মামলার রায় ঘোষণার পরও যে এত নাটক বাকি থাকতে পারে তা নির্ভয়া কাণ্ডের মামলা না দেখলে জানা যেত না। এবার শোনা যাচ্ছে এই মামলায় সাজাপ্রাপ্ত চার দোষীর ফাঁসি হবে এক মঞ্চে একইসঙ্গে। আর তার জন্যই আপাতত তিহার জেলে নতুন করে একটি আরও বড় আকারের ফাঁসির মঞ্চ প্রস্তুত করা হচ্ছে।

এতদিন এই কেন্দ্রীয় কারাগারে যে ফাঁসির  মঞ্চ ছিল, তাতে একবারে একজন আসামীরই ফাঁসি দেওয়া যেত। নতুন মঞ্চটি প্রস্তুত হয়ে গেলে তিহারই দেশের প্রথম কারাগার হবে যেখানে একইসঙ্গে পাশাপাশি চার আসামিকে ফাঁসি দেওয়া যাবে। তিহার জেল সূত্রে জানা গিয়েছে, একটি জেসিবি মেশিন আনা হয়েছে কারাগারে। ফাঁসির কাঠামো তৈরির সঙ্গে সঙ্গে একটি সুড়ঙ্গও খনন করা হচ্ছে। এই সুড়ঙ্গ দিয়েই ফাঁসির পর আসামিদের লাশ নিয়ে যাওয়া হবে।

আরও পড়ুন - নির্ভয়া কাণ্ডের চার দোষীর ফাঁসিতেই ভাঙবে দাদুর রেকর্ড, গর্বিত পবন জল্লাদ

২০১৯ সালের ১৮ ডিসেম্বর নির্ভয়া গণধর্ষণ ও হত্যা মামলার আসামিদের সাত দিনের মধ্যে মার্সি পিটিশন দাখিল করার জন্য নোটিশ জারি করেছিল তিহার জেল কর্তৃপক্ষ। জবাবে, চার আসামির মধ্যে তিনজন কর্তৃপক্ষকে জানায় ক্ষমা প্রার্থনার আবেদনের আগে তাদের হাতে শেষ একটি আইনি পথ বাকি রয়েছে।  সুপ্রিম কোর্ট তাদের রিভিউ পিটিশন প্রত্যাখ্যান করলেও তারা কিউরেটিভ পিটিশন দাখিল করতে চায়।

আরও পড়ুন - নির্ভয়াকাণ্ডে মৃত্যুদণ্ড পুনর্বিবেচনার আর্জি, ফের আদালতে যাচ্ছে তিন সাজাপ্রাপ্ত অপরাধী

এর আগে দিল্লি হাইকোর্টে চার আসামির একজন দাবি করেছিলেন ২০১২ সালের ডিসেম্বরে অপরাধের সময় তিনি অপ্রাপ্তবয়স্ক ছিলেন। কিন্তু গত ১৯ ডিসেম্বর আদালত আচরণকে সেই দাবি খারিজ করে দেয়। আদালতে জাল নথি জমা দেওয়ার অভিযোগ করা হয় তার আইনজীবীর বিরুদ্ধে।

আরও পড়ুন - বরাত এল ১০টি ফাঁসির দড়ির, নির্ভয়া কাণ্ডের দোষীদের ঘিরে জোর জল্পনা

২০১২ সালের ১৬ ডিসেম্বর মধ্যরাতে এক প্যারামেডিক ছাত্রীকে দক্ষিণ দিল্লিতে একটি চলন্ত বাসের ভিতরে ছয়জন গণধর্ষণ করেছিল। তারপর তাঁকে গুরুতর আঘাত করে মৃতপ্রায় অবস্থায় রাস্তায় ফেলে দিয়ে যায় দুষ্কৃতীরা। ১২ দিন পর ২৯ ডিসেম্বর সিঙ্গাপুরের মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতালে তাঁর মৃত্যু হয়।

আরও পড়ুন - 'এমন অপরাধে ভগবানও কেঁদে ওঠেন', মৃত্যুদণ্ড বহাল নির্ভয়ার ধর্ষকের