নয়াদিল্লির বিজেপি সদর দফতরে শুক্রবার এক বিশেষ দীপাবলি আড্ডার আয়োজন করেছেন দলের নম্বর ওয়ান নিতিন নবীন। বিশ্বের ৫০টি দেশের ৯০ জনেরও বেশি কূটনীতিক এতে অংশ নিচ্ছেন। উৎসবের আনন্দের পাশাপাশি ভারতের সংস্কৃতি তুলে ধরাই এই অনুষ্ঠানের আসল উদ্দেশ্য।
নয়াদিল্লি [ভারত], ৩০ অক্টোবর (এএনআই): উৎসবের মৌসুমে বিশ্বমঞ্চে ভারতের ভাবমূর্তি আরও উজ্জ্বল করতে বড় উদ্যোগ নিল বিজেপি। নয়াদিল্লিতে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে শুক্রবার এক বিশেষ দীপাবলি আড্ডার আয়োজন করেছেন বিজেপি সভাপতি নিতিন নবীন। বিশ্বের প্রায় ৫০টি দেশের ৯০ জনেরও বেশি কূটনীতিক এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকছেন।
বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত, উপ-রাষ্ট্রদূত থেকে শুরু করে সিনিয়র কূটনীতিকরা সবাই এই অনুষ্ঠানে শামিল হবেন। পাশাপাশি একাধিক কেন্দ্রীয় মন্ত্রী এবং বিজেপির শীর্ষ নেতারাও উপস্থিত থাকবেন।
অনুষ্ঠান চলাকালীন নিতিন নবীন বিদেশি কূটনীতিকদের সঙ্গে খোলামেলা কথা বলবেন। ভারতের দীর্ঘদিনের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য এবং উৎসবের আনন্দ আন্তর্জাতিক মঞ্চে ভাগ করে নেওয়ার জন্যই এই উদ্যোগ।
অনুষ্ঠানে সংস্কৃতির ছোঁয়া রাখতে থাকছে 'ঐতিহ্য ও উদ্ভাবন' নামের একটি বিশেষ মিউজিক্যাল পারফর্ম্যান্স। যেখানে ভায়োলিনে নন্দিনী শঙ্কর এবং আইপ্যাডে মহেশ রাঘবন একসঙ্গে ধ্রুপদী ও আধুনিক সুরের এক অপূর্ব মেলবন্ধন পরিবেশন করবেন।
বিজেপির পররাষ্ট্র বিষয়ক বিভাগের প্রধান ডক্টর বিজয় চৌথাইওয়ালে জানিয়েছেন, ভারতের সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে বিশ্বের দরবারে তুলে ধরাই এই আয়োজনের প্রধান লক্ষ্য। এর মাধ্যমে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে ভারতের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ও সাধারণ মানুষের যোগাযোগ আরও মজবুত হবে।
এর ঠিক একদিন আগেই দিল্লির পণ্ডিত দীনদয়াল উপাধ্যায় মার্গে বিজেপির নতুন ভবনে ভারতীয় জনতা যুব মোর্চার (বিজেওয়াইএম) প্রথম জাতীয় কার্যনির্বাহী বৈঠক শেষ হয়েছে।
ওই বৈঠকে 'বিকশিত ভারত ২০৪৭' এবং 'গণতন্ত্র বাঁচাও, নৈরাজ্য হটাও' অভিযানের নীলনকশা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নিতিন নবীন, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী মনসুখ মান্ডবিয়া, বিজেওয়াইএম-এর সভাপতি হেমং যোশী, দলের সাধারণ সম্পাদক হরিশ দ্বিবেদীসহ সারা দেশের যুব সংগঠনের পদাধিকারীরা।
মূল অধিবেশনে ভাষণ দেওয়ার সময় নিতিন নবীন যুব মোর্চার নতুন টিমকে অভিনন্দন জানান। একই সঙ্গে বিগত ৪০-৪৫ বছর ধরে দলের আদর্শিক লড়াইয়ের কথা স্মরণ করিয়ে দেন।
বিজেপির বেড়ে ওঠার দিনগুলোর কথা মনে করিয়ে তিনি বলেন, একসময় দলের ভাবধারা সাধারণ মানুষের কাছে সেভাবে পৌঁছাত না। কিন্তু আজ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সফল নেতৃত্বে বিজেপির জনকল্যাণমূলক প্রকল্প দেশের প্রতিটি শহর, গ্রাম আর গলিতে পৌঁছে গেছে।
বিজেপি সভাপতি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, দেশের পরিস্থিতি এখন এমন যে, "যাঁরা বিজেপিকে ভোট দেন না, তাঁরাও বিশ্বাস করেন যে একমাত্র মোদীজিই ভারতকে সঠিক দিশা আর সুরক্ষিত ভবিষ্যৎ দিতে পারেন।"
তিনি আরও যোগ করেন, 'বিকশিত ভারত ২০৪৭'-এর ঐতিহাসিক স্বপ্ন এই শক্ত ভিতের ওপরই দাঁড়িয়ে আছে। আর এই স্বপ্ন বাস্তবায়নের সবচেয়ে বড় দায়িত্ব কিন্তু দেশের তরুণ প্রজন্মের কাঁধেই রয়েছে।






