সন্দীপ মজুমদার, হাওড়া: এ যেন উলটপুরাণ! করোনার আতঙ্ক নয়, বরং পরিযায়ী শ্রমিকদের পাশে দাঁড়ালেন এলাকায় আশাকর্মীরাই। বিতরণ করা হল রান্না করা খাবার ও জল। মানবিকতার নজির হাওড়ার বাগনানে।

আরও পড়ুন: কোয়ারেন্টাইন সেন্টারে 'খুনের চেষ্টা', রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার এক পরিযায়ী শ্রমিক

সংক্রমণ ছড়াবে না তো? করোনা আতঙ্কে নজরে পরিযায়ী শ্রমিকরা। লকডাউনের জেরে কাজ হারিয়ে দলে শ্রমিক ফিরছেন রাজ্যে। ফেরার পর তাঁদের কোথায় কোয়ারেন্টাইন রাখা হবে? তা নিয়ে বিক্ষোভ-অবরোধ চলছে রাজ্যের প্রায় সর্বত্রই। সংক্রমণের আতঙ্ক এতটাই যে, কোথাও কোয়ারেন্টাইন সেন্টার খোলা নিয়ে আপত্তি তুলছেন স্থানীয়েরা, তো কোথাও সরকারি স্কুলে পরিযায়ী শ্রমিকদের থাকতে দেওয়া হচ্ছে না। এবার উল্টো ঘটনা ঘটল বাগনানের কল্যাণপুর পঞ্চায়েতে।

রাজ্যের অন্য জেলার মতো হাওড়ায়ও পরিযায়ী শ্রমিকের সংখ্যা কম নয়। ফেরার পর বাগনানের পানিত্রাস উচ্চ বিদ্যালয়ে ছিলেন ৭২ জন পরিযায়ী শ্রমিক। এখন অন্তঃস্বত্ত্বা মহিলা-সহ রয়েছে ৩২ জন। চারজনের আবার করোনা সংক্রমণ ধরা পড়েছে। স্থানীয় কয়েক জন আশাকর্মীর উদ্যোগে মূল অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয় এই পানিত্রাস উচ্চ বিদ্যালয়েই। 'দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠুন', এই কামনায় ভিন রাজ্য থেকে আগতদের সংবর্ধনা দেন উদ্যোক্তারা। এলাকার অন্য কোয়ারেন্টাইন সেন্টারগুলিতে যাঁরা রয়েছেন, সংবর্ধনা পান তাঁরাও। সকলের হাতে তুলে দেওয়া রান্না খাবার ও পানীয় জল।  আশা কর্মী স্বপ্না হালদার বলেন, 'পরিযায়ী শ্রমিকরা পেটে দায়ে ভিন রাজ্যে কাজ করতে গিয়েছিলেন। তাঁরা আমাদের দাদা কিংবা ভাইয়ের মতোই। দূরে ঠেলে দেওয়া নয়, বরং ওঁদের সুস্থ করে তুলতে হবে।' 

আরও পড়ুন: ভক্ত সমাগমে 'গোষ্ঠী সংক্রমণে'র আশঙ্কা, তারাপীঠে অচলাবস্থা অব্যাহত

করোনা পরিস্থিতি এলাকার আশাকর্মীদের কাজের প্রশংসা করেছেন বাগনাগ ১ নম্বর ব্লকের বিডিও সত্যজিৎ বিশ্বাসও। তিনি বলেন, 'ভিন রাজ্য থেকে আগতদের যখন হোম কোয়ারেন্টাইনে রাখার সিদ্ধান্ত হয়, তখন থেকে তাঁদের দেখভাল করছেন আশাকর্মীরা। পরবর্তীকালে কোয়ারেন্টাইন সেন্টারেও একই ভূমিকা পালন করছেন তাঁরা।' উল্লেখ্য ২৬ মে বাগনানের পানিত্রাস উচ্চ বিদ্যালয়ে পরিযায়ী শ্রমিকদের জন্য কোয়ারেন্টাইন সেন্টার চালু করেন আশাকর্মীরাই।