ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর ভুটানের বিদেশমন্ত্রী লিয়েনপো ডিএন ধুঙ্গেলের সঙ্গে দেখা করেছেন। সেখানে তিনি জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র, হাসপাতাল ও সেতু-সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামো, শক্তি ও স্বাস্থ্য প্রকল্পের উদ্বোধন করেন। এর ফলে ভারত-ভুটান সম্পর্ক আরও মজবুত হলো।
ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর বুধবার ভুটানের বুমথাংয়ে সেদেশের বিদেশমন্ত্রী লিয়েনপো ডিএন ধুঙ্গেলের সঙ্গে বৈঠক করেন। তিনি নিজের এই সরকারি সফরে দুই দেশের মধ্যে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামো, শক্তি ও স্বাস্থ্য প্রকল্পের উদ্বোধন করেছেন।
দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা
ভুটানের বিদেশ ও বাণিজ্যমন্ত্রী ধুঙ্গেলের আমন্ত্রণে ১৬ থেকে ১৭ সেপ্টেম্বর ভুটানে সরকারি সফরে গিয়েছেন জয়শঙ্কর। বৈঠকে দুই নেতা উন্নয়ন, শক্তি, বাণিজ্য, যোগাযোগ এবং সংস্কৃতির মতো নানা বিষয়ে 'ব্যাপক সহযোগিতা' নিয়ে আলোচনা করেন।
বুমথাংয়ে তাঁকে আতিথেয়তা দেওয়ার জন্য ভুটানের বিদেশমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান জয়শঙ্কর। তিনি বলেন, এই আলোচনা দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের 'আস্থা ও সদিচ্ছা'-রই প্রমাণ।
এক্স (X) হ্যান্ডেলে নিজেদের বৈঠকের কথা তুলে ধরে জয়শঙ্কর লেখেন, "ভুটানের বিদেশমন্ত্রী লিয়েনপো ডিএন ধুঙ্গেলের সঙ্গে দেখা করে এবং আমাদের ব্যাপক সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা করতে পেরে আমি আনন্দিত। বুমথাংয়ের মতো আধ্যাত্মিক ও ঐতিহাসিক কেন্দ্রে আমাকে আমন্ত্রণ জানানোর জন্য তাঁকে ধন্যবাদ।" তিনি আরও লেখেন, "উন্নয়নমূলক অংশীদারিত্ব, শক্তি, বাণিজ্য, যোগাযোগ, সংস্কৃতি এবং মানুষের সঙ্গে মানুষের সম্পর্ক এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার দিকেই আমাদের আলোচনা ফোকাস করেছে। আজকের এই আলোচনা আমাদের সম্পর্কের আস্থা, সদিচ্ছা এবং উষ্ণতারই প্রতিফলন।"
ভারত-ভুটান সম্পর্ক মজবুত করছে মেগা প্রজেক্ট
বৈঠকের পর ভুটানের বিদেশমন্ত্রীর সঙ্গে মিলে জয়শঙ্কর সেদেশে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামো, শক্তি ও স্বাস্থ্য প্রকল্পের সূচনা করেন। এর মাধ্যমে ভারত-ভুটান সম্পর্কের দীর্ঘস্থায়ী শক্তি আরও একবার প্রমাণিত হলো।
এক্স-এ এই উন্নয়নের কথা শেয়ার করে জয়শঙ্কর জানান, বিদেশমন্ত্রী ধুঙ্গেলের সঙ্গে তিনি "উত্তর ভুটানের গাসায় ৫০০ কিলোওয়াট লুনানা জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছেন।" এই প্রকল্পটিকে তিনি একটি "গর্বের মাইলফলক" হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, "১৯৬৭ সালে থিম্পুতে ভুটানের প্রথম জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র 'জংশিনা' থেকে শুরু করে আজ ভুটানের শেষ বিদ্যুৎহীন গ্রামগুলোকে যুক্ত করা— আমাদের দীর্ঘদিনের শক্তি সহযোগিতার এক দারুণ উদাহরণ।"
পূর্ব ভুটানে চিকিৎসা পরিকাঠামো এবং আঞ্চলিক যোগাযোগ বাড়ানোর দিকেও এই সফরে নজর দেওয়া হয়েছে। ডঃ জয়শঙ্কর বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্বোধনের কথা উল্লেখ করেন। এর মধ্যে রয়েছে "মঙ্গারে ৬৫ শয্যার গ্যালতসুয়েন জেটসুন পেমার মাদার অ্যান্ড চাইল্ড হাসপাতালের উদ্বোধন।" তিনি জানান, "এই অত্যাধুনিক হাসপাতালটি পূর্ব ভুটানে উন্নত মানের এবং বিশেষায়িত মা ও শিশু চিকিৎসার সুযোগ আরও বাড়াবে।"
স্বাস্থ্য ও শক্তি ক্ষেত্রের পাশাপাশি, বাণিজ্য ও যাতায়াত বাড়াতে নতুন ট্রানজিট পরিকাঠামোরও উদ্বোধন করেছে প্রতিনিধি দলটি। ডঃ জয়শঙ্কর "সামদ্রুপ জংখারে ৮০ মিটার দীর্ঘ জগন্নাথন সেতুর উদ্বোধনের" কথা উল্লেখ করেন। তিনি জানান, "প্রজেক্ট দন্তকের তৈরি এই ভুটান-ভারত মৈত্রী প্রকল্পটি পূর্ব ভুটানের ত্রাশিগাং এবং সামদ্রুপ জংখারের মধ্যে যোগাযোগ আরও উন্নত করবে।"
এগিয়ে চলেছে 'বন্ধুত্বের অনন্য সম্পর্ক'
১৬ থেকে ১৭ সেপ্টেম্বর সরকারি সফরের অংশ হিসেবে এদিন সকালেই ভুটানের পারো-তে পৌঁছান বিদেশমন্ত্রী জয়শঙ্কর। তিনি জানান, ভুটানের সঙ্গে ভারতের "বন্ধুত্বের অনন্য সম্পর্ক" আরও এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যেই তিনি কাজ করতে চান।
এক্স-এ একটি পোস্টে জয়শঙ্কর বলেন, “কুজুজাংপো লা ভুটান! আজ পারো-তে পৌঁছাতে পেরে আমি আনন্দিত। উষ্ণ অভ্যর্থনার জন্য লিয়েনপো ডিএন ধুঙ্গেল @FMBhutan-কে ধন্যবাদ।" ভারতের বিদেশমন্ত্রীকে স্বাগত জানাতে সেখানে উপস্থিত ছিলেন ভুটানের বিদেশমন্ত্রী লিয়েনপো ডিএন ধুঙ্গেল।
জয়শঙ্কর আরও জানান, "আমাদের বন্ধুত্বের অনন্য সম্পর্ককে এগিয়ে নিয়ে যেতে" তিনি এই সফরের দিকে তাকিয়ে আছেন।
বিদেশ মন্ত্রকের সরকারি প্রেস বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, এই সফরে ভুটানের বিদেশমন্ত্রীর সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করবেন জয়শঙ্কর। পাশাপাশি, তিনি ভুটানের রাজা জিগমে খেসার নামগিয়েল ওয়াংচুকের সঙ্গেও দেখা করবেন এবং ভুটানের প্রধানমন্ত্রী শেরিং তোবগের সঙ্গেও সাক্ষাৎ করবেন।
মন্ত্রকের তরফে জানানো হয়েছে, "ভারত ও ভুটানের মধ্যে নিয়মিত উচ্চপর্যায়ের আদানপ্রদানের যে ঐতিহ্য রয়েছে, এই সফর তারই অংশ। এর ফলে দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান ঘনিষ্ঠ বন্ধুত্ব ও সহযোগিতার সম্পর্ক আরও মজবুত হবে।" ভারতের 'প্রতিবেশী প্রথম' (Neighbourhood First) নীতির ক্ষেত্রে এই সফর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।


