সীমান্ত উত্তেজনার জেরে দেশে চিনা পণ্য বয়কটের হিড়িক এবার চিনা প্রকল্প বাতিল করল মহারাষ্ট্র সরকার ৩টি চিনা সংস্থার সঙ্গে করা চুক্তি বাতিল করে দেওয়া হল ৫ হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগ হাতছাড়া বেজিংয়ের

গত কয়েকদিন হল অগ্নিগর্ভ হয়ে রয়েছে লাদাখে ভারত-চিন সীমান্ত। গালওয়ান উপত্যকায় ২০ জন সেনা শহিদ হওয়ার পর এখন দেশজুড়ে চলছে চিন বিরোধী স্লোগান। দলমত নির্বিশেষে চিনা পণ্য বয়কটের ডাক দেওয়া হচ্ছে। তার অংশ হিসাবেই সম্প্রতি ভারতীয় রেল চিনা সংস্থার সঙ্গে ৪১৭ কোটির চুক্তি বাতিল করেছে। দেশের টেলিকম ক্ষেত্রেও একই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রাষ্ট্রায়ত্ত্ব সংস্থা বিএসএনএল-কে ৪জি নেটওয়ার্ক আপগ্রেডেশনে চিনা সরঞ্জাম বর্জন করতে বলা হয়েছে। আর এই পরিস্থিতিতে এবার কড়া পদক্ষেপ নিল মহারাষ্ট্র সরকার। প্রতিবেশী দেশটির অনর্থক হামলার প্রতিবাদে মহারাষ্ট্রে বন্ধ করে দেওয়া হল চিনের ৩টি প্রকল্প। যাতে মোট বিনিয়োগের পরিমাণ ছিল ৫ হাজার কোটি টাকা।

Add Asianetnews Bangla as a Preferred SourcegooglePreferred

 ‘ম্যাগনেটিক মহারাষ্ট্র ২.০' আওতায় ৩টি তিনা সংস্থার সঙ্গে এই মউ স্বাক্ষর করেছিল মহারাষ্ট্রের অগধি সরকার। এই চিনা সংস্থাগুলির মোট বিনিয়োগের পরিমাণ ছিল ৫ হাজার কোটি টাকারও বেশি। কিন্তু গালওয়ান উপত্যকায় অতর্কিতে চিনা বাহিনীর ভারতীয় জোয়ানদের প্রতি হামলার পরেই এই বিষয়ে সিদ্ধান্ত বদল করেছে মহারাষ্ট্র সরকার। কেন্দ্রের সঙ্গে আলোচনার পরেই ৩টি চিনা সংস্থার সঙ্গে স্বাক্ষর হওয়া মউ বাতিল করে দেয় উদ্ধব ঠাকরের সরকার। 

যে ৩টি চিনা সংস্থার সঙ্গে সম্প্রতি মহারাষ্ট্র সরকারের মউ স্বাক্ষতির হয়েছিল সেগুলি হল হেনগলি ইঞ্জিনিয়ারিং, জেভি ফোটন এবং গ্রেট ওয়াল মোটরস। চিনের অটোমোবাইল প্রস্তুতকারী সংস্থা গ্রেট ওয়াল মোটরের পুণের কাছে তেলেগাঁওয়ে একটি গাড়ি নির্মাণ কারখান গড়ে তোলার কথা ছিল। যার জন্য চিনা সংস্থাটি ১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগ করত। এছাড়া হেলগলি ইঞ্জিনিয়ারংয়েরও তেলেগাঁওয়ে ২৫০ কোটি টাকা বিনোয়েগর কথা ছিল। আরেকটি চিনা সংস্থা জেভি ফোটনও মহারাষ্ট্রে ১ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ করত। পিএমআই ইলেক্ট্রো মবিলিটি সলিউশনের সঙ্গে যৌথ ভাবে এই বিনিয়োগ করা হত। আপাতত এই প্রকল্পগুলির সবকটি বাতিল করে দিয়েছে মহারাষ্ট্র সরকার।

এর আগে গত সপ্তাহে চিনা সংস্থাকে এড়াতো গোটা টেন্টার প্রক্রিয়াই বাতিল করে দেয় মুম্বই মনোরেল। জানা গিয়েছে, মুম্বই মনোরেলের জেকব সার্কেল-ওয়াদালা-চেম্বুর লাইনের জন্য ১০টি মনোরেলের রেকের বরাত দিয়ে টেন্ডার ডেকেছিল মুম্বইয়ের পরিবহন ও পরিকাঠামো উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ। এই কাজের জন্য খরচ ধরা হয়েছিল প্রায় ৫০০ কোটি টাকা। কিন্তু শেষে দেখা যায়, মাত্র দু'টি চিনা সংস্থা- চায়না রেল রোড কর্পোরেশন এবং বিল্ড ইওর ড্রিম- টেন্ডার জমা দিয়েছে। আর কোনও প্রতিযোগী নেই। এমনকি টেন্ডার প্রক্রিয়ায় অংশ নেয়নি কোনও ভারতীয় সংস্থাও। যে কারণে গোটা টেন্ডার প্রক্রিয়া বাতিল করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় কর্তৃপক্ষ।