এই দুর্যোগে রাজ্য সরকারের তৎপরতাকে যে মমতা ভোটতাস হিসেবে ব্যবহার করবেন, বা করা শুরু করে দিয়েছেন সূক্ষ্মভাবে তা বলাই বাহুল্য।

মনীষিরা বলেন কথায় না বড় হয়ে কাজে বড় হতে। কিন্তু তাদের কথা শোনে কে। মঞ্চ পেলে, মাইক পেলে সকল রাজনৈতিক নেতাই লাগামখোলা পাগলাঘোড়া। আর যদি শিয়রে ঝোলে ভোটের খাঁড়া তখন? পৃথিবীর যাবতীয় ভালর কৃতিত্ব আমার দলের, আর খারাপের দায় বিরোধীদের, এমনটাই বলে থাকেন ভারতীয় রাজনীতিবিদরা। খোদ প্রধানমন্ত্রী দলের হয়ে ভোটভিক্ষে চাইতে গিয়ে সেনার কৃতিত্বের দায়ও নিজের ছাপান্ন ইঞ্চির ছাতিকেই দিতে চান। ভোটের মুখে তেমনই কথার সুযোগ পেয়ে গেলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সৌজন্যে ফণী। কথায় নয় , তাকে কাজে বড় হওয়ার সুযোগ করে দিল খোদ প্রকৃতি।

Add Asianetnews Bangla as a Preferred SourcegooglePreferred

গত বুধবার থেকেই আবহাওয়া দফতর বারবার জানান দিতে থাকে বড় প্রলয় আসছে। বিপদ বুঝে প্রথমেই নিজের পূর্বপরিকল্পিত সভা বাতিল করে দেন মমতা। তড়িঘড়ি কন্ট্রোল রুম খোলা হয় নবান্নে। ছুটি দিয়ে দেওয়া হয় সমস্ত স্কুল। তৎপরতার সঙ্গে নিজেদের কাজ করে পুরসভা ও রাজ্য বিদ্যুৎপর্ষদ। ঝড় ওড়িশায় যখন দাপাচ্ছে, পূর্বপরিকল্পনা মাফিক মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজের অপারেশন সেন্টার খড়্গপুরে পৌঁছে যান। কাকতালীয়, খড়্গপুরেই প্রথম আছড়ে পড়ে ফণী। রাজ্য বিপর্যয় মোকাবিলা দফতরের সহায়তায় যুদ্ধকালীন তৎপরতায় পূর্ব মেদিনীপুর থেকে সরানো হয়েছে লাখ দুয়েক মানুষকে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানাচ্ছেন, রাজ্যে ভেঙেছে মোট ১২ টি বাড়ি। আংশিক ক্ষতিগ্রস্থ মোট ৮২৫ টি বাড়ি। 

স্থলে শক্তি কমিয়ে ফণী বাংলাকে কার্যত বাঁচিয়েই দিয়েছে। আর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে দিয়েছে কাজ করার সুযোগ। নবান্নের হেল্পলাইনের ছবিতে বসেছে দলীয় চিহ্ণের ছবি। চার চারটি দফা পেরিয়ে লোকসভা ভোট যখন পরিণতির দিকে যাচ্ছে, তখন প্রকৃতি মমতাকে আসলে অ্যাডভান্টেজ দিয়ে দিল, এমনটাই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা। 
 এই দুর্যোগে রাজ্য সরকারের তৎপরতাকে যে মমতা ভোটতাস হিসেবে ব্যবহার করবেন, বা করা শুরু করে দিয়েছেন সূক্ষ্মভাবে তা বলাই বাহুল্য।
রাজনীতির বিশ্লেষকরা বলছেন, দেশের সেনা জাওয়ানদের কাজের খতিয়ান যদি বিজেপির ভোটভিক্ষার যুক্তি হতে পারে মমতারই বা নয় কেন। তাছাড়া মুখে মিথ্যে প্রতিশ্রুতি দেওয়ার থেকে তো কাজ দিয়ে মানুষকে চিন্তা নির্বাচনের সিদ্ধান্ত নিতে দেওয়াই তো গণতন্ত্রের পক্ষে মঙ্গলকর।

অন্য দিকে প্রচার ছাড়া আর কোনও অস্ত্র বিজেপির হাতে নেই। বাংলা দখলের লড়াইয়ে বিজেপি এবার মরিয়া হয়ে ব্যাট চালাচ্ছে। উত্তর ছেড়ে ভোট যখন দক্ষিণবঙ্গগামী ,তখন এই দুর্যোগের কারণে তিন দিনের প্রচার ঘাটতি বিজেপির বিরুদ্ধে দৈব ইয়র্কার যেন। 

উত্তরবঙ্গ নিয়ে নানা অনিশ্চয়তা রয়েছে বিলক্ষণ জানেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ভোট যত কলকাতামুখী হবে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দল ততই চেনা ছকে এখন দ্রুতগতিতে দৌঁড়বে। গা ঝাড়া দিয়ে উঠতে না পারলে বিজেপির পরিশ্রম মাটি।