আমেরিকার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ফলাফল স্পষ্ট হতে সময় লেগেছিল ৩ দিন। তবে ভারতে বিশেষ করে ইভিএম-এ ভোট গ্রহণ করা হয় বলে, সাধারণত বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফলগুলি দুপুরের মধ্যেই ঘোষণা করা হয়। তবে বিহার নির্বাচন ২০২০ ব্যতিক্রম। নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে দুপুর ৩ পর্যন্ত তিন ধাপের বিহার বিধানসভা নির্বাচনের ভোটের মাত্র ২০ থেকে ২৫ শতাংশ ভোট গণনা করা হয়েছে। ফলাফল স্পষ্ট হতে এদিন রাত হয়ে যাবে বলে মনে করা হচ্ছে। কিন্তু কেন এত দেরী হচ্ছে?

কোভিড-১9 মহামারির প্রেক্ষিতে সুরক্ষার জন্য নির্বাচন কমিশন এইবার বিহারে একটি ভোটকেন্দ্রে সর্বাধিক ভোটারের সংখ্যা বেঁধে দিয়েছিল ১০০০-এ। অন্যান্য ক্ষেত্রে এই সীমা থাকে ১,৫০০ জনের। এরফলে বিহারের মোট ভোটগ্রহণ কেন্দ্রের বা বুথের সংখ্যা বাড়াতে হয়েছে ৪৫ শতাংশ। ২০১৫ সালে বিহার বিধানসভা নির্বাচনে যেখানে বুথের সংখ্যা ছিল ৭৩,০০০, চলতি নির্বাচনে সেখানে বুথ ছিল ১ লক্ষ ৬ হাজার।

আরও পড়ুন - Live Results Update- ধাক্কা সামলিয়ে এগিয়ে চলেছে এনডিএ, মহাজোট পেতে পারে ১০০ আসন

আরও পড়ুন - NDA এগিয়ে গেলেও নীতিশের মুখ্যমন্ত্রীর পদ নিয়ে জল্পনা শুরু, বিহারে সবথেকে শক্তিশালী BJP

আরও পড়ুন - বিহার নির্বাচন গণনা- এনডিএ ১২৯, মহাজোট ১০৩, অন্যান্য ১১

ভোটকেন্দ্রের সংখ্যা বৃদ্ধির অর্থ একইসঙ্গে বৈদ্যুতিন ভোটিং মেশিন বা ইভিএম-এর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাওয়া। ফলে মঙ্গলবার নির্বাচনকর্মীদের অনান্যবারের তুলনায় অনেক বেশি ইভিএম খুলে ভোট গণনা করতে হচ্ছে। এছাড়াও, গণনা প্রক্রিয়া শ্লথ করে দিয়েছে গণনা কেন্দ্রগুলিতে শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখার মতো করোনা সংক্রান্ত বাড়তি নিয়মকানুন। কাজেই বিহার নির্বাচনে ভোট গণনার প্রবণতা আপাতত যতই এনডিএ-র ক্ষমতায় ফেরার ইঙ্গিত দিক, আরজেডি নেতা তেজশ্বী যাদবের নেতৃত্বাধীন মহাজোটের সব আশা ফুরিয়ে যায়নি। বিজেপি এবং জেডিউ-ও সেই কারণেই এখনই মন খুলে জয় উদযাপনে মাততে পারছে না।

বিহারের ৩৮টি জেলার ৫৫ টি গণনাকেন্দ্রের সর্বশেষ ভোট-গণনা অনুসারে, ১২৭ টি আসনে এগিয়ে রয়েছে এনডিএ, আর মহাজোট এগিয়ে ১০৫ টি আসনে। তবে প্রতি তিনটি আসনের মধ্যে একটিতে এখনও শীর্ষ দুই প্রতিদ্বন্দ্বীদের মধ্যে ভোটের ব্যবধান এক হাজারেরও কম। কাজেই এখনও অনেক কিছুই উল্টে-পাল্টে যেতে পারে। সব মিলিয়ে জমে উঠেছে বিহারের ভোট গণনা। শ্লথ প্রক্রিয়া যেন আরও উত্তেজনা বাড়িয়ে দিয়েছে রাজনৈতিক মহলের।