বারুইপুরে নির্যাতিতা খুনের ঘটনাকে ঘিরে রাজনৈতিক তৎপরতা বেড়েছে। তৃণমূলের পৃথক দুই প্রতিনিধি দল আলাদা সময়ে নির্যাতিতার পরিবারের সঙ্গে দেখা করে। অন্যদিকে বিজেপির প্রতিনিধিরাও পরিবারের সঙ্গে কথা বলে দোষীদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছে। 

বারুইপুরকাণ্ড আরও প্রকট করে দিল তৃণমূল কংগ্রেসের সংকট। রাজ্যের প্রধান বিরোধী দলের তকমা পেয়েও রীতিমক জীর্ণপ্রায় অবস্থা ঘাসফুল শিবিরের। একটি দলের তিনটি প্রতিনিধি দল আলাদা আলাদা ভাবে গেল বারুইপুরে। আর প্রত্যেক প্রতিনিধি দলই নিজেদের আসল তৃণমূল বলে দাবি করে। অন্যদিকে এদিন নিহত নাবালিকার পরিবারের সঙ্গে দেখা করেন বিজেপির একটি প্রতিনিধি দলের সদস্যরাও। দোষীদের রেয়াত করা হবে না বলেও জানিয়েছে তারা।

Add Asianetnews Bangla as a Preferred SourcegooglePreferred

তৃণমূলের বিভাজন

সোমবার বারুইপুরে গিয়েছিল কালীঘাট তৃণমূলের প্রতিনিধি দল। আজ, মঙ্গলবার বারুইপুরে যায় ঋতব্রতপন্থীরা। বিধানসভার বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাদ্যায়ের নেতৃত্বে বিধায়ক শিউলি সাহা, প্রাক্তন মন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য যান নির্যাতিতার পরিবারের সঙ্গে কথা বলতে। বারুইপুরের সূর্যপুরে ঢুকতেই তাঁরা বাধার সম্মুখীন হন। ঋতব্রতপন্থী তৃণমূলের প্রতিনিধি দল সূর্যপুরে পৌঁছাতেই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে গোটা এলাকা। স্থানীয়রা ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্য়ায়ের উদ্দেশ্যে 'বালিশচাটা', 'চোর' এজাতীয় কটুক্তি করা হয়। ঋতব্রতপন্থী বিধানসভার ডেপুটি লিডার শিউলি সাহা- স্থানীয়দের সঙ্গে কথা কাটাকাটিতে জড়়িয়ে পড়েন। তাঁকে বলতে শোনা যায়, 'আমরা তো আলাদা। তোমরা এভাবে আমাদের বাধা দিতে পারো না। আমরাও অপরাধীদের সাজা চাই।' নির্যাতিতার পরিবারের সঙ্গে দেখা করেন তারা। পরে বাইরে বেরিয়ে ঋতব্রত জানিয়েছেন, 'মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে আমার আগেও কথা হয়েছে। আমরা বিচার চেয়েছি।' যদিও সায়নীদের প্রসঙ্গ উঠতেই ঋতব্রত বলেন, 'আমরা আলাদা এসেছি। চলো...'আর কোনও কথা না বলে ছাতা মাথায় দিয়ে এগিয়ে যান।

অন্যদিকে বারুইপুরে গিয়ে সায়নী ঘোষদের শুনতে হয় 'গদ্দার' কটাক্ষ। এনডিএ জোটকে সমর্থনকারী সায়নী ঘোষ, কাকলি ঘোষ দস্তিদারও গিয়েছিলেন বারুইপুরে। তাঁরাও নির্যাতিতার পরিবারের সঙ্গে কথা বলেন। কিন্তু প্রথমে স্থানীয় জনতা তাদের আটকে দিয়েছিল। সেখানেই তাদের উদ্দেশ্যে স্থানীয়রা বলেন, 'স্থানীয় সাংসদ কী ভাবে ঘটনার তিন দিন পর এখানে আসেন! এত দিন উনি কী করছিলেন। তা ছাড়া আমাদের যাদবপুরবাসীদের সঙ্গে গদ্দারি করেছেন উনি। লোকসভা ভোটের সময় তৃণমূলত্যাগীদের উনি গদ্দার বলতেন। আজ উনি কী করেছেন! এখানে এলেনই বা কেন?' সায়নীকে এই বিষয়ে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন, 'অভিমান থাকলে একশোবার বলতে পারে আমায়। যেমন এক মিনিটের জন্য আটকাবে, তেমন আধ ঘণ্টার জন্য ভিতরে ঢুকে কথাও বলাবে। এটা আমাদের (ভোটার এবং সাংসদ) বিষয়।' বাইরুপুরে নির্যাতিতা খুন ও ধর্ষণকাণ্ড নিয়ে তিনি বলেন, দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শান্তি তিনি চান।

বিজেপি প্রতিনিধি বারুইপুরে

ঋতব্রতদের আগেই বারুইপুরে নির্যাতিতার পরিবারের সঙ্গে দেখা করেন রাজ্যের মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পল ও বিজেপি নেত্রী লকেট চট্টোপাধ্যায়। এদিন বারুইপুরে যান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনিও দোষীদের শাস্তি দেওয়ার ব্যাপারটা নিশ্চিত করেন। কথা বলেন নিহতের মা ও বাবার সঙ্গে। শুভেন্দু স্থানীয়দের শান্ত ও সংযত থাকতে আবেদন জানিয়েছেন।