সবে লোকসভায় পেশ হয়েছে নাগরিকত্ব বিল। বিল নিয়ে আপত্তি জানিয়ে  আগে থেকেই নোটিশ দিয়েছিলেন বেশ কয়েকজন বিরোধী দলের বেশ কয়েকজন সাংসদ। তাঁদের মধ্যে ছিলেন তৃণমূলের সৌগত রায়ও। প্রবীণ এই তৃণমূল সাংসদের একটি মন্তব্যকে ঘিরেই এ দিন প্রবল শোরগোল হল সংসদের অন্দরে। সৌগতবাবুর মন্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ করেন বিজেপি সাংসদরা। 

সৌগতবাবু এ দিন সংসদে বক্তব্য রাখতে গিয়ে দাবি করেন, এই বিল সংবিধানের ১৪ নম্বর অনুচ্ছেদের বিরোধী। কারণ সংবিধানের এই অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, আইনের চোখে সবাই সমান। অথছ নতুন বিলে ধর্মের ভিত্তিতে নাগরিকত্ব দেওয়ার কথা বলছে কেন্দ্রীয় সরকার। তৃণমূল সাংসদ আরও দাবি করেন, কেন্দ্রীয় সরকারের এই পদক্ষেপে সাংবিধানিক সঙ্কট তৈরি হচ্ছে। বিল পেশের পদ্ধতি নিয়েই প্রশ্ন তোলেন তৃণমূল সাংসদ। তখনই অমিত শাহকে কটাক্ষ করতে গিয়ে সৌগতবাবু বলেন, 'আসলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সংসদে নতুন। তাই হয়তো সব নিয়ম তিনি ঠিক মতো জানেন না।'

সৌগতবাবুর এই মন্তব্য শুনেই রে রে করে ওঠেন বিজেপি সাংসদরা। প্রবল হইহট্টগোল শুরু করেন তাঁরা। সৌগতবাবুকে মন্তব্য প্রত্যাহার করার দাবি জানান বিজেপি সাংসদরা। পাল্টা সৌগতবাবু বলেন, 'আপনারা কি আমায় মারবেন? তাহলে আসুন, মারুন। আমি তো খারাপ কিছু বলিনি।' অধ্যক্ষেরও দৃষ্টি আকর্ষণ করেন তৃণমূল সাংসদ। তার পরেও অবশ্য বিজেপি সাংসদদের বিক্ষোভ চলতেই থাকে।

আরও পড়ুন- সহজেই প্রথম বাধা কাটাল নাগরিকত্ব বিল, কংগ্রেসের বিরুদ্ধে উঠল গুরুতর অভিযোগ

আরও পড়ুন- প্রবল বিরোধিতার মধ্যেই লোকসভায় পেশ নাগরিকত্ব বিল, বিরোধীদের কটাক্ষ অমিতের

সৌগতবাবু অবশ্য এ দিন নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল নিয়ে আক্রমণ করতে গিয়ে কাশ্মীর থেকে ৩৭০ ধারা প্রত্যাহারের ঘটনা টেনে এনেছেন। তৃণমূল সাংসদ বলেন, 'কাশ্মীরে ৩৭০ ধারা প্রত্যাহারের সময় কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এক দেশ, এক আইনের কথা বলেছিলেন। তাহলে ষষ্ঠ তফশিলের  অন্তর্গত এবং ইনার লাইন পারমিটের অন্তর্গত উত্তর- পূর্বের রাজ্যগুলি কেন নাগরিকত্ব আইনের বাইরে থাকবে?'

কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অবশ্য এর পর দাবি করেন, নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল কোনওভাবেই সংবাধিনের ১৪ নম্বর অনুচ্ছেদের বিরোধী নয়। এমনকী, এই বিল সংখ্যলঘুদেরও বিরুদ্ধে নয় বলে দাবি করেন তিনি। সংখ্যাগরিষ্ঠের ভোট পাওয়ার পরই নতুন এই বিল নিয়ে আলোচনার নির্দেশ দেন অধ্যক্ষ ওম বিড়লা।