8th Pay Commission:অষ্টম বেতন কমিশন কার্যকর হলে কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারীদের বেতন কতটা বাড়বে তা নিয়ে জল্পনা চলছে। তবে, প্রধানমন্ত্রীর বেতন এই কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী নির্ধারিত হয় না, বরং ১৯৫২ সালের একটি পৃথক আইনের অধীনে পড়ে।
8th Pay Commission: অষ্টম বেতন কমিশন বর্তমানে কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারীদের মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত বিষয়। নতুন ব্যবস্থা কার্যকর হওয়ার পর বেতন কতটা বাড়বে, সেদিকেই সবার নজর। ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর থেকে শুরু করে নতুন বেতন কাঠামো পর্যন্ত নানা জল্পনা-কল্পনা চলছে। এরই মধ্যে অনেকের মনে একটি প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে: অষ্টম বেতন কমিশনের পর ভারতের প্রধানমন্ত্রীর বেতন কি অন্যান্য কর্মচারীদের মতো বাড়বে? এর উত্তর জানতে হলে এটা বোঝা জরুরি যে, প্রধানমন্ত্রী এবং কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারীদের বেতন নির্ধারণ প্রক্রিয়া এক নয়।
কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারীদের বেতনের উপর এর প্রভাব কী হবে?
অষ্টম কেন্দ্রীয় বেতন কমিশনকে কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারী এবং পেনশনভোগীদের বেতন, ভাতা এবং পেনশন পর্যালোচনা করার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। কমিশন সরকারের কাছে তাদের সুপারিশ জমা দেবে এবং সেগুলি বাস্তবায়নের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তাই, কর্মচারীদের বেতন কতটা বাড়বে তা এখনও স্পষ্ট নয়। ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর নিয়ে বিভিন্ন অঙ্ক নিয়ে আলোচনা চলছে, কিন্তু সরকার এখনও কোনো চূড়ান্ত অঙ্ক ঠিক করেনি।
প্রধানমন্ত্রীর বেতন গণনার পদ্ধতি ভিন্ন কেন?
এখান থেকেই পুরো বিষয়টি পাল্টে যায়। একজন সাধারণ কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারীর মতো প্রধানমন্ত্রীর বেতন কোনো বেতন কমিশন দ্বারা নির্ধারিত হয় না। ১৯৫২ সালের ‘মন্ত্রীদের বেতন ও ভাতা আইন’-এ প্রধানমন্ত্রী এবং কেন্দ্রীয় মন্ত্রীদের বেতন ও ভাতার বিধান রয়েছে। সুতরাং, অষ্টম বেতন কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়নের অর্থ এই নয় যে প্রধানমন্ত্রীর বেতন স্বয়ংক্রিয়ভাবে বেড়ে যাবে। অন্য কথায়, কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারী এবং প্রধানমন্ত্রী উভয়েই কেন্দ্রীয় সরকার থেকে বেতন পান, কিন্তু তাঁদের বেতন নির্ধারণের নিয়ম ভিন্ন।
তাহলে, প্রধানমন্ত্রীর বেতন কি বাড়তে পারে না?
বাড়তে পারে, কিন্তু তার জন্য একটি ভিন্ন প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হবে। প্রধানমন্ত্রীর বেতনের পরিবর্তনকে সরাসরি অষ্টম বেতন কমিশনের সুপারিশের সঙ্গে যুক্ত করা সঠিক হবে না। অষ্টম বেতন কমিশন কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারী এবং পেনশনভোগীদের বেতন ও পেনশন পর্যালোচনা করছে। প্রধানমন্ত্রীর বেতন একটি পৃথক আইনি কাঠামোর অধীনে পড়ে। সুতরাং, কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়িত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই প্রধানমন্ত্রীর বেতন বেড়ে যাবে, একথা বলা সঠিক নয়।


