'ম্যাডাম'-এর গ্রেফতারির খবর শোনার পর মুখ খুললেন অত্যাচারিত পরিচারিকা সুনীতা। সংবাদ সংস্থা এএনআই-এর সঙ্গে একটি সাক্ষাৎকারে ওই আদিবাসী তরুণী স্পষ্ট জানান,"আপনারা যা শুনেছেন আমার সঙ্গে ঠিক তাই তাই করা হয়েছে।" তিনি আরও জানান, কাজ করতে গিইয়ে যে কোনও ছোট খাটো ভুল হলেই 'ম্যাডাম'এর হাতে মার খেতে হত।

'ভয়েস অব দলিতস' টুইটার অ্যাকাউন্ট থেকে ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিওর প্রেক্ষিতে বাড়ির পরিচারিকার উপর অকথ্য অত্যাচারের অভিযোগ উঠেছিল ঝাড়খন্ডের বিজেপি নেত্রী সীমা পাত্রর বিরুদ্ধে। এবার সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই ওই বিজেপি নেত্রীকে গ্রেফতার করল পুলিশ। 
'ম্যাডাম'-এর গ্রেফতারির খবর শোনার পর মুখ খুললেন অত্যাচারিত পরিচারিকা সুনীতা। সংবাদ সংস্থা এএনআই-এর সঙ্গে একটি সাক্ষাৎকারে ওই আদিবাসী তরুণী স্পষ্ট জানান,"আপনারা যা শুনেছেন আমার সঙ্গে ঠিক তাই তাই করা হয়েছে।" তিনি আরও জানান, কাজ করতে গিইয়ে যে কোনও ছোট খাটো ভুল হলেই 'ম্যাডাম'এর হাতে মার খেতে হত। যখন তখন কারণে অকারণে তাঁকে মারধর করা হত বলেও জানান নির্যাতিতা। 
সম্প্রতি ‘দলিত ভয়েস’ নামে একটি টুইটার হ্যান্ডল থেকে একটি ভিডিয়ো শেয়ার করা হয়েছে। এই ভিডিয়ো দেখা যাচ্ছে এক আদিবাসী মহিলাকে। তাঁর মুখে অর্ধেক দাঁত নেই। শরীরের বিভিন্ন স্থানে ক্ষতচিহ্ন আর চোখে মুখে আতঙ্ক। 'দ্যা দলিত ভয়েসের কর্মীদের দেখে কিছু একটা বলার চেষ্টা করছিলেন তিনি। কিন্তু শারীরিক অসুস্থতার কারণে তা বলে উঠতে পারছেন না। এই দৃশ্য নেট মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তেই সমালোচনার ঝড় ওঠে। দলিত ভয়েসের দাবি তাঁকে গরম তাওয়া এবং লোহার রড দিয়ে মারধর করা হত। অভিযোগ, জোর করে মেঝেতে পড়ে থাকা প্রস্রাবও তাঁকে দিয়ে চাটাতেন সীমা।

Add Asianetnews Bangla as a Preferred SourcegooglePreferred

আরও পড়ুনগরম তাওয়া দিয়ে মার, চাটানো হত প্রসাবও! পরিচারিকার উপর অকথ্য অত্যাচারের অভিযোগ বিজেপি নেত্রীর বিরুদ্ধে 


ঝাড়খণ্ডের বিজেপির মহিলা মোর্চার জাতীয় কার্যকরী কমিটির অন্যতম সদস্য সীমা। তাঁর স্বামী মহেশ্বর একজন প্রাক্তন আইএএস আধিকারিক। একদিকে প্রধানমত্রীর ‘বেটি বচাও, বেটি পড়াও’ অভিযানের এক সক্রিয় সদস্য। অপদিকে নিজের বাড়ির পরিচারিকার উপরই দীর্ঘদিন ধরে অমানুষিক অত্যাচার চালিয়ে গিয়েছেন সীমা। 
জানা যাচ্ছে, ঝাড়খণ্ডেরই বাসিন্দা নির্যাতিতা। প্রায় ১০ বছর ধরে কাজ করছেন সীমারভ বাড়িতে। 
গোটা ঘটনাটির পুলিশকে বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজন হলে সীমাকে গ্রেফতার করার আবেদন জানানো হয়েছে মহিলা কমিশনের তরফে। ইতিমধ্যে সীমাকে সাসপেন্ড করেছে দল। 
এবার সূত্রের খবর, গ্রেফতারির ভয় রাঁচী ছেড়ে পালাচ্ছিলেন তিনি। তার আগেই বুধবার ভোড়ে তাঁকে গ্রেফতার করে রাঁচী পুলিশ। ১২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তাঁকে বিচার বিভাগীয় হেফাজতে পাঠানো হয়েছে।

আরও পড়ুনবিজেপির 'ভোট কাটার' ওয়াইসি থেকে সাবধান, ধর্মনিরপেক্ষ দলগুলিকে সতর্ক করল কংগ্রেস