এই মাঠেই ২৮ বছর পর দ্বিতীয় বারের জন্য বিশ্বজয়ের স্বাদ পেয়েছিল ভারতীয় ক্রিকেট দল। এই মাঠেই কুলাসেকারাকে ধোনির শেষ মারা ছয়টা আজও চোখে ভাসে ১৩০ কোটি দেশবাসীর। এই মাঠেই বিশ্ব জয়ের আনন্দে কাঁদতে দেখা গিয়েছিল হরভজন সিং, যুবরাজ সিংদের। এই মাঠেই কেরিয়ারের স্বপ্ন পূরণ করে বিশ্ব জয়ের স্বাদ পেয়েছিলেন মাস্টার ব্লাস্টার সচিন তেন্ডুলকর। এই মাঠেই ম্যাচ শেষে সতীর্থদের কাধে চেপে প্রদক্ষিণ করেছিলেন ক্রিকেটর ঈশ্বর। এই মাঠেই ধোনির হাতে উঠেছিল ২০১১ বিশ্বকাপের ট্রফি।  সেইদিন ইতিহাসের পাতায় নাম লিখিয়েছিল মুম্বাইয়ের ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়াম। মাঝে ব্যবধান মাত্র ৯ বছরের। সেই ওয়ামখেড়ে স্টেডিয়াম হতে চলেছে করোনা আক্রান্তদের জন্য কোয়ারেন্টাইন সেন্টার। 

আরও পড়ুনঃলকডাউনে বাড়িতেই ট্রেনিং শুরুর সিদ্ধান্ত কোহলির

দেশের সবকটি রাজ্যের মধ্যে করোনা আক্রান্তের সংখ্যার বিচারে বিচারে সবথেকে এগিয়ে মহারাষ্ট্র। যতদিন এগোচছে ততই শোচনীয় হচ্ছে পরিস্থিতি। মহারাষ্ট্রে লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে আক্রান্তের সংখ্যা। পাল্লা দিয়ে বাড়ছে মৃতের সংখ্যা। পরিস্থিতি সামাল দিতে কার্যত হিমসিম খেতে হচ্ছে প্রশাসনকে। বাড়তে থাকা করোনার প্রকোপ সামলাতে প্রয়োজন নিভৃতবাস। কিন্তু সেই স্থানও কমে আসছে ক্রমশ। তাই মহারাষ্ট্র ক্রিকেট সংস্থাকে চিঠি দিয়ে ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামকে কোয়ারেন্টাইন সেন্টারের জন্য ছেড়ে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশন। এমসিএ-কে চিঠি দিয়ে মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশনের নির্দেশ,'ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামকে কোয়ারেন্টাইন সেন্টারে পরিণত করার নির্দেশ দিয়েছে রাজ্য সরকার। তাই অনুরোধ করা হচ্ছে, ওয়াংখেড়ের ক্যাম্পাসে যে সমস্ত হোটেল, লজ, ক্লাব, এগজ়িবিশন সেন্টার, ক্লাব, ডর্মিটরি ইত্যাদি রয়েছে, তা তুলে দেওয়া হোক রাজ্য সরকারের হাতে।'

আরও পড়ুনঃ'ভবিষ্যতে আইসিসিকে নেতৃত্ব দেওয়ার যোগ্যতা রয়েছে সৌরভের',মন্তব্য ডেভিড গাওয়ারের

আরও পড়ুনঃআইপিএল না হলে ৪ হাজার কোটি টাকা ক্ষতি, দুঃশ্চিন্তায় বিসিসিআই

যদিও বিনা মূল্যে চাওয়া হয়নি ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়াম। নিয়ম অনুযায়ী ভাড়া দিয়েই সাধারণ মানুষের চিকিৎসার জন্য চাওয়া হয়েছে স্টেডিয়াম। দ্রুত স্টেডিয়াম হস্তান্তরের নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। কিন্তু এমসিএ যদি নির্দেশ অমান্য করে সেক্ষেত্রে আইনি ব্যবস্থা নওয়ারও হুঁশিয়ারী দেওয়া হয়েছে। চিঠিতে জানানো হয়েছে,'ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামকে কোয়রান্টিন সেন্টারে পরিণত করার পারিশ্রমিক সময় মতো তুলে দেওয়া হবে মুম্বই ক্রিকেট সংস্থাকে। কিন্তু এই নির্দেশ অমান্য করলে, ১৮৮ ধারায় শাস্তি হতে পারে। রাজ্যের এই সঙ্কটে তাদের পাশে থাকার অনুরোধ করা হচ্ছে।' এমসিএ সচিব সঞ্জয় নায়েক বলেছেন,'আমরা আজই আবেদনপত্র পেয়েছি। রাজ্য সরকারের সঙ্গে প্রত্যেক পদক্ষেপে সহযোগিতা করবে এমসিএ।' ফলে বিশ্বজয়ের স্মৃতি বিজরিত স্টেডিয়াম এখন পরিণত হবে বিশ্ব মহামারীর সঙ্গে লড়াই করার যুদ্ধ কেন্দ্র। একদিন যেই স্টেডিয়ামে জীবনের আনন্দ খুঁজে পেয়েছিল সবাই, সেই স্টেডিয়ামেই এখন মানুষ পাঞ্জা লড়বে মৃত্যুর সঙ্গে, অদৃষ্টের সঙ্গে।