স্মরণীয় দিনেই প্রকাশ্যে এল তাঁর জীবনকাহিনি নিয়ে তৈরি সিনেমা ‘গুন গুন করে মহুয়া’র প্রথম লুক।

১৯৮৫ সালের ২২ জুলাই। বাংলা সিনেমার আকাশে নেমে এসেছিল এক গভীর অন্ধকার। মাত্র ৮০ শতাংশ দগ্ধ শরীর নিয়ে মৃত্যুর সঙ্গে লড়াইয়ের পর ভোর ৫টা ৫৫ মিনিটে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছিলেন জনপ্রিয় অভিনেত্রী মহুয়া রায়চৌধুরী। সেই স্মরণীয় দিনেই প্রকাশ্যে এল তাঁর জীবনকাহিনি নিয়ে তৈরি সিনেমা ‘গুন গুন করে মহুয়া’র প্রথম লুক।

রাজদীপ ঘোষ পরিচালিত এই ছবিতে প্রয়াত অভিনেত্রীর ভূমিকায় দেখা যাবে জনপ্রিয় ধারাবাহিক অভিনেত্রী অঙ্কিতা মল্লিককে। মহুয়ার তরুণ বয়সের চরিত্রে অভিনয় করছেন দিব্যাণী মণ্ডল। মহুয়া রায়চৌধুরীর আকস্মিক মৃত্যু আজও বাঙালির মনে একাধিক প্রশ্ন তৈরি করে। ঘটনাটি কি আত্মহত্যা ছিল, নাকি এর পিছনে ছিল অন্য কোনও রহস্য? চার দশক পরেও সেই প্রশ্নের সম্পূর্ণ উত্তর মেলেনি।

‘গুন গুন করে মহুয়া’ ছবিতে তুলে ধরা হবে অভিনেত্রীর জীবনের নানা আলো-অন্ধকার দিক এবং তাঁকে ঘিরে থাকা সেই রহস্যের অনুসন্ধান। প্রকাশিত প্রথম লুকে অঙ্কিতাকে দেখা গিয়েছে মহুয়ার সাজে। শাড়ি, গলায় লম্বা মুক্তোর মালা, কপালে টিপ এবং মাঝখানে সিঁথি করা চুলে তাঁকে অনেকটাই মহুয়ার মতো করে তুলে ধরা হয়েছে।

ছবির প্রযোজক রানা সরকারের মতে, মহুয়ার চরিত্রে নিজেকে তৈরি করার অঙ্কিতার আগ্রহই তাঁকে এই চরিত্রের জন্য উপযুক্ত করে তুলেছে। পাশাপাশি মহুয়ার তরুণ বয়সের ছাপ ফুটিয়ে তুলতে দিব্যাণী মণ্ডলের সাদৃশ্যও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছে। অঙ্কিতাও জানিয়েছেন, প্রথমে এই চরিত্রের প্রস্তাব পেয়ে তিনি অবাক হয়েছিলেন। মহুয়ার জীবন ও ব্যক্তিত্ব নিয়ে তাঁর নিজেরও অনেক কৌতূহল রয়েছে।

মহুয়ার মৃত্যুর তদন্তকারী অফিসার আইপিএস নবীন চট্টোপাধ্যায়ের চরিত্রে অভিনয় করছেন গৌরব চক্রবর্তী। তাঁর স্ত্রীর ভূমিকায় থাকছেন অলকানন্দা গুহ। অন্যদিকে, মহুয়ার জীবনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা থাকা অভিনেত্রী সন্ধ্যা রায়ের চরিত্রে দেখা যাবে ঋদ্ধিমা ঘোষকে।

চলতি বছর মহুয়া রায়চৌধুরীর মৃত্যুর ৪১ বছর পূর্ণ হচ্ছে। নির্মাতাদের দাবি, এই ছবি কোনও বিতর্ক তৈরি করার উদ্দেশ্যে নয়, বরং একজন প্রতিভাবান অভিনেত্রীর জীবনকে নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরাই তাঁদের লক্ষ্য। ছবির শুটিং প্রায় শেষ পর্যায়ে বলে জানা যাচ্ছে। এবার অপেক্ষা, কবে বড় পর্দায় দেখা যাবে বাংলা সিনেমার সেই হারিয়ে যাওয়া নক্ষত্র মহুয়ার গল্প।