সোমবার থেকে শুরু হয়েছে সংসদের শীতকালীন অধিবেশন। এটি রাজ্যসভার ২৫০তম অদিবেশনও বটে। এই উপলক্ষ্যে এদিন সভায বক্তব্য রাখেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তবে এর পাশাপাশি এদিন রাজ্যসভায় আরও একটি বড় পরিবর্তন দেখা গিয়েছে। স্পিকার অর্থাৎ উপরাষ্ট্রপতির পাশে যে মার্শালরা থাকেন, তাদের পোশাকে আমূল পরিবর্তন ঘটেছে।

ভারতীয়ত্ব ছেড়ে সেনাসূলভ সাজ

এতদিন স্পিকারকে সভার কার্যক্রমে সহায়তা করা মার্শাল ও ডেপুটি মার্শালদের পরণে থাকত সাদা রঙের বন্ধগলা কোট, ও মাথায় থাকত সাফা। এদিন দেখা যায়, তাঁদের পোশাক পাল্টে গিয়ে অনেকটাই সেনা আধিকারিকদের মতো হয়েছে। পরণে ছিল গাঢ় নীল রঙের কোট ও মাথায় ছিল সেনাদের মতোই পিক টুপি। টুপি ও কোট দুই জায়গাতেই সেনাদের মতো সোনালি রঙের ডোরাকাটা দাগ ও তারাও রয়েছে নয়া পোশাকে।

দুই সময়ে, দুই পোশাক    

জানা গিয়েছে, এটা ২৫০তম রাজ্যসভার অধিবেশন উপলক্ষ্যে বিশেষ কোনও সাজ নয়, এবার থেকে মার্শালরা এইরকম পোষাকই পরবেন। শীতকালীন অধিবেশনে পোশাকের রঙ হবে গাঢ় নীল, আর গ্রীষ্মকালীন অধিবেশনে নকশা এক থাকলেও রঙ পাল্টে হবে সাদা।     

কেন এই বদল?

অনেকেই মনে করেছিলেন রাজ্যসভার ২৫০তম অধিবেশন উপলক্ষ্যেই বোধহয় মার্সালদের এই মেকওভার। কিন্তু পরে জানা যায়, গত ছয় মাস ধরেই মার্শালদের পোশাকের এই পরিবর্তন করার কথা ভাবা হচ্ছিল। কারণ এতদিন রাজ্যসভার সাংসদদের সহায়তা করার জন্য যেসব কর্মচারীরা থাকেন, তাঁদের সঙ্গে মার্শালদের পোশাকের কোনও তফাত ছিল না। তাই রাজ্যসভার সাধারণ কর্মীদের সঙ্গে মার্সালদের গুলিয়ে ফেলতেন অনেকেই। এই কারণেই মার্শালদের আলাদা পোশাক করা হল।

শুরুতেই বিরোধিতা, টিকল না ধোপে

তবে মার্শালদেরসএই পোশাক পরিবর্তন নিয়ে এদিন রাজ্যসভার শুরুতেই কংগ্রেস নেতা জয়রাম রমেশ এই নিয়ে আপত্তি তোলেন। তবে তাঁর কথাকে পাত্তা দেননি উপরাষ্ট্রপতি তথা স্পিকার বেঙ্কাইয়া নাইডু। তিনি পরিষ্কার জানিয়ে দেন, গুরুত্বপূর্ণ সময়ে এইসব অপ্রয়োজনীয় বিষয় নিয়ে তিনি কোনও আলোচনা চান না।

শেষ কথা

এই নতুন পোশাকের নকশা চূড়ান্ত করেছেন মার্শালরা নিজেরাই। তার আগে অবশ্য রাজ্যসভার পক্ষ থেকে ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব ডিজাইন-এর পরামর্শ নেওয়া হয়। দেশের বেশ কয়েকটি বিধানসভাতেও এই ধরণের পোশাক পরেন মার্শালরা।