দুই বছর পর লা-লিগা হাতছাড়া হয়েছে বার্সেলোনার। এই মরশুমের শুরুতেই দলে কিছু উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এনেছিল বার্সেলোনা। লিভারপুল থেকে আসা তারকা মিডফিল্ডার ফিলিপ কুটিনহো আগের মরশুমে প্রত্যাশা অনুযায়ী পারফরম্যান্স করতে পারেননি। তাই এই মরশুমে তাকে বায়ার্ন মিউনিখে লোনে পাঠিয়ে সেই জায়গায় আনা হয়েছিল আতলেতিকো মাদ্রিদের তারকা ফুটবলার আঁন্তোনিও গ্রিজম্যান-কে। মিডফিল্ড শক্তিশালী করতে আয়াক্স থেকে আনা হয়েছিল তরুন ডাচ মিডফিল্ডার ফ্রাঙ্কি দি জং-কে। তবুও গোটা মরশুম জুড়ে মেসি নির্ভরতা কাটিয়ে উঠতে পারলোনা বার্সা। 

আরও পড়ুনঃ'গায়ের রং কালো বলে কেউ আমার খাওয়ার টেবিলে বসত না',সতীর্থদের বিরুদ্ধে অভিযোগ মাখায়া এনতিনির

এই মরশুমে লা-লিগায় সবথেকে বেশি গোল করেছে বার্সেলোনা। লিগে এবার মোট ৮১ টি গোল করেছে তারা। কিন্তু তার মধ্যে অর্ধেকেরও বেশি গোলে অবদান হয়েছে লিও মেসির। এর থেকেই বোঝা যায় কতটা মেসি-নির্ভরশীল বার্সেলোনা। নিন্দুকেরা অবশ্য এই ব্যাপারের জন্য দোষ দেন বার্সা ম্যানেজারদের। এর আগে আর্নেস্তো ভালভার্ডে কিংবা বর্তমানের কিকে সেটিয়েন কেউই খুব একটা হাই-প্রোফাইল কোচ নন। ফলে মেসি-কে কিকরে সামলাতে হবে সেই ধারণা তাদের নেই। যার জন্য অনেক বেশি দায়িত্ব গিয়ে পড়ে মেসির কাঁধে। দলে থাকা অন্য দুর্দান্ত ফুটবলারেরা হয়ে যান দ্বিতীয় সারির খেলোয়াড়, যা কোনওদিন জাভি, ইনিয়েস্তা, পুয়োল-দের ক্ষেত্রে হয়নি। ফলে দল হয়ে পড়ে মেসি-নির্ভর। যার জন্য আগের মরশুমে মাত্র একটি ট্রফি আসার পর এই মরশুমে এখনও অবধি তিনটে ট্রফি হাতছাড়া হয়েছে। 

আরও পড়ুনঃএখনই অবসর নয়, ৪০-এও দেশের সেরাদের বিরুদ্ধে স্কিলের লড়াইতে নামতে প্রস্তুত ভাজ্জি

আরও পড়ুনঃ'ধোনি একাই একটা সিরিজ পাকিস্তানকে হারিয়ে দিয়েছিল',মাহির প্রশংসা করে বললেন কামরান আকমল

দলের সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স দেখে হতাশ মেসি নিজেও। এখনও চ্যাম্পিয়ন্স লিগে টিকে রয়েছে বার্সেলোনা। কিন্তু হতাশ মেসি জানিয়েছেন এই পারফরম্যান্সের দৌলতে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ধারেকাছেও পৌঁছনো যাবে না। অনেকে মেসির এই বক্তব্যের সমালোচনা করে বলছেন দলের খারাপ অবস্থায় একজন অধিনায়কই যদি এত নেতিবাচক মানসিকতা সম্পন্ন হয়ে পড়েন তবে দলের বাকি খেলোয়াড়দের ওপর তা খুব খারাপ প্রভাব ফেলবে। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে দাঁড়িয়ে মেসির বক্তব্যকে ভুল বলতে পারবেননা কেউই। লা-লিগা শেষ হলে সামনেই রয়েছে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ম্যাচ। সেখানে নাপোলির বিরুদ্ধে শেষ-ষোলোর দ্বিতীয় পর্বের ম্যাচ খেলবে বার্সেলোনা। জিতলে তারপর খেলতে হবে বায়ার্ন মিউনিখের বিরুদ্ধে। মেসি-ম্যাজিকের প্রত্যাশায় এখন থেকেই বুক বাঁধছেন বার্সেলোনা ভক্তরা।