ডের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আইনি পথে হাঁটার কথাও বলেছিলেন উমর আকমল। 

আরও পড়ুনঃমাদার্স ডে-তে সোশ্যাল মিডিয়ায় শুভেচ্ছা ও ভালবাসা জানালেন ভারতীয় ক্রিকেটাররা

আরও পড়ুনঃকরোনা ভাইরাসের জের, চরম অনিশ্চয়তার মুখে ঐতিহ্যশালী কলকাতা ফুটবল লিগ

এবার উমর আকমলের বিরুদ্ধে গড়াপেটার অভিযোগ নয়া মোড় নিল। বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, উমর আকমল শৃঙ্খলা রক্ষাকারী প্যানেলের কাছে সন্দেহভাজন বুকির সাথে তাঁর দুটি বৈঠকের বিবরণ প্রকাশ করতে অস্বীকার করেছেন। বৈঠকের বিষয়ে কোনও কিছুই তিনি জানাবেন বলে জানিয়েছেন। সূ্ত্রের খবর, আকমলের লাহোরের ডিফেন্স হাউজিং সোসাইটিতে দুজন অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তির সাথে বৈঠক হয়েছিল। পাকিস্তানের ক্রিকেট বোর্ডের একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে, "উমর দাবি করেছেন যে এই দুজন ভদ্রলোক ডিএইচএ-তে বন্ধুবান্ধবদের পার্টিতে তাঁর সাথে দেখা করেছিলেন। তবে দুর্নীতি দমন কর্মকর্তাদের এই সভাগুলিতে কী আলোচনা হয়েছিল তা জানাতে তিনি অস্বীকার করেছেন।"সূত্রটি জানিয়েছে, "এমনকি দুর্নীতি দমন কর্মকর্তারা যখন ১৯ ও ২০ শে ফেব্রুয়ারির মধ্যে করাচিতে তাদের রিপোর্টটি  প্রথম আকমলের কাছে উপস্থাপন করেছিলেন, তখন আকমল স্বীকার করেছেন যে তিনি সভাগুলিতে তাদের রিপোর্ট না করে ভুল করেছিলেন, তবে কোনও বিবরণ দেওয়া থেকে বিরত ছিলেন।" আকমলের এহেন ভূমিকার পরই নয়া মাত্রা পেয়েছে এই মামলা। কেনও তদন্তকারীদের সঙ্গে সহযোগিতা করতে অস্বীকার করছেন উমর আকমল  তানিয়ে উঠছে প্রশ্ন। বিষয়টি খতিয়ে দেখছে পাকিস্তা ক্রিকেট বোর্ডের দুর্নীতি দমন শাখা।

আরও পড়ুনঃবোর্ড নির্বাচকদের একযোগে আক্রমণ করলেন সুরেশ রায়না ও ইরফান পাঠান