দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল দুই দিনের মধ্যে ইস্তফা দেওয়ার ঘোষণা করেছেন। তিনি দাবি করেছেন যে তিনি সৎ এবং জনগণের রায় চেয়েছেন। কেজরিওয়াল বিজেপির উপর তাঁর সরকারকে ভাঙার চেষ্টা করার অভিযোগ এনেছেন।

আর মাত্র ২ দিন। তারপরই দিল্লির মুখ্যমন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দেবেন অরবিন্দ কেজরিওয়াল। রবিবার এই ঘটনা ঘোষণা করেছেন। কয়েক দিন আগেই আগবারি দুর্নীতি মামলায় জামিন সুপ্রিম কোর্ট থেকে জামিন পেয়েছেন। জেলে থাকায় অবস্থায় আদালতে তিনি সওযাল করেছিলেন দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে কাজ চালিয়ে যাওয়ার জন্য। আদালত তাঁকে সেই অনুমতিও দিয়েছিল।

Add Asianetnews Bangla as a Preferred SourcegooglePreferred

রবিবার অরবিন্দ কেজরিওয়াল জানিয়েছেন আর দুই-এক দিনের মধ্যেই দিল্লির নতুন মুখ্যমন্ত্রীর নাম ঘোষণা করা হবে। আম আদমি পার্টির সদর দফতরে দলীয় কর্মীদের উদ্দেশ্যে ভাষণ দেওয়ার সময় কেজরিওয়াল এই ঘোষণা করেছিলেন। তিনি বলেছেন, 'আজ আমি জনসাধারণকে জিজ্ঞাসা করতে এসেছি আপনি কেজরিওয়ালকে সৎ না অপরাধী মনে করেন। 'এখন যতক্ষণ না দিল্লির মানুষ সেই সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেছেন ততক্ষণ তিনি মুখ্যমন্ত্রীর চেয়ারে বসবেন না বলেও জানিয়ে দিয়েছেন। সেই সময়ই কেজরিওয়াল বলেন, আজ থেকে দুই দিনের মধ্যেই তিনি দিল্লির মুখ্যমন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দেবেন।

আগামী নভেম্বর মাসে দিল্লি বিধানসভায় নির্বাচন। কেজরিওয়াল বলেন, 'আপনি যদি মনে করেন আমি সৎ তাহলে আমাকে বিপুল সংখ্যক ভোট দিন। নির্বাচিত হলেই আমি মুখ্যমন্ত্রীর চেয়ারে ফিরব।' তিনি আরও বলেন, বিজেপি মনে করেছিল তাঁকে জেলে পাঠালেই দল ভেঙে যাবে। বিধায়ক ভাঙিয়ে নিয়ে সরকার গঠন করতে পারবে। দিল্লি ও পঞ্জাবের সরকার ফেলার চক্রান্ত করা হয়েছে বলেও তিনি অভিযোগ করেছেন। পাশাপাশি বিরোধী রাজনৈতিক দলের মুখ্যমন্ত্রীদের উদ্দেশ্যে বলেছেন, কেন্দ্রীয় সরকারের চাপের কাছে কখনই নতি স্বীকার করা ঠিক নয়। প্রয়োজনে জেলে বসেই সরকার চালাতে হবে।

কেজরিওয়াল আরও বলেন, 'শহীদ ভগৎ সিং যখন জেলে ছিলেন, তিনি অনেক লোককে চিঠি লিখেছিলেন এবং ব্রিটিশরা এই চিঠিগুলি বাইরের লোকদের কাছে পাঠিয়েছিল৷ কিন্তু আমি যখন জেলে গিয়েছিলাম, তখন আমি লেফট্যানেস্ট জেনারেলকে একটি মাত্র চিঠি লিখেছিলাম ১৫ আগস্ট। অতীশিকে আমার জায়গায় পতাকা উত্তোলনের অনুমতি দেওয়া উচিত কিন্তু সেই চিঠি এলজি সাহেবকে দেওয়া হয়নি এবং সতর্ক করে দেওয়া হয়েছিল যে আপনি যদি এখনই এলজি সাহেবকে চিঠি লেখেন তাহলে পরিবারের সঙ্গে আপনার দেখা বন্ধ করে দেওয়া হবে।'

এদিন কেরজিওয়ালের সঙ্গে ছিলেন দিল্লির প্রাক্তন উপমুখ্যমন্ত্রী মণীষ সিসৌদিয়া। তিনি বলেন, দিল্লির মদ কেলেঙ্কারি একটি একটি কাল্পনিক ঘটনা। যা কেন্দ্রীয় সরকার তাদের ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দিতে তৈরি করেছিল। তিনি আরও বলেন, অরবিন্দ কেজরিওয়াল শুধু আম আদমি পার্টির জন্যই নয়। গোটা দেশের মানুষকেই পথ দেখাচ্ছে।

আরও খবরের জন্য চোখ রাখুন এশিয়ানেট নিউজ বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেলে, ক্লিক করুন এখানে।