জেলার পরিস্থিতি যে 'খুবই স্পর্শকাতর', সেকথা স্বীকার করে নিয়েছেন খোদ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। হাওড়ায় কোয়ারেন্টাইন সেন্টার, করোনা হাসপাতাল-সহ বেশ কয়েকটি এলাকা পরিদর্শন করলেন কেন্দ্রীয় প্রতিনিধি দলের সদস্যরা।

আরও পড়ুন: হাওড়ায় করোনায় আক্রান্ত আরপিএফ জওয়ান, ব্যারাক সিল করে দিল পুলিশ

গোষ্ঠী সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়বে না তো? রাজ্যের করোনা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে প্রশাসনের। সম্প্রতি দেশের ১৭০টি জেলাকে  সংক্রমণের হটস্পট বলে ঘোষণা করেছে কেন্দ্রীয় সরকার। সেই তালিকায় রয়েছে হাওড়া-সহ রাজ্যের চারটি জেলাও। সপ্তাহ খানেক নবান্ন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে জেলাশাসক ও পুলিশ সুপারদের সঙ্গে জরুরি বৈঠক করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বৈঠকে হাওড়ার পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি। বলেন, 'খুব খারাপ জায়গায় এসেছে হাওড়ার পরিস্থিতি। সকলকে বলছি, রাস্তায় বেরোবেন না। দরকার হলে পুলিশ বাড়ি গিয়ে খাবার পৌঁছে দেবে। না হলে হাওড়াকে আটকাতে পারব না।' বস্তুত, করোনা সংক্রমণের নিরিখে হাওড়া 'রেড জোন'।  ১৪ দিনের মধ্যে জেলাকে অরেঞ্জ জোনে আনার জন্য জেলাশাসককে নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। 

আরও পড়ুন: করোনা আতঙ্কে রেলব্রিজ থেকে ঝাঁপ, খড়গপুরে আত্মহত্যার চেষ্টা আরপিএফ জওয়ানের

আরও পড়ুন: লকডাউনের জেরে দিন কাটছিল খোলা আকাশের নিচে, বেঘোরে প্রাণ গেল এক রিক্সাচালকের

উলুবে়ড়িয়ার ফুলেশ্বরের সঞ্জীবনী হাসপাতালে করোনা আক্রান্তদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করেছে প্রশাসন। কোয়ারেন্টাইন সেন্টার চালু করা হয়েছে ডুমুলজলা স্টেডিয়ামের অব্যবহৃত অংশে। শুক্রবার প্রথমে ডুমুরজলা স্টেডিয়ামে যান কেন্দ্রীয় প্রতিনিধি দলের সদস্যরা। কোয়ারেন্টাইন সেন্টার যাঁরা আছেন, তাঁদের সঙ্গে কথা বলেন। সেখানকার যাবতীয় তথ্য কেন্দ্রের প্রতিনিধিরা সংগ্রহ করেছেন বলে জানা গিয়েছে। পরবর্তী গন্তব্য ছিল, ফুলেশ্বরের সঞ্জীবনী কোবিভ হাসপাতাল। চিকিৎসক ও নার্সদের সঙ্গে কথা বলাই শুধু নয়, সংক্রমিতদের কী পদ্ধতিতে চিকিৎসা করা হচ্ছে, সেবিষয়ে খোঁজ খবর নেন কেন্দ্রীয় প্রতিনিধি দলের সদস্যরা।

করোনা সতর্কতায় লকডাউন ঠিকমতো মানা হচ্ছে তো? শুক্রবার উত্তর হাওড়ায় হরগঞ্জ বাজার, অরবিন্দ রোড ও সালকিয়া চৌরাস্তা মতো ব্য়স্ত এলাকাগুলিও ঘুরে দেখেন কেন্দ্রীয় প্রতিনিধিরা। কথা কর্তব্যরত পুলিশ আধিকারিকদের সঙ্গেও।  হাওড়ার পরিস্থিতি খতিয়ে দেখে কেন্দ্রীয় প্রতিনিধি দলের সদস্যরা সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তেমনটাই জানিয়েছেন জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক ভবানী দাস। এদিকে হাওড়া উলুবেড়িয়া আবার এক আরপিএফ জওয়ান করোনা আক্রান্ত হয়েছেন। ব্যারাক আগেই সিল করে দিয়েছিল পুলিশ। শুক্রবার উলুবেড়িয়া স্টেশন রোডও বন্ধ করে দিল প্রশাসন।