নিট প্রশ্নফাঁসের বিষয়ে ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সির ভিতরেই গলদ ছিল কি? এই গুঞ্জন প্রথম থেকেই শোনা যাচ্ছিল। এমতাবস্থায় বড়সড় পদক্ষেপ করল কেন্দ্র। একধাক্কায় ৪৭ জন আধিকারিককে সরিয়ে দেওয়া হল। তাঁদের বিরুদ্ধে শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগও আনা হতে পারে বলে দাবি।

২০১৭ সালে স্থাপিত হয়েছিল ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি তথা এনটিএ। ১৫ থেকে ২০টি জাতীয় স্তরের পরীক্ষা পরিচালনার দায়িত্ব ছিল এই সংস্থার উপরে। নিট ইউজি, জেইই মেন ও সিইউইটির মতো পরীক্ষার দায়িত্ব এদের উপরই রয়েছে। সেই হিসেবে এটাই দেশের সবচেয়ে বড় পরীক্ষা নিয়ামক সংস্থা। এমন এক সংস্থাকে ঘিরে বিতর্ক ঘনিয়েছে সম্প্রতি। নিট প্রশ্নফাঁসের পরই শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের সাংবাদিক সম্মেলনে প্রশ্ন ওঠে, প্রশ্নপত্র ফাঁসে এনটিএ-র কেউ জড়িত নয় তো?

নিট প্রশ্নফাঁসের বিষয়ে ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সির ভিতরেই গলদ ছিল কি? এই গুঞ্জন প্রথম থেকেই শোনা যাচ্ছিল। এমতাবস্থায় বড়সড় পদক্ষেপ করল কেন্দ্র। একধাক্কায় ৪৭ জন আধিকারিককে সরিয়ে দেওয়া হল। তাঁদের বিরুদ্ধে শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগও আনা হতে পারে বলে দাবি।

এই বিষয়ে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বলেন, “সিবিআই বিষয়টি পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে তদন্ত করবে। সিবিআই একটি নির্ভরযোগ্য সংস্থা এবং তারা বিষয়টি সুষ্ঠুভাবে তদন্ত করবে।” এবার সেই এনটিএ-র বিরুদ্ধেই পদক্ষেপ করল কেন্দ্র।

বৃহস্পতিবার রাতে এক্স হ্যান্ডলে একটি ভিডিও বার্তা প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সাফ জানিয়ে দেন, তরুণদের ভবিষ্যৎ নিয়ে ছিনিমিনি খেললে রেহাই মিলবে না। তিনি বলেন, “আমি জানি, প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিষয়টি কোনও সাধারণ বা তুচ্ছ বিষয় নয়। এটি লক্ষ লক্ষ শিক্ষার্থী এবং তাদের অভিভাবকদের জন্য অত্যন্ত উদ্বেগজনক ও কষ্টদায়ক। তাই, প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনার পর গত আড়াই মাসে বেশ কিছু আইনি পদক্ষেপ করা হয়েছে। দোষীদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তারা এখন কারাগারে রয়েছে। শিক্ষার্থীদের শিক্ষাবর্ষ যাতে নষ্ট না হয় সেটা নিশ্চিত করাই আমাদের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।”

উল্লেখ্য এনটিএ-তে কর্মরতদের একটা বড় অংশই কাজ করত আউটসোর্সিংয়ে। ফলে প্রশ্নফাঁসের ঝুঁকি যে থেকেই যাচ্ছে তা মনে করেছিল ওয়াকিবহাল মহল। এবার বড়সড় পদক্ষেপ করে সেই দিকটিকেই বদলে এনটিএ-কে ঢেলে সাজাতে চাইছে কেন্দ্র। সূত্রের দাবি, কেন্দ্র আসলে এনটিএ-র কাজের পুরো পদ্ধতিই কেঁচে গণ্ডুষ করে ‘লিকপ্রুফ’ পরীক্ষা পদ্ধতি গড়তে চাইছে।