সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের সঞ্চালনায় শুরু হওয়া 'বিগ বস বাংলা'-র ঘরে প্রথম থেকেই বিতর্ক, ঝগড়া এবং ভাষার ব্যবহার নিয়ে উত্তেজনা তুঙ্গে। প্রতিযোগীদের কড়া নির্দেশ দেওয়ার মাঝেই অভিনেতা জীতু কমলের একটি সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট ঘিরে তাঁর বিগ বসে যোগদানের জল্পনা শুরু হয়েছে।

দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে রবিবার রাতে সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের সঞ্চালনায় শুরু হয়েছে বহু প্রতীক্ষিত ‘বিগ বস বাংলা’। শো শুরু হতে না হতেই প্রতিযোগীদের মধ্যে সম্পর্কের টানাপোড়েন, বন্ধুত্ব, মতবিরোধ থেকে শুরু করে তুমুল বাকবিতণ্ডা—সব মিলিয়ে জমে উঠেছে খেলা। প্রথম দু’দিনেই দর্শকদের নজর কেড়েছে একের পর এক বিতর্কিত মুহূর্ত।

তবে উত্তেজনার পাশাপাশি শোয়ের ভাষা নিয়েও ইতিমধ্যেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। প্রতিযোগীদের কথোপকথনে একাধিক অপশব্দ এবং অতিরিক্ত ইংরেজি ব্যবহারে বিরক্ত দর্শকদের একাংশ। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছয় যে, খোদ ‘বিগ বস’-এর তরফে প্রতিযোগীদের সতর্ক করা হয়। ‘ক্যাপ্টেন’ ভরত কলের সঙ্গে তনুশ্রী রায়ের মতবিরোধ থেকেই শুরু হয় অশান্তির সূত্রপাত। ভরতের অধিনায়কত্ব নিয়ে আপত্তি প্রকাশ করেন তনুশ্রী। তাঁর স্পষ্ট বক্তব্য, মানুষ হিসেবে তো বটেই, ‘ক্যাপ্টেন’ হিসেবেও ভরত কলকে তাঁর পছন্দ নয়। তাই ক্যাপ্টেনের কোনও নির্দেশ তিনি মানতে রাজি নন।

এরপর পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। দীপেন্দু বিশ্বাস, দুর্নিবার সাহা, ঝিলম গুপ্ত এবং তনুশ্রী রায় দাসকে পাঠানো হয় ‘ডাগ হাউজ’-এ। সেখানে তাঁরা নিজেদের মতো রেশন সংগ্রহ করে রান্নাবান্না করে আলাদা থাকছেন।

এই পরিস্থিতির মধ্যেই ভরত ও তনুশ্রীর মধ্যে ফের শুরু হয় তর্ক। তনুশ্রীর বক্তব্যের পালটা দিতে গিয়ে ভরত তাঁকে বাথরুম পরিষ্কার করার নির্দেশ দেন। ক্যাপ্টেনের নির্দেশ অমান্য করলে বাথরুম ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না বলেও জানান তিনি। ভরতের কথায় আরও চড়া হয়ে ওঠে পরিস্থিতি। তনুশ্রীও পালটা চিৎকার শুরু করেন।

পরিস্থিতি হাতের বাইরে চলে যাচ্ছে বুঝতে পেরে বাকিরা হস্তক্ষেপ করেন। মনামী ঘোষকে ভরতকে শান্ত করার চেষ্টা করতেও দেখা যায়। ঠিক সেই সময়ই ‘বিগ বস’-এর অ্যালার্ম বেজে ওঠে।

‘বাংলায় কথা বলতে হবে’, কড়া নির্দেশ বিগ বসের

এরপরই প্রতিযোগীদের উদ্দেশে আসে কড়া বার্তা। ‘বিগ বস’ স্পষ্ট করে দেন, এই ঘর তাঁর এবং এই ঘরের প্রতিটি প্রতিযোগীকেই গোটা বাংলা চেনে। তাই কথাবার্তায় অতিরিক্ত ইংরেজি শব্দ কিংবা ইংরেজি বাক্যের ব্যবহার বন্ধ করতে হবে।

প্রতিযোগীদের বাংলা ভাষায় কথা বলার নির্দেশ দেওয়া হয়। পাশাপাশি আলেকজান্দ্রা টেলরের প্রশংসাও করা হয়। বাঙালি না হয়েও তিনি যেভাবে বাংলায় কথা বলার চেষ্টা করছেন, সেটিকে ইতিবাচক উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরা হয়।

এই ঘটনার পর থেকেই সোশ্যাল মিডিয়ায় নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে ‘বিগ বস বাংলা’-কে ঘিরে। তবে এরই মধ্যে শোকে ঘিরে আরও একটি জল্পনা মাথাচাড়া দিয়েছে।

বাংলা বিনোদন জগতে এখন অন্যতম চর্চিত নাম জীতু কমল। গুঞ্জন, খুব শীঘ্রই নাকি ‘বিগ বস বাংলা’-র ঘরে প্রতিযোগী হিসেবে দেখা যেতে পারে অভিনেতাকে। আর এই জল্পনার অন্যতম কারণ তাঁর সাম্প্রতিক একটি সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট।

পোস্টে জীতু ইঙ্গিত দিয়েছেন, তিনি একটি নন-ফিকশন শোয়ে অংশ নিতে চলেছেন। শুধু তাই নয়, সেই শোয়ে জয়ী হয়ে অর্থ পুরস্কার পেলে তার ৭৫ শতাংশ গৃহহীন মানুষ, অনাথ শিশু এবং বৃদ্ধাশ্রমে থাকা অসহায় মানুষদের জন্য ব্যয় করার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন।

অভিনেতার পোস্টের বক্তব্যের সারমর্ম ছিল—পুরস্কারের ২৫ শতাংশ থাকবে তাঁর নিজের জন্য, আর ৭৫ শতাংশ যাবে অসহায় মানুষদের পাশে দাঁড়ানোর কাজে। তাঁর এই মানবিক উদ্যোগের ঘোষণাই এখন নতুন জল্পনার জন্ম দিয়েছে।

জীতু কমল সম্প্রতি সিনেমার কাজ শেষ করেছেন। অন্যদিকে এই মুহূর্তে তাঁর হাতে কোনও সিরিয়ালের কাজও নেই। ফলে তাঁর সেই রহস্যময় ‘নন-ফিকশন শো’-এর কথা ঘিরে কৌতূহল আরও বেড়েছে।

অনেকেরই প্রশ্ন, তাহলে কি সেই নন-ফিকশন শো আসলে ‘বিগ বস বাংলা’? যদিও এখনও পর্যন্ত অভিনেতার তরফে এ বিষয়ে কোনও স্পষ্ট ঘোষণা করা হয়নি। ফলে জল্পনা আপাতত জল্পনাতেই সীমাবদ্ধ।

তবে শোয়ের শুরুতেই যখন একের পর এক চমক দেখা যাচ্ছে, তখন জীতু কমল সত্যিই ‘বিগ বস বাংলা’-র ঘরে প্রবেশ করেন কি না, সেটাই এখন দেখার। উত্তর মিলতে পারে খুব শীঘ্রই।