১১তম অজন্তা ইলোরা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে পদ্মবিভূষণ ইলাইয়ারাজাকে পদ্মমাণি পুরস্কারে সম্মানিত করা হয়। এই অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, প্রযুক্তি-নির্ভর সঙ্গীত কেবল কানে পৌঁছায়, কিন্তু গভীর অনুভূতি থেকে সৃষ্ট সঙ্গীতই মানুষের হৃদয় স্পর্শ করে।
সদ্য অনুষ্ঠিত হল ১১তম অজন্তা ইলোরা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের (এআইএফএফ) উদ্বোধনী অনুষ্ঠান বিশেষ কথা বলেন পদ্মবিভূষণ ইলাইয়ারাজ। তিনি বলেন, আধুনিক প্রযুক্তি সঙ্গীতকে দ্রুততর এবং সহজলভ্য করে তুললেও, শুধুমাত্র বাদ্যযন্ত্র দিয়ে তৈরি সঙ্গীত কেবল কানেই পৌঁছায়। গভীর অনুভূতি থেকে জন্ম নেওয়া সঙ্গীতই প্রকৃত অর্থে হৃদয়ে পৌঁছায়।
সারা বিশ্বের প্রশংসিত চলচ্চিত্রগুলো বার্ষিক আয়োজন অজন্তা-ইলোরা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব আজ এমজিএম বিশ্ববিগ্যালয়ের রুক্মিণী প্রেক্ষাগৃহে বিশিষ্ট অতিথিদের উপস্থিতিতে আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হয়। সন্ধ্যার অন্যতম আকর্ষণ ছিল ভারতীয় চলচ্চিত্র সঙ্গীতে তাঁর অতুলনীয় অবদানের জন্য পদ্মবিভূষণ শ্রী ইলাইয়ারাজাকে পদ্মমাণি পুরস্কার প্রদান। এই সম্মানের মধ্যে ছিল একটি ঐতিহ্যবাণী পৈঠানি শাল, একটি স্মারক, একটি সম্মাননাপত্র এবং ২,০০,০০০ টাকার নগদ পুরস্কার।
শ্রোতাদের উদ্দেশে ইলাইয়ারাজা তাঁর সৃজনশীল প্রক্রিয়া সম্পর্কে কিছু ধারণা দেন। তিনি বলেন, আমি সরাসরি সুর রচনা করি, এ নিয়ে অতিরিক্ত চিন্তা করি না। আমার কর্মজীবনে আমি ১,৫৪৫ টি চলচ্চিত্রে কাজ করেছি এবং বহু পরিচালক ও প্রযোজকের সঙ্গে সহযোগিতা করেছি। আজও আমি আধুনিক প্রযুক্তিহত শর্টকাটের ওপর নির্ভর করি না। আমি অবিরাম কাজ করে চলেছি এবং নিজেকে সঙ্গীতের একজন আজীবন শিক্ষার্থী মনে করি।
নিজের অক্লান্ত নিষ্ঠার প্রমাণ দিয়ে এই কিংবদন্তী সুরকার জানান যে, অনুষ্ঠানের জন্য ছত্রপতি সম্ভাজিনগরে আসার আগে তিনি আজ সকালেই তাঁর ১,৫৪৪ তম চলচ্চিত্রের সুর রচনার কাজ শেষ করেছেন।
এরই সঙ্গে ডিজিটাল যুগ সম্পর্কে তিনি বলেন, সঙ্গীত প্রযোজনা এখন সর্বব্যাপী হয়ে উঠেছে। আজকাল পিয়ানোর একটি বোতাম চাপলেই সঙ্গীত তৈরি হয়ে যায় এবং প্রতিটি বাড়ি ও গ্রামে একজন সুরকার খুঁজে পাওয়া যায়। তিনি আরও বলেন, পদ্মপাণি পুরস্কার পেয়ে আমি গভীরভাবে সম্মানিত এবং এই উৎসবের সর্বাঙ্গীণ সাফল্য কামানা করি।

