টেলি অভিনেত্রী পল্লবী দে-র মৃত্যু রহস্যের জট এখন ও কাটে নি, তারই মাঝে এল আরও এক রহস্য মৃত্যুর খবর। নাগেরবাজার থেকে উদ্ধার হয় মডেল- অভিনেত্রী বিদিশা দে- র ঝুলন্ত দেহ।  তবে কেন এমন পথ বেঁচে নিয়েছিলেন বিদিশা? এবার তাঁর সুইসাইড নোট থেকে উদ্ধার হল বিস্ফোরক তথ্য।  

একের পর এক মৃত্যুরহস্য, সত্যিই কি আত্মহত্যা না কি খুন? না কি আত্মহত্যার পিছনে রয়েছে অন্য কারও প্ররোচনা? একাধিক প্রশ্ন ঘুরপাক খেতে শুরু করেছে চারিদিকে। মাত্র কিছুদিন আগের কথা, ১৫ মে রবিবার আচমকা গড়ফার ফ্ল্যাট থেকে উদ্ধার হয় টেলি অভিনেত্রী পল্লবী দে- র ঝুলন দেহ। ঘটনার পর থেকে অভিযোগের নিশানায় অভিনেত্রীর লিভ ইন পার্টনার সাগ্নিক চক্রবর্তী। এখন ও সেই ঘটনার কিনারায় এসে পৌঁছাতে পারে নি পুলিশ। এবার তারই মাঝে উঠে এল আরও এক মডেল- অভিনেত্রীর মৃত্যুরহস্যের খবর।

Add Asianetnews Bangla as a Preferred SourcegooglePreferred

দমদম নাগেরবাজারের রামগড় কলোনির বাড়ি থেকে উদ্ধার হয় মডেল- অভিনেত্রী বিদিশা দে- র ঝুলন্ত দেহ, যা নিয়ে রীতিমত চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে টলিপাড়ায়। আপাত দৃষ্টিতে এই ঘটনাটি আত্মহত্যা বলে মনে হলে ও সত্যিই আত্মহত্যাই করেছেন কি না বিদিশা তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। যদিও বিদিশার মৃত্যুর জন্য এখনও তাঁর পরিবারের তরফে কোনও অভিযোগ হয়নি। নাগেরবাজার থানা একটি অস্বাভাবিক মৃত্যুর কেস রুজু করেছে এবং সেই মামলার পরিপ্রেক্ষিতেই গোটা ঘটনার তদন্তে নেমেছে নাগেরবাজার থানার পুলিশ। 

আরও পড়ুন- আত্মহত্যা না খুন? মৃত্যুর ২০ ঘন্টা আগেই ফেসবুকের প্রোফাইল ও কভার ফটো বদল বিদিশার

আরও পড়ুন- 'আমার শত্রুর শেষ নেই' বডি শেমিং অভিযোগের ইস্যুতে মুখ খুললেন তসলিমা নাসরিন

আরও পড়ুন- এ কি গুলি করে খুন করা হল পল্লবীকে? দৃশ্য দেখে হতবাক পুলিশ আধিকারিকরা

জানা গেছে যে নাগেরবাজার এলাকার ভাড়া বাড়িতে মাস দেড়েক আগে থাকতে এসেছিলেন বছর ২১-এর মডেল-অভিনেত্রী বিদিশা। তবে জীবনের শুরুতেই কেন এইভাবে জীবন শেষ করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিলেন বিদিশা তা নিয়েই উঠছে প্রশ্ন। বিদিশার ঘর থেকে একটি সুইসাইড নোট ও উদ্ধার করেছে পুলিশ, যেখানে লেখা রয়েছে 'কেরিয়ার নিয়ে সমস্যায় ছিলাম। মনস্থির রাখতে না পেরে এই পথ বেছে নেওয়া। আমার মৃত্যুর জন্য কেউ দায়ী নয়।' এমন কি পুলিশ সূত্রে এও জানা গেছে যে 'এর আগেও না কি দুই বার আত্মহত্যার চেষ্টা করেছিলেন বিদিশা। কিন্তু তাঁর বন্ধুরা এই কাজ করা থেকে তাঁকে আটকে নেন। বুধবারও ভোর রাত পর্যন্ত বিদিশাকে বোঝানোর চেষ্টা করে তার এক বান্ধবী। অবশেষে শেষরক্ষা হয়নি। 

এক্ষেত্রে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হাতে এসেছে পুলিশের। টেলি অভিনেত্রী পল্লবী দে- র মতোই এক্ষেত্রে শোনা যাচ্ছে প্রেমিকের সঙ্গে সমস্যার খবর। বিদিশার ঘনিষ্ঠ সূত্রে জানা গেছে যে একতরফা ভালবাসা ছিল তাঁর। প্রায়ই দামি উপহার দিতেন প্রেমিককে। বিদিশার উপার্জন ভাল থাকায় প্রেমিকের পাশাপাশি নিজের পরিবারকেও দেখতেন। ইনস্টাগ্রামে নিজের ছবি দিয়ে একটি পোস্টে বিদিশা লিখছিলেন, 'কী অদ্ভুত পরিস্থিতি! ও আমার হবে না, কোনও দিন। আমি ওকে ছাড়া থাকতে পারব না, কোনও দিন।' সুতরাং সত্যিই অবসাদ তাঁকে গ্রাস করেছে না কি কোনও তৃতীয় ব্যক্তির প্ররোচনায় এমন সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছেন বিদিশা তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।