গণপিটুনির ঘটনা বাড়তে থাকায় উদ্বিগ্ন হয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে খোলা চিঠি দিয়েছিলেন বিশিষ্টজনেরা। সেই চিঠি লেখার জন্য পাল্টা ৪৯ জন বিদ্বজ্জনের বিরুদ্ধে দেশদ্রোহিতার এফআইআর দায়ের হয়েছিল বিহারের মুজফ্ফরপুরে। যার প্রতিবাদে পাল্টা আরও ১৮০ জন বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব চিঠি লিখেছিলেন প্রধানমন্ত্রীকে। তার পরেই মুজফ্ফরপুরের পুলিশ জানিয়ে দিল, বিশিষ্টজনদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া এফআইআর-এর কোনও সারবত্তা নেই। তাই যে বিশিষ্টজনদের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের হয়েছিল তাঁদের বিরুদ্ধে কোনও পদক্ষেপই করা হচ্ছে না। 

মুজফ্ফরপুরের এসএসপি মনোজ কুমার সিনহা জানিয়েছেন, ইতিমধ্যেই ওই এফআইআর- এর ভিত্তিতে দায়ের হওয়া মামলা বন্ধ করার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। কারণ এখনও পর্যন্ত তদন্তে যে তথ্য উঠে এসেছে তা ভিত্তিহীন এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলেই মনে হয়েছে পুলিশের। 

প্রতিদিন আরও অনেকে কথা বলে উঠবে, ৪৯-এর হেনস্থার প্রতিবাদে গর্জে উঠল ১৮০

সুধীর কুমার ওঝা নামে স্থানীয় এক আইনজীবীর হলফনামার ভিত্তিতে মুখ্য বিচারবিভাগীয় ম্যাজিস্ট্রেটের নির্দেশের ভিত্তিতেই ওই মুজফ্ফরপুরের সদর থানায় ওই এফআইআর দায়ের হয়েছিল। 

যে বিশিষ্টজনদের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের হয়েছিল, তাঁদের মধ্যে ছিলেন ঐতিহাসিক রামচন্দ্র গুহ, অভিনেত্রী ও পরিচালক অপর্ণা সেন, অভিনেত্রী কঙ্কনা সেন, পরিচালক অনুরাগ কাশ্যপ এবং পরিচালক শ্যাম বেনেগাল। দেশে যেভাবে ধর্ম বা দেশপ্রেমের নামে গণপিটুনির ঘটনা বাড়ছিল, তাতে আপত্তি জানিয়েই প্রধানমন্ত্রীকে চিঠি লিখেছিলেন অপর্ণা সেনরা। এই বিশিষ্টজনদের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের হওয়ার পরেই তার প্রতিবাদ জানিয়ে প্রায় দুশোজন বিশিষ্টজন প্রধানমন্ত্রীকে ফের চিঠি লিখেছিলেন। 

যদিও, মুজফ্ফরপুরের যে আদালত এফআইআর দায়ের করার নির্দেশ দিয়েছিল, সেই আদালতের বিচারক মামলাকারী আইনজীবীর হলফনামায় অভিযোগের স্বপক্ষে যথেষ্ট সারবত্তাই পেয়েছিলেন। বিচারকের মতে, ওই খোলা চিঠিতে বিশিষ্টজনেরা যা লিখেছিলেন, তাতে ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাত করা হয়েছে, শান্তি ভঙ্গের চেষ্টা হয়েছে এবং দেশের ভাবমূর্তি নষ্ট করার চেষ্টা হয়েছে। যদিও তদন্তে নেমে সেরকম কিছুই পায়নি পুলিশ।