বিহারের ভোটে এনডিএ এবং মহাজোটের মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই চলছে। কিন্তু গণনা শেষ হওয়ার আগেই বিহারের ভোটে কিংমেকার হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে আসাদউদ্দিন ওয়াইসির অল ইন্ডিয়া মজলিস-ই-ইত্তেহাদুল মুসালিমিন দলের। বিহারের সীমাঞ্চল নামে পরিচিত মুসলিম অধ্যুসিত এলাকায় ওয়াইসির দলের জন্য দারুণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে আরজেডি। সীমাঞ্চলে লালুপ্রসাদের যে মুসলমান ভোট ব্যাঙ্ক ছিল, তাতে দাঁত বসিয়েছেন ওয়াইসি। ভোট বিশেষজ্ঞরা বলছেন বিহারের ভোটকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-এর সতর্কবার্তা হিসাবে দেখা উচিত।   

বিহারের সীমাঞ্চল মুসলিম অধ্যুসিত এলাকা, এতদিন আরজেডি-র গড় হিসাবেই পরিচিত ছিল। ২০১৫ সালেও এই এলাকায় দারুণ সাফল্য পেয়েছিল লালুপ্রসাদের দল। কিন্তু এইবার দেখা যাচ্ছে এই অঞ্চলের ছবিটা অনেকটাই বদলে গিয়েছে। এই অঞ্চলে ১৪টি আসনে প্রার্থী দিয়েছিল এআইমিম। এখনও পর্যন্ত গণনার ফল বলছে ইতিমধ্যেই তারা  আরিয়া জেলার জোকিহাট আসনে জয়ী হয়েছে। সেইসঙ্গে আরও ৪টি আসনে তারা এগিয়ে। শুধু তাই নয়, এই অঞ্চলের অন্যান্য আসনেও এআইমিন প্রার্থী অনেক ভোট কেটেছেন, যার মূল্য চোকাতে হয়েছে মহাজোটের প্রার্থীকে। সেইসব আসনে জয়ী হয়েছেন বিজেপি প্রার্থী। সীমাঞ্চলে এনডিএ এগিয়ে (বা জয়ী) ১২টি আসনে, আরজেডি ৭টি আসনে, আর এআইমিম ৫টি।

আরও পড়ুন - মধ্যপ্রদেশ, উত্তরপ্রদেশ, গুজরাত - কমল ফুটছে উপনির্বাচনেও, ইভিএম নিয়ে প্রশ্ন তুললেন দিগ্বিজয়

আরও পড়ূন - বিহার নির্বাচন ২০২০, জোট বদলের ভেল্কি কীভাবে বদলে দিচ্ছে ফলাফল

আরও পড়ূন - নীতিশ কুমারকে ফোন করলেন অমিত শাহ - তবে কি বিহারে নেতা বদল, বাড়ছে জল্পনা

তবে, বিহার বিধানসভা নির্বাচন ওয়াইসির শেষ যুদ্ধ ছিল তা নয়, বরং ভোট বিশেষজ্ঞরা বলছেন আসন্ন উত্তরপ্রদেশ ও পশ্চিমবঙ্গ নির্বাচনের সেমিফাইনাল হিসাবেই বিহারে প্রার্থী দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিযেছিলেন ওয়াইসি। কাজেই বিহারের এআইমিম-এর ফলাফল বাংলায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পক্ষে সতর্কবার্তা হতে পরে বলে মনে করছেন ভোট বিশেষজ্ঞরা।

বলাই বাহুল্য, বাংলায় এই মুহূর্তে বেশ চাপে রয়েছে মমতা সরকার। ২০১৯-এর লোকসভা ভোট থেকেই বাংলায় প্রধান বিরোধী পক্ষ হিসাবে আত্মপ্রকাশ করেছে বিজেপি। আগামী বিধানসভায় তারাই যে তৃণমূল কংগ্রেসের তৃতীয়বার ক্ষমতায় ফেরার পথে সবচেয়ে বড় কাঁটা, তাও নতুন করে বলার কিছু নেই। আর ইতিমধ্যেই রাজ্যে মেরুকরণের রাজনীতি শুরু করে দিয়েছে বিজেপি।

গত লোকসভা ভোটেও দেখা গিয়েছে বিজেপি-কে রুখতে বাংলার মুসলিম সমাজ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-এর উপরই ভরসা রেখেছে। কেউই ভোলেননি ভোটের ফল প্রকাশের পর মমতার 'দুধেল গরু' মন্তব্য। তবে সেই ভরসার জায়গাতেই আঘাত করার পরিকল্পনা করেছেন আসাদউদ্দিন ওয়াইসি। বস্তুত হায়দরাবাদের গণ্ডি ছাড়িয়ে ওয়াইসি এখন গোটা ভারতের একচ্ছত্র মুসলিম নেতা হওয়ার লক্ষ্যে এগোচ্ছেন। বিহারের ভোট দেখিয়ে দিল এআইমিম-এর মেরুকরণের রাজনীতিও যথেষ্ট কার্যকরী হচ্ছে।

কাজেই বিহারের ভোটে এআইমিম-এর এই ফলকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সিঁদুরে মেঘ হিসাবেই দেখা উচিত। এখনই ব্যবস্থা না নিলে কিন্তু আরজেডি-র দশাই হবে টিএমসি-র। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে কিন্তু তাঁর গত ১০ বছরের শাসন, কোভিড পরিস্থিতির মতো সমস্য়াও রয়েছে। বিহারে যা ক্ষতি করেছে শাসক জোটের জেডিইউ-কে। আরজেডি-র কিন্তু সমস্যা ছিল না। কাজেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সমস্যা আরও বেশি।