লাদাখে আগ্রাসন চালানোর চেষ্টা করছে চিন, তখন কী করে আর চুপচাপ বসে থাকে তার বন্ধু পাকিস্তান। তাই এবার কাশ্মীরের আকাশে ড্রোন পাঠিয়ে দিল পাকিস্তান। যদিও ভারতীয় বাহিনীর কড়া নজরদারি এড়িয়ে সেটি কার্য সিদ্ধি করতে পারেনি। কাঠুয়া এলাকায় ড্রোনটিকে গুলি করে নামায় বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্সের জওয়ানরা।

বিএসএফ মনে করছে ওই ড্রোনটিতে করে কাশ্মীরে জঙ্গিদের জন্য অস্ত্রশস্ত্র পাঠাচ্ছিল পাকিস্তান। ড্রোনটির ভেতর থেকে আমেরিকায় তৈরি একটি এম-৪  রাইফেল, ২টি ম্যাগাজিন, ৬০ রাউন্ড বুলেট এবং সাতটি গ্রেনেড উদ্ধার হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। কাশ্মীর পুলিশ জানিয়েছে, আলি ভাই নামে এক জঙ্গির জন্যেও ওই অস্ত্র পাঠানো হচ্ছিল। ড্রোনের প্লেলোডেও ওই ব্যক্তির নাম লেখা ছিল। 

শনিবার ভোর ৫টা মিনিট নাগাদ বিএসএফের চোখে পড়ে  ভারতীয় আকাশে ঘোরাফেরা করছে একটি ড্রোন। সঙ্গে সঙ্গে জওয়ানরা  ভারতীয় ভূখণ্ডের প্রায় আড়াইশো মিটার অভ্যন্তরে ঢুকে পড়া ড্রোনটিকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। প্রায় ৯ রাউন্ড গুলি চালানোর পর মাটিতে মুখ থুবড়ে পড়ে মোটামুটি ৮ ফুট চওড়া ওই ড্রোনটি। কাঠুয়া সেক্টরে বিএসএফের সেনা ছাউনির উল্টোদিকেই পাকিস্তানি ভূখণ্ড থেকে সেটিকে নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছিল।

 

 

কাশ্মীরের জঙ্গি দমিনে বিগত  কয়েক সপ্তাহ ধরে  উপত্যকার লাগাতার অভিয়ান চালিয়ে চলেছে যৌথবাহিনী। গত কয়েকদিনে জঙ্গি দমনে বড়সর সাফল্যও মিলেছে। এই পরিস্থিতিতে জঙ্গিরা কিছুটা কোণঠাসা বলে মনে করা হচ্ছে। তাদের হাতে অস্ত্রের যোগান দিতেই এই ড্রোনটিতে করে পাকিস্তান থেকে অস্ত্র পাঠান হচ্ছিল বলেই মনে করা হচ্ছে। ড্রোনের ভেতরে পাওয়া অস্ত্রগুলির সঙ্গে কয়েক মাস আগে জম্মুর কাছে জইশ-ই-মহম্মদের যে জঙ্গিদের খতম করা হয়েছিল তাদের ডেরা পাওয়া অস্ত্রগুলির মিল রয়েছে।

তবে ড্রোনের মাধ্যমে কাশ্মীরে অস্ত্রপাচারের পাক কৌশল এই প্রথম। তবে কয়েক মাস আগে অমৃতসরের কাছে বিমান থেকে অস্ত্র ফেলা হয়েছিল। সেগুলির কোনও দাবিদার ছিল না। পরে অস্ত্রগুলো পাঞ্জাব পুলিশ বাজেয়াপ্ত করে।এদিকে লাদাখে চিনের সঙ্গে উত্তেজনা বাড়তেই পাকিস্তান সীমান্তেও নজরদারি বাড়ায় ভারতীয় সেনা। কারণ চিনের সঙ্গে বিবাদের ফায়দা তুলবে পাকিস্তান। সীমান্তে অশান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করবে। তাই আগে থেকেই সতর্ক ছিল ভারতীয় বাহিনী। তার তার ফলস্বরূপ গুপ্তচরবৃত্তির উদ্দেশ্যে আসা পাক ড্রোনকে গুলি করে নামাল বিএসএফ। তবে এই ধরণের আরোও কোন ড্রোন ভারতীয় ভূখণ্ডে ঢুকে রয়েছে কিনা তা নিয়ে আশঙ্কা থেকেই যাচ্ছে। সেই কারণে নজরদারি আরও জোরদার করছে বাহিনী।