নিজের কেরিয়ারে বিধ্বংসী ব্যাটসম্যান হিসেবেই পরিচিত ছিলেন বীরেন্দ্র সেওয়াগ। ক্রিকেটের ব্যাকারণের বাইরে গিয়ে শুধু মাত্র হাত আর চোখের সমন্বয়ে যে কোনও বলকে বাউন্ডারি পার করানোর ক্ষমতা ছিল সেওয়াগের। তার ঝোড়ো ব্যাটিংয়ের তাণ্ডবে নষ্ট হয়ে গিয়েছে অনেক বোলারের কেরিয়ার। যেদিন সেওয়াগ খেলবেন সেদিন বিশ্বের তাবড় তাবড় বোলারদের একটাই কথা ছিল ‘ছেড়ে দে মা কেঁদে বাঁচি।’ এহেন বিধ্বংসী ব্যাটসম্যানের ব্যাটিং গুরু কে? কাকে অনুসরণ করে ব্যাট করতেন বীরু? তা জানার ইচ্ছে অনেক দিন ধরেই ছিল সকলের। আপানারা ভাবছেন নিশ্চই ভিভ রিচার্ডস, সুনীল গাভাসকর বা সচিন তেন্ডুলকরের মধ্যেই কেউ হবেন সেওয়াগের ব্যাটিং গুরু। কিন্তু না । ব্যাটিং গুরু হিসেবে যাকে মানেন নজবগড়ের নবাব, তা শুনে চমকে উঠল সকলে। টেস্ট ক্রিকেটে জোড়া ট্রিপল সেঞ্চুরির মালিক বললেন তার ব্যাটিং গুরুর নাম রাামায়ণের সুগ্রীব পুত্র অঙ্গদ।

আরও পড়ুনঃলকডাউনে তলোয়ার নিয়ে যুদ্ধের মেজাজে রবীন্দ্র জাদেজা, ভাইরাল ভিডিও

আরও পড়ুনঃবাড়ির ছাদকেই ক্রিকেট অ্যাকাডেমি বানালেন নভদীপ সাইনি, লকডাউনে সেখানেই চলছে অনুশীলন ও জিম

নিজের সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং সাইটে অঙ্গদের ছবি দিয়ে সেওয়াগ লেখেন, ইনিই নাকি ব্যাট করার সময় তাঁর মনোবল বাড়িয়ে দেন। তাঁর ব্যাটিংয়ের গুরু সুগ্রীবপুত্র অঙ্গদ। শেহওয়াগের এই টুইটে নেটদুনিয়ায় হাসাহাসি শুরু হয়ে গিয়েছে। কিন্তু রাম-লক্ষ্মণ বা হনুমানের মতো মুখ্য চরিত্রের বদলে অঙ্গদ কেন? সেওয়াগ জানিয়েছেন,রামায়ণে  রামচন্দ্রের দূত হয়ে রাবনের দরবারে গিয়েছিলেন বীর অঙ্গদ। রাবনের দরবারের বড় বড় বীরও তাঁর পা একচুলও নড়াতে পারেনি। দীর্ঘদিন বাদে টেলিভিশনে ফিরেছে রামায়ণ ধারাবাহিক। ধারাবাহিকের সেই দৃশ্যটি টুইট করে বীরু বলছেন তিনিও অঙ্গদের ‘পা না নড়ানো’ থেকে শিক্ষা নিয়েছেন। আসলে বিধ্বংসী ব্যাটসম্যান হলেও শেহওয়াগের পা কোনদিনই সেভাবে চলত না। স্রেফ হাত আর চোখের চমৎকার সমন্বয়েই বিশ্বজয় করেছেন তিনি। তাই নিজেই রসিকতা করে বলছেন, “আমার ব্যটিংয়ের গুরু অঙ্গদজি। কিছুতেই পা নড়বে না।” 

 

 

আরও পড়ুনঃদীপিকার সঙ্গে তাঁর প্রেম টিকলো না কেন, নিজেই খোলসা করলেন যুবরাজ

বরাবরই মজা করতে ভালবাসেন বীরেন্দ্র সেওয়াগ। তার এই ট্যুইটও সেই মজারই অঙ্গ। প্রকারন্তরে নিজেকে নিয়েই মজা করেছেন বীরু। কারণ নিজে কেরিয়ারে অনেক কোচই ক্রিকেটের ব্যাকারণ মেনে পা-এর কাজ করে  ব্যাট করতে বলেছিলেন সেওয়াগকে। অনেকেই মনে করেন সেওয়াগের পা একটু ঠিক ঠাক কাজ করলে কেরিয়ার আরও দীর্ঘ হতে পারত। কিন্তু কারও কথাই কোনও দিন সেভাবে শোনেনি বীরু। নিজের স্টাইলে, নিজের তৈরি ব্যাকারণ মেনেই ব্যাট করে গিয়েছেন সেওয়াগ। তাই তো ট্যুইটে লিখেছেন, “কিছুতেই পা নড়বে না।”