দুর্ঘটনার মোর মৃত্যুকামনা করেছিলেন সুধা চন্দ্রণ। মা বাবার অনুপ্রেরণায় আবার ঘুরে দাঁড়নোর ক্ষমতা পেয়েছিলেন নৃত্যশিল্পী। বর্তমানে হিন্দি টেলিভিশনের অন্যতম পরিচিত মুখ তিনি।  

অভিনয় জীবনে একাধিক পুরস্কারের তালিকা থাকলে ও কেরিয়ার শুরু করেছিলেন একজন নায়িকা হিসাবে পরবর্তীতে হিন্দি টেলিভিশনের নেগেটিভ চরিত্রের গুরুত্বপূর্ণ মুখ হয়ে ওঠেন সুধা চন্দ্রণ। এরপর প্রায় ৩০ বছরের যাত্রা, তবে অভিনয়ের ক্ষেত্র দুটি বদলে গেলেও একজন অভিনেত্রীর কাছে পারফরম্যান্সটাই আসল কথা আর সে কথার প্রমাণ ও দিয়েছেন তিনি, জেগেটিভ চরিত্রে ও সাফল্যের সঙ্গে নিয়ে এসেছেন একাধিক পুরস্কার। তবে এক প্রথম সারির সংবাদমাধ্যমকে সাক্ষাৎকার দিতে গিয়ে নিজের জীবনের অন্ধকার দিনগুলি কীভাবে কাটিয়ে উঠেছিলেন তিনি সেই অভিজ্ঞতা শেয়ার করেছেন অভিনেত্রী। 

Add Asianetnews Bangla as a Preferred SourcegooglePreferred

শুধু অভিনয় নয়, নৃত্যে ও অসাধারণ দক্ষতা ছিল সুধা চন্দ্রণের। নাচে ময়ূরী ছবি দিয়ে কেরিয়ার শুরু করেছিলেন তিনি, এই ছবির জন্য জাতীয় পুরস্কার ও পেয়েছিলেন তিনি। এরপর প্রায় ৭ বছর বেকার বাড়িতে বসে ছিলেন তিনি। অভিনেত্রী সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন দীর্ঘ এই বিরতির পর টেলিভিশন সিরিয়ালে নেগেটিভ রোলে অভিনয়ই তাঁর ইন্ডাস্ট্রিতে টিকে থাকার অন্যতম একটি কারণ।

আরও পড়ুন- জুটত না ভাত, খাবার জোটাতে হিমশিম অবস্থা হয়েছিল অমিতাভের, দুর্দিনের কথা ফাঁস করলেন অভিষেক

আরও পড়ুন- কী কারণে আত্মহত্যা করতে চেয়েছিলেন শাহরুখ খান, এতদিনে ফাঁস হল আসল কারণ

আরও পড়ুন- সলমনের হাত ধরেই কি বলিউডের আত্মপ্রকাশ শেহনাজ গিলের, কভি ইদ কভি দিওয়ালি নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে

নতুন ভূমিকায় অভিনয়ের অভিজ্ঞতা:

নতুন এই অভিজ্ঞতা প্রসঙ্গে অভিনেত্রী জানিয়েছেন যে 'এটা খুবই অদ্ভুত একটি অনুভূতি। কারণ দীর্ঘদিন একরকমভাবে অভিনয় করার পর সম্পূর্ণ অন্য চরিত্রে অভিনয় কখন ও মনকে ভীত করে তোলে আবার কখন ও মিশ্র অনুভূতি আসে। তবে আমি অনেক কিছু শিখতে পেরেছি। এমন কি আমি সঞ্চালনা কীভাবে করতে হয় সেটা ও শিখেছি। ইটা আমার জন্য অসাধারণ একটি মেমোরি টেস্ট ও ছিল বলা যেতে পারে।'

সঞ্চালনার অভিজ্ঞতা:

জীবনে সঞ্চালনার অভিজ্ঞতা প্রসঙ্গে তিনি জানিয়েছেন যে, 'সঞ্চালনা খুবই অসাধারণ একটি কাজ, সেইসঙ্গে এটি যেমন সহজ তেমনই খুব ক্লান্তিকর একটি কাজ। কারণ আপনাকে স্ক্রিপ্টের প্রতিটি লাইন মনে রাখতে হবে আপনি তা ছোট করতে পারবেন না কোনওভাবেই। এক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় বিষয় হল আমি কারও চরিত্রে অভিনয় করছি না আমি সুধা চন্দ্রণ, তাই আমি যা বলছি তা আমায় বিশ্বাস করতে হবে। এটি খুব গুরুত্বপূর্ণ একটাই দায়িত্ব।'

দুর্ঘটনার ভয়ঙ্কর অভিজ্ঞতা:

অভিনয় দুনিয়া থেকে অনেকদিন মুখ ফিরিয়ে থাকতে হয়েছিল সুধা চন্দ্রণকে, কারণটা ছিল তাঁর দুর্ঘটনা। এই প্রসঙ্গে তিনি জানান, 'আমার সত্যিই কোন বিকল্প পথ ছিল না, আমার জন্য শুধুমাত্র দুটি পথ খোলা ছিল। হয় আমি হাঁটতে শুরু করি না হয় আমি আমার জীবন ধ্বংস করে ফেলি। এক অর্থে ধ্বংস হয়ে গেলে আমি বাঁচতাম না, আসলে আমি দুর্ঘটনার পরে বাঁচতে চাইওনি। কিন্তু আমার বাবা-মায়ের কারণেই আমি ফিরে এসেছি। সম্ভবত, আমার বাবা-মাই একমাত্র কারণ যে তখন আমি জীবনে চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম। নইলে আমার কাছে আর অন্য কোনও কারণ ছিল না। দুর্ঘটনার পর এমন অনেক মুহূর্ত ছিল যখন আমার মনে হয়েছিল আমি কেন বেঁচে আছি? কিন্তু যখন আমি আমার বাবা-মায়ের দিকে তাকাতাম তখন আমি বুঝতে পারতাম যে আমাকে তাদের জন্য বেঁচে থাকতে হবে। আমার বাবা- মা আমাকে উড়তে দিয়েছে, তারা আমাকে বলেছে তুমি চেষ্টা কর এবং আমরা তোমার সাথে আছি। আমি শুধু আমার বাবা-মাকে গর্বিত করতে চেয়েছিলাম। তারা আমার দুর্ঘটনার পর খুবই হতাশ হয়ে পড়েছিল। হঠাৎ, আমি বুঝতে পারি যে তাদের সমস্ত স্বপ্ন ভেঙ্গে গেছে। তাই আমি ঈশ্বরের কাছে শুধুমাত্র প্রার্থনা করেছিলাম যে আমাকে এমন একটা সুযোগ দিন যেখানে আমি গর্ব উপহার দিতে পারি ব্যর্থতা নয়।' 

ছবির ব্যর্থতায় এসেছিল ইন্ডাস্ট্রি ছেড়ে দেওয়ার প্রস্তাব:

'আমার কেরিয়ারের শুরুটা খুব ভালোভাবে হলেও আসল লড়াইটা শুরু হয়েছিল যখন আমার ছবি ফ্লপ করতে শুরু করেছিল। আমাকে অনেকেই পরামর্শ দিয়েছিলেন একটা ছবি ভালো কাজ করেছে মানেই যে আপনি এই ইন্ডাস্ট্রির জন্যই তৈরি হয়েছেন এটা ভাবাটাই ভুল। আপনি একজন ভালো ছাত্রী, IAS বা IFS- এ চেষ্টা করুন, অভিনয়টা ছেড়ে দিন। তবে ভগবানের কাছে কৃতজ্ঞ যে আমি কারোর কথা শুনি নি। জীবনে যে কোনও সমস্যায় আমি কেবল আমার মা বাবার পরামর্শ নিয়েছি, কারণ আমি জানতাম তাঁরা আমায় ভুল পথে কোনওদিন চালিত করবে না।'

নাচে ময়ুরীর জন্য জাতীয় পুরস্কার জিতেও ৭ বছরের বেকারত্ব:

সুধা চন্দ্রণ জানান, 'আমি আমার জীবনে ৭ বছর বেকার বাড়িতে বসে ছিলাম আর শুধু অপেক্ষা করেছিলাম সঠিক সময় আসার। আমি অর্থনীতিতে স্নাতকোত্তর ছিলাম, আমি অন্য কোনও লাভজনক চাকরি পেতে পারতাম, কিন্তু আমি আমার কাজে আর ভগবানের উপর ভরসা রেখেছিলাম। সুযোগটা এসেছিল বালাজি টেলিফিল্মসের কাহিন কিসি রোজ ধারাবাহিক দিয়ে। এটাই ছিল আমার জীবনের টার্নিং পয়েন্ট। একসময় যারা আমাকে ইন্ডাস্ট্রি ছেড়ে দিতে বলেছিল তারাই এসে আমাকে সেরা নেগেটিভ অভিনেত্রীর পুরস্কার দিয়েছিল। আর এটাকে আমি আমার জীবনের শ্রেষ্ঠ উপহার বলে মনে করি।'