গত কয়েকদিন ধরেই বাজিভর্তি আনারস খেয়ে গর্ভবতী হাতির মত্যু নিয়ে তোলপাড় হচ্ছে গোটা দেশে। কেরল সরকার থেকে কেন্দ্রের বিজেপি সরকার সবাই বিষয়টি নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া দিচ্ছে। কেরলের পালাক্কড় জেলার এই ঘটনা নিয়ে ইতিমধ্যে সক্রিয় হয়েছে পুলিশ, প্রশাসন। গ্রেফতার করা হয়েছে সন্দেহভাজনদের। ন্যায়বিবাচর মিলবে বলে পশুপ্রেমীদের আশ্বাসবাণী দিয়েছেন কেরলের মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়ন। যেভাবে বাজি ভর্তি আনারস খাইয়ে গর্ভবতী হাতিটিকে মারা হয়েছে তা দেখে রীতিমত  শিউরে উঠেছে গোটা দেশ। ঘটনার নিন্দায় মুখর হন একের পর এক সেলেবরাও। এই ঘটনার রেশ মিটতে না মিটতেই এবার হিমাচল প্রদেশে প্রায় একইরকম ঘটনার কথা জানা গেল। তবে এবারের ঘটনা ঘটেছে একটি গর্ভবতী গরুর সঙ্গে।

 

 

জানা যাচ্ছে গর্ভবতী গরুটির মুখ বিস্ফোরক দিয়ে উড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। ঘটনাস্থল বিলাসপুর জেলার ঝান্ডুতা এলাকা। গরুর মালিক গুরুদয়াল সিং এই ঘটনার জন্য প্রতিবেশী নন্দলালকে দায়ী করেছেন। তাঁর দাবি, নন্দলাল তাঁকে হিংসা করেন। সেই হিংসার বশবর্তী হয়েই তাঁর গরুকে ইচ্ছাকৃতভাবে আহত করেছেন নন্দলাল। ময়দার ভেতরে বিস্ফোরক ভরে তা জমিতে ফেলে রেখে আসে নন্দলাল। সেটাই খেয়ে ফেলে গরুটি। আর সেই কারণেই ঘটনার পর থেকে বেপাত্তা অভিযুক্ত। 

আরও পড়ুন: বাংলায় আমফানের তাণ্ডব দেখে বাকরুদ্ধ ফরাসি প্রেসিডেন্ট, দিলেন পুনর্গঠনের জন্য সাহায্যের বার্তা

আরও পড়ুন: বছরে আয় ১ কোটি, একসঙ্গে ২৫টি স্কুলে পড়িয়ে যোগী রাজ্যে চমকে দিলেন ছাপোষা শিক্ষিকা

প্রাথমিক ভাবে জানা গিয়েছে, খাবারে মোড়া বিস্ফোরক চিবিয়ে ফেলার ফলে চোয়াল উড়ে যায় গর্ভবতী গরুটির। মালিকের দাবি, গরুর  গলাতেও গভীর ক্ষত তৈরি হয়েছে। যদিও ভাগ্যক্রমে প্রাণে বেঁচে গিয়েছে সে। যদিও গরুটির অবস্থা বেশ খারাপ বলেই দাবি করছে তার মালিক। গুরুদয়াল সিং জানাচ্ছেন, গর্ভবতী গরুটির  চোয়াল থেকে প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়েছে। সম্ভবত আগামী কয়েক দিনের জন্য সে খেতেও পারবে না। আহত গরুটির একটি ভিডিও করে ন্যায়বিচার চেয়ে সোশ্যাল মিডিয়াতেও প্রচার শুরু করেছেন তিনি।

 

প্রায় ১০দিন আগে এই ঘটনা ঘটেছে বলে জানাচ্ছে পুলিশ। তাদের বক্তব্য, ময়দার মধ্যে বিস্ফোরক ভরে একটি আলু বোম বানানো হয়েছিল। সেটি গরুটির মুখের মধ্যে ফেটে যায়। ঘটনাটি যখন ঘটে, তখন গরুটি মাঠে ঘাস খেতে ব্যস্ত ছিল। কোনওভাবে সে বিস্ফোরক খেয়ে ফেলে বা তাকে ইচ্ছাকৃতভাবে বিস্ফোরক খাইয়ে দেওয়া হয়। গোটা বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। গরুটির মালিকের অভিযোগ পেয়ে পুলিশ একটি এফআইআরও দায়ের করেছে।