ADR Report: ADR রিপোর্ট: গত ৪ বছরে ১১১ জন সাংসদ-বিধায়ক দলবদল করেছেন, যার মধ্যে ২৬ শতাংশ যোগ দিয়েছেন বিজেপিতে। সবচেয়ে বেশি লাভবান কোন দল, রইল বিস্তারিত।

নির্বাচন কমিশনকে ঘিরে রিপোর্ট নিয়ে বিতর্কের মধ্যেই সামনে এলে আরও একটি চাঞ্চল্যকর তথ্য। ভারতে নির্বাচন নজরদারি সংস্থা অ্যাসোসিয়েশন ফর ডেমোক্র্যাটিক রিফর্ম বা ADR জানিয়েছে গত ২০২২ সাল থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত ১১১ জন সাংসদ ও বিধায়ক দলবদল করেছেন। যার অধিকাংশই বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন। বিজেপিতে যোগ দেওয়া জনপ্রিতিনিধি হল দলবদলের ২৯%। রিপোর্টে বলা হয়েছে দলবদলের ফলে দেশে লাভবান দলগুলির তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে এখনও পর্যন্ত রয়েছে বিজেপি।

প্রথম দল এনপিএফ

এডিআর রিপোর্ট অনুযায়ী দলবদলের ফলে সবথেকে লাভবান হয়েছে যে দলটি সেটি হল নাগাল্যান্ডের আঞ্চলিক দল নাগা পিপিলস ফ্রন্ট বা NPF। এই দলে যোগ দিয়েছেন ৩২ জন। যা মো দলবদলের ২৯ শতাংশ। এককভাবে কোনও নেতা NPF-এ যোগ দেননি। ২০২৫ সালে নাগাল্যান্ডের মুখ্যমন্ত্রী নেফুয়ু রিও-র দল ন্য়াশানাল ডেমোক্র্যাটিক প্রগ্রেসিভ পার্টি বা NDPP মূল দল এনপিএফ-এর সঙ্গে মিশে যায়। তাই এক ধাক্কায় ৩২ জন বিধায়ক দলবদল তালিকায় অন্তর্গত হয়। আগে এই দলে ছিলেন মাত্র ২ জন। এই হিসেবে একক ভাবে দলবদলের ক্ষেত্রে সবথেকে বেশি জনপ্রতিনিধি কিন্তু গিয়েছেন বিজেপিতে।

তৃতীয় স্থানে NCPI

দলবদলের ক্ষেত্রে তৃতীয় স্থানে লাভবান দলের তালিকায় রয়েছে এনসিপিআই। ত্রিপুরার অখ্যাত এই দলকে রাতারাতি বিখ্যাত করে দিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের ২০ সাংসদ। পশ্চিমবঙ্গের ২০ সাংসদ মোট দলবদলের ১৮ শতাংশ এই দলে গিয়েছেন। লোকসভা নির্বাচনের পরে রাতারাতি ভেঙে যায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূল কংগ্রেস। কাকলি-শতাব্দীরা এনসিপিতে নাম লেখান। তারা এনসিপিআই-তে যোগ দিয়ে স্পষ্ট করে জানিয়ে দেন তারা বিজেপিতে সমর্থন করবেন সংসদে। এনডিএ জোটের সদস্য বলেও তারা নিজেদের দাবি করতে থাকেন।

ADR রিপোর্ট

এডিআর রিপোর্ট প্রকাশ করেছে ২৪ সেপ্টেম্বর। তাতে বলা হয়েছে, দলবদলু ১১১ জনের মধ্যে ২১ জন লোকসভার সাংসদ। ৭ জন রাজ্যসভার আর ৭৮ জন বিধায়ক রয়েছে। শতাংশের হিসেবে ৫, ৩ ও ২ শতাংশ। ১৭টি রাজ্য ও কেন্দ্র শাসিত অঞ্চলে এই দলবদল ঘটেছে। এক নজরে দেখুন রাজ্যওয়াড়ি তালিকা

  • প্রথম স্থানে রেছে নাগাল্যান্ড (৩২ )
  • দ্বিতীয় স্থানে পশ্চিমবঙ্গ (২০)
  • তৃতীয় স্থানে তেলাঙ্গনা (৯)
  • গোয়া (৮)
  • পঞ্জাব (৮)

এডিআর-এর তরফ থেকে বলা হয়েছে তথ্যে সমস্যা থাকতে পারে। কারণ নির্বাচন কমিশনের তথ্য ভাণ্ডারে পদ্ধততিগতভাবে ,সংরক্ষিত ও সহজলভ্য তথ্যের অভাব রয়েছে।

বিজেপি-তে যোগ দেওয়া ২৯ জন আইনপ্রণেতার মধ্যে লোকসভার কোনও সদস্য নেই — এই তালিকায় রয়েছেন সাত জন রাজ্যসভা সাংসদ এবং ২২ জন বিধায়ক। উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, রাজ্যসভার এই সাতজনই প্রথমে আম আদমি পার্টির প্রতীকে জিতেছিলেন, পরে দল ছেড়ে বিজেপিতে নাম লেখান। এই তালিকায় আছেন রাঘব চাড্ঢা, হরভজন সিং, স্বাতী মালিওয়াল, অশোক মিত্তল, সন্দীপ কুমার পাঠক, বিক্রমজিৎ সিং ও রাজিন্দর গুপ্তা। এ ছাড়াও গোয়ায় কংগ্রেসের আট বিধায়ক, গুজরাটে কংগ্রেসের চার বিধায়ক এবং হিমাচল প্রদেশে দুই বিধায়ক দলবদল করে বিজেপির শিবিরে যোগ দিয়েছেন।

মোট ১১১ জন দলবদলু আইনপ্রণেতার মধ্যে ন'জন গিয়েছেন কংগ্রেসে, আট জন শিবসেনায়, ছয় জন এনপিপি-তে এবং চার জন পিপলস পার্টি অফ অরুণাচলে। যে দলগুলি থেকে সবচেয়ে বেশি নেতা বেরিয়ে গেছেন, তার শীর্ষে আছে নাগাল্যান্ডের এনডিপিপি, তার পরেই তৃণমূল কংগ্রেস এবং কংগ্রেস — এই তিনটি দল থেকেই সর্বাধিক সংখ্যক সাংসদ-বিধায়ক অন্যত্র পাড়ি দিয়েছেন। এই তথ্য তুলে ধরে এডিআর দেশের দলত্যাগ-বিরোধী আইনকে আরও কঠোর করার আবেদন জানিয়েছে, এবং দলবদল রুখতে একাধিক সুপারিশও পেশ করেছে সংস্থাটি।