জন্মাষ্টমী উপলক্ষে সেজে উঠেছে গুরুভায়ুর মন্দির। সেখানে প্রার্থনা আর সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে প্রচুর মানুষের ভিড় জমে।
গুরুভায়ুর মন্দিরে জন্মাষ্টমীর আয়োজন
শুক্রবার ভগবান শ্রীকৃষ্ণের জন্মদিন উপলক্ষে কেরলের ত্রিশূর জেলার গুরুভায়ুর মন্দিরকে সুন্দর করে সাজানো হয়েছিল। প্রভুর দর্শন পেতে আর প্রার্থনা জানাতে সেখানে প্রচুর ভক্ত ভিড় করেন।
এই উৎসব উপলক্ষে ঐতিহ্যবাহী নাচ-গানেরও আয়োজন করা হয়। শিল্পীরা কেরলের বর্ণময় সংস্কৃতি তুলে ধরেন, আর ভক্তরা প্রার্থনা ও ভক্তিতে ডুবে যান। সাজানো মন্দির, ভক্তিপূর্ণ আচার-অনুষ্ঠান, সাংস্কৃতিক পরিবেশনা এবং বিপুল জনসমাগম—সব মিলিয়ে এক আধ্যাত্মিক পরিবেশ তৈরি হয়েছিল। গুরুভায়ুরের এই উৎসব ভগবান কৃষ্ণের গভীর ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক তাৎপর্যকেই তুলে ধরে। মন্দিরের এই ব্যস্ততার মধ্যে বিভিন্ন জায়গা থেকে আসা ভক্তরা বিশ্বাস ও উৎসাহের সঙ্গে এই শুভ দিনটি পালন করতে একত্রিত হয়েছিলেন।
কেরল ও তামিলনাড়ু জুড়ে উৎসবের ধুম
এদিকে, কেরল ও তামিলনাড়ুর বিভিন্ন প্রান্তের ভক্তরাও ঐতিহ্যবাহী ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান ও উৎসবের মাধ্যমে কৃষ্ণ জন্মাষ্টমী পালন করেছেন। কেরলের পাঠানমথিট্টা জেলার আরনমুলা পার্থসারথি মন্দিরে প্রায় ৫০,০০০ ভক্তের জন্য এক বিশাল 'বল্লসাদ্য' ভোজের আয়োজন করা হয়। অন্যদিকে, রামেশ্বরমের থাঙ্গাচিমাদামে কয়েকশ মহিলা দুধের কলসি নিয়ে শোভাযাত্রায় অংশ নেন।
অষ্টমী রোহিণী তিথিতে ভক্তরা আরনমুলা পার্থসারথি মন্দিরে জড়ো হন। ভগবান আরনমুলা পার্থসারথিকে ঐতিহ্যবাহী 'বল্লসাদ্য' নিবেদন করাই ছিল এর মূল উদ্দেশ্য। এই মন্দিরে ৫২টি 'করা' (এলাকা) থেকে আসা 'পল্লিয়োদা করা'র সদস্য এবং স্থানীয় বাসিন্দা-সহ প্রায় ৫০,০০০ ভক্ত যোগ দেন। ছোট ছোট ছেলেমেয়েরা ভগবান কৃষ্ণের সাজে সেজেছিল এবং শিল্পীরা 'পল্লিয়োদম' অর্থাৎ নৌকায় চড়ে শোভাযাত্রায় অংশ নিয়ে বিভিন্ন ঐতিহ্যবাহী কলা প্রদর্শন করেন। মন্দিরের উঠোনে মহাভোজে বসার আগে ভক্তরা 'ভঞ্চিপাট্টু' গান গাইতে গাইতে আর নাচতে নাচতে মন্দির প্রদক্ষিণ করেন।
তামিলনাড়ুর রামেশ্বরমেও জন্মাষ্টমী পালিত হয়েছে। থাঙ্গাচিমাদামে কয়েকশ মহিলা দুধের কলসি নিয়ে এক ঐতিহ্যবাহী শোভাযাত্রায় যোগ দেন। গ্রামের প্রধান মারিয়াপ্পানের নেতৃত্বে মহিলারা বেকারুম্বু হনুমান মন্দির থেকে দুধের কলসি নিয়ে বের হন এবং মূল রাস্তা ধরে হেঁটে কৃষ্ণ মন্দিরে পৌঁছন।
কৃষ্ণ জন্মাষ্টমীর তাৎপর্য
কৃষ্ণ জন্মাষ্টমী, যা জন্মাষ্টমী বা গোকুলাষ্টমী নামেও পরিচিত, একটি বার্ষিক হিন্দু উৎসব। এই দিনে ভগবান বিষ্ণুর অষ্টম অবতার শ্রীকৃষ্ণের জন্ম উদযাপন করা হয়। হিন্দু ক্যালেন্ডার অনুযায়ী, ভাদ্র মাসের কৃষ্ণপক্ষের অষ্টমী তিথিতে এই উৎসব পালিত হয়, যা গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডার অনুসারে সাধারণত অগাস্ট-সেপ্টেম্বর মাসে পড়ে।
সারা দেশেই ভক্তরা প্রার্থনা, মন্দিরে যাওয়া, ধর্মীয় শোভাযাত্রা, ভজন এবং অন্যান্য ঐতিহ্যবাহী অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এই দিনটি পালন করেন। মন্দিরগুলো সুন্দর করে সাজানো হয় এবং প্রচুর ভক্ত দর্শন করতে ভিড় জমান। (ANI)
(এই প্রতিবেদনের শিরোনাম ছাড়া মূল লেখার আর কোনও অংশ এশিয়ানেট নিউজ়েবল ইংলিশ সম্পাদনা করেনি। এটি একটি সিন্ডিকেটেড ফিড থেকে প্রকাশিত।)
