আসন্ন বাংলা ছবি ‘কেউ বলে বিপ্লবী, কেউ বলে ডাকাত’-এ অভিনেতা জিৎ ঐতিহাসিক চরিত্র অনন্ত সিংহের ভূমিকায় অভিনয় করছেন। ছবিতে তাঁর জীবনের বিভিন্ন পর্যায় তুলে ধরতে নয়টি ভিন্ন রূপ তৈরি করা হয়েছে, যা দর্শকদের মধ্যে ব্যাপক কৌতূহল সৃষ্টি করেছে।

একজন মানুষ, কিন্তু পর্দায় দেখা যাবে তাঁর নয়টি ভিন্ন রূপ। কখনও তিনি স্বাধীনতা সংগ্রামী, কখনও আত্মগোপনে থাকা বিপ্লবী, আবার কখনও সমাজের চোখে ডাকাত। আসন্ন বাংলা ছবি ‘কেউ বলে বিপ্লবী, কেউ বলে ডাকাত’-এ জিতের চরিত্রের এই নানা রূপ এখন দর্শকদের মধ্যে ব্যাপক কৌতূহল তৈরি করেছে।

ছবিতে জিৎ অভিনয় করছেন ঐতিহাসিক চরিত্র অনন্ত সিংহের ভূমিকায়। তাঁর জীবনের বিভিন্ন সময়কালকে পর্দায় ফুটিয়ে তুলতেই তৈরি করা হয়েছে একাধিক লুক। তরুণ বিপ্লবী থেকে শুরু করে বয়সের ভারে নুয়ে পড়া মানুষ—প্রতিটি পর্যায়ে জিতের চেহারা, শরীরী ভাষা ও সাজসজ্জায় আনা হয়েছে আলাদা পরিবর্তন।

এই কঠিন রূপান্তরের নেপথ্যে রয়েছেন জনপ্রিয় মেকআপ শিল্পী সোমনাথ কুণ্ডু। তাঁর পরিকল্পনা ও গবেষণার মাধ্যমে তৈরি হয়েছে জিতের এই নয়টি অবতার। ঐতিহাসিক চরিত্রকে বিশ্বাসযোগ্য করে তুলতে দীর্ঘ সময় ধরে তথ্য সংগ্রহ, লুক টেস্ট এবং সূক্ষ্ম মেকআপের কাজ করা হয়েছে।

সোমনাথ কুণ্ডুর মতে, শুধু মুখের পরিবর্তন করাই ছিল না মূল লক্ষ্য। অনন্ত সিংহের জীবনের প্রতিটি অধ্যায়ের সঙ্গে তাঁর মানসিক পরিবর্তনকেও ফুটিয়ে তোলা ছিল বড় চ্যালেঞ্জ। তাই প্রতিটি লুকের পিছনে ছিল আলাদা ভাবনা ও পরিকল্পনা।

ছবির পরিচালক পথিকৃৎ বসু জানিয়েছেন, অনন্ত সিংহকে কোনও একটি পরিচয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ করা যায় না। ইতিহাসে তাঁকে কেউ বিপ্লবী হিসেবে দেখেছেন, আবার কেউ দেখেছেন অন্য চোখে। সেই দ্বন্দ্বকেই পর্দায় তুলে ধরার চেষ্টা করা হয়েছে।

‘কেউ বলে বিপ্লবী, কেউ বলে ডাকাত’ ছবির গল্পের পটভূমি ষাটের দশকের কলকাতা। অনন্ত সিংহের জীবন, তাঁর সংগ্রাম এবং সমাজের দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তনকে কেন্দ্র করেই তৈরি হয়েছে এই ছবি। ছবিতে জিতের পাশাপাশি রয়েছেন টোটা রায়চৌধুরী, রাজতাভ দত্তসহ একাধিক অভিনেতা।

জিতের এই নতুন রূপ দর্শকদের মধ্যে ইতিমধ্যেই আগ্রহ তৈরি করেছে। বিশেষ করে একজন অভিনেতাকে নয়টি আলাদা চরিত্রের আবহে দেখার অপেক্ষায় রয়েছেন বাংলা সিনেমাপ্রেমীরা।