প্রয়াত  কিংবদন্তী তারকা সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়। শোক স্তব্ধ পুরো বাংলা তথা দেশ। শোকপ্রকাশ করেছে মোদি-মমতা। সেলেব থেকে সাধারণ কেউ বাদ যায়নি। কেউ তাঁকে এভাবে হারাতে চায়নি। তাঁর বাড়ি ফেরার অপেক্ষায় ছিল গোটা শহর। কিন্তু এবার তাঁর নিথর দেহটাই ফিরল শুধু। তবে তাঁর মৃত্যুর পরেও রয়ে যাবে তাঁর অন্যতম সৃষ্টি গুলি। আর সেই সৃষ্টি কিন্তু সেলুলয়েডে নয়, শুরু হয়েছিল বেতার তরঙ্গে।

 

 

 মায়ের শাড়ি দিয়ে পর্দা-উইংস বানিয়ে নাটক-নাটক খেলতেন তিনি 
 

জীবনের প্রথম ১০ বছর সৌমিত্র কাটিয়েছিলেন কৃষ্ণনগরে। এই শহরেই অভিনয় জীবনে তাঁর হাতেখড়ি। এরপরে তার পরিবার চলে আসে হাওড়ায়। সৌমিত্র পড়তেন হাওড়া জেলা স্কুলে। স্কুলের অনুষ্ঠানে নিয়মিত অভিনয় করতেন তিনি। তবে তার পাশপাশি শৈশবে মায়ের শাড়ি দিয়ে পর্দা এবং উইংস বানিয়ে নাটক-নাটক খেলা খেলতেন তিনি। অনেকটাই সেই নকল গোফ লাগিয়ে যেমন আয়নায় তাঁকাত অপু।তবে অভিনয়ে ধারা ছিল কয়েকপুরুষ আগেই। সৌমিত্র  চট্টোপাধ্যায় পরিবারের  আদিবাড়ি নদীয়ার কৃষ্ণনগরে। সবদিনই এশহর থিয়েটারের জন্য বিখ্যাত। এরকমই একদলের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন সৌমিত্রের ঠাকুদাও। সৌমিত্রের বাবা ছিলেন আইনজীবী, পরে সরকারি কর্মচারী। তিনিও ছিলেন শখের অভিনেতা।   

 ঘোষক হিসেবে তিনি জীবন শুরু করেন অল ইন্ডিয়া রেডিওতে


কলকাতা বিশ্ববিদ্য়ালয়ের থেকে স্নাতকোত্তর সৌমিত্র প্রথমে অভিনয় শিখেছিলেন অভিনেতা অহীন্দ্র চৌধুরীর কাছে। তারপরে তিনি সংস্পর্শে আসেন সেই নাট্যব্যক্তিত্বের কলেজে যাঁর নাটক দেখে তিনি ঠিক করেছিলেন অভিনেতাই হবেন। তিনি, শিশির ভাদুড়ি। সৌমিত্রের এক বন্ধুর মা ছিলেন অভিনেত্রী শেফালিকা পুতুল।  তিনি অপুর সংসার এ অপর্ণার মায়ের ভূমিকায় অভিনয় করেছিলেন। তাঁর মাধ্যমেই শিশির ভাদুড়ির মায়ের সঙ্গে আলাপ হয় সৌমিত্রের। তবে কাজের জীবন শুরু হয় মোটেই অভিনয় দিয়ে নয়। ঘোষক হিসেবে তিনি জীবন শুরু করেন অল ইন্ডিয়া রেডিওতে। আর তারই সঙ্গে চলত থিয়েটারে অভিনয় এবং ছবিতে অডিশন।