মক্কার কাছে ড্রোন হামলার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ভারত। সৌদি আরবের সার্বভৌম ভূখণ্ডে এই ধরনের হামলার কড়া নিন্দা জানিয়েছে নয়াদিল্লি। ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের ছোঁড়া একটি ড্রোন মাঝপথেই ধ্বংস করার দাবি করেছে সৌদি জোট। তবে পবিত্র শহরটিতে হামলার কথা অস্বীকার করেছে হুথিরা।
ভারত বুধবার মক্কার কাছে ড্রোন হামলার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। সৌদি আরবের সার্বভৌম ভূখণ্ডে এই ধরনের হামলার কড়া নিন্দাও জানিয়েছে তারা। ভারতের মতে, এই ধরনের কাজ সাধারণ মানুষের জীবন ও পরিকাঠামোর জন্য চরম বিপজ্জনক।
মক্কার কাছে ড্রোন হামলা নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, "মক্কার কাছে ড্রোন হামলার ঘটনায় আমরা গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। সৌদি আরবের সার্বভৌম ভূখণ্ডে হামলা এবং সাধারণ মানুষের জীবন ও পরিকাঠামো বিপন্ন করার মতো কাজের ভারত আবারও কড়া নিন্দা করছে।" জয়সওয়াল আরও বলেন, "মক্কার কাছের এই ঘটনাটি বিশেষভাবে উদ্বেগজনক। কারণ, সারা বিশ্বের মুসলিমদের কাছে এই শহরের একটি বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে।"
ওই অঞ্চলে দ্রুত শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফিরে আসবে বলেও ভারত আশা প্রকাশ করেছে। বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র বলেন, "আমরা আশা করছি ওই অঞ্চলে খুব তাড়াতাড়ি শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফিরে আসবে।"
সৌদি জোটের কড়া হুঁশিয়ারি
এর আগে বুধবার, সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট কড়া ভাষায় হুঁশিয়ারি দেয়। তারা জানায়, ইসলামের দুটি পবিত্রতম স্থানের নিরাপত্তা তাদের কাছে 'রেড লাইন' বা চূড়ান্ত সীমারেখা। পবিত্র শহর মক্কা আল-মুকাররমার (যা মক্কা নামেই বেশি পরিচিত) দক্ষিণে ইয়েমেনের হুথিদের ছোঁড়া একটি ড্রোন মাঝপথেই আটকে ধ্বংস করে দেয় সৌদি বায়ুসেনা।
বুধবার জোটের দেওয়া একটি বিবৃতি অনুযায়ী, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় রয়্যাল সৌদি এয়ার ডিফেন্স ফোর্সেস ওই ড্রোনটিকে আটকে দেয়। মক্কার চারপাশের নিষিদ্ধ আকাশসীমায় ঢোকার আগেই সেটিকে ধ্বংস করা হয়।
জোটের মুখপাত্র মেজর জেনারেল তুর্কি আল-মালকি এই ঘটনাকে একটি "শত্রুতাপূর্ণ ও সন্ত্রাসী কাজ" বলে বর্ণনা করেছেন। তাঁর দাবি, "সন্ত্রাসী হুথি মিলিশিয়া" এই ড্রোনটি ছুঁড়েছিল।
আল-মালকি বলেন, "দুটি পবিত্র মসজিদ এবং তীর্থযাত্রীদের নিরাপত্তা আমাদের কাছে রেড লাইন।" তিনি আরও জানান, হুথি আন্দোলনের বিরুদ্ধে "প্রয়োজনীয় ও কড়া প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নিতে" জোটের জয়েন্ট ফোর্সেস কম্যান্ড একটুও দ্বিধা করবে না।
জোটের মতে, মক্কাকে নিশানা করার এটি দ্বিতীয় চেষ্টা। এর আগে ২০১৭ সালের ২৭ জুলাই একটি ব্যালিস্টিক মিসাইল দিয়েও হামলার চেষ্টা করা হয়েছিল।
সাম্প্রতিক এই ঘটনাটিকে আল-মালকি "লক্ষ লক্ষ মুসলিমের হৃদয়ের গন্তব্য এবং পবিত্র ভূমিতে" হামলার চেষ্টা বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, তীর্থযাত্রীদের ভয় দেখানো এবং সাধারণ নাগরিকদের ক্ষতি করার জন্যই এই চেষ্টা করা হয়েছে।
মক্কায় হামলার কথা অস্বীকার হুথিদের
অন্যদিকে, বুধবার ইয়েমেনের হুথি আন্দোলন সৌদি আরবের এই দাবি পুরোপুরি খারিজ করে দিয়েছে। পবিত্র শহর মক্কার দিকে ড্রোন ছোঁড়ার অভিযোগকে তারা "বানোয়াট ও মিথ্যা" বলে উড়িয়ে দিয়েছে। তাদের দাবি, তারা শুধুমাত্র ইসলামিক পবিত্র স্থানগুলো থেকে অনেক দূরে থাকা সৌদি সামরিক ও তেল শোধনাগারগুলোতেই হামলা চালায়।
টেলিগ্রামে পোস্ট করা একটি বিবৃতিতে হুথিদের সামরিক মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইয়াহিয়া সারি সৌদি আরবের আল সৌদ প্রশাসনকে একহাত নিয়েছেন। তিনি এই অভিযোগকে একটি প্রতারণা বলে উল্লেখ করেছেন। পাশাপাশি, পবিত্র স্থানগুলোর জন্য বিদ্রোহী গোষ্ঠীটি কোনও হুমকি তৈরি করেছে, এমন কথাও তিনি অস্বীকার করেছেন।
সারি বলেন, হুথিদের অভিযানগুলো শুধুমাত্র "তেল শোধনাগার এবং সামরিক ঘাঁটিগুলোর দিকেই পরিচালিত হয়, যা পবিত্র স্থানগুলো থেকে অনেক দূরে অবস্থিত।"


