নির্বাচনের আগে মেরেকেটে হাতে ছয় মাস। তাই দেরি না করে কাজ শুরু করে দিয়েছেন, সদ্য পশ্চিমবঙ্গের দায়িত্ব পাওয়া বিজেপির সর্বভারতীয় মুখপাত্র তথা আইটি সেলের প্রধান অমিত মালব্য। একদিন আগেই সোশ্যাল মিডিয়ায় তিনি সরব হয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উত্তরবঙ্গকে 'অবহেলা' করা নিয়ে। এবার আক্রমণ শানালেন সরাসরি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভাইপো, তৃণমূল নেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে লক্ষ্য করে। তৃণমূলের অন্দরের ফাটল লক্ষ্য করে করলেন জোরালো আঘাত।

এদিন টুইট করে অমিত মালব্য দাবি করেন, অন্যান্য অনেক নেতার বিনিময়ে, তাঁদের রাজনৈতিক উচ্চাভিলাষকে বলি দিয়েই তৃণমূলে উত্থান ঘটানো হয়েছে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের। যা জেরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দলের অন্দরে বহু নেতারই বিরক্তির কারণ হয়েছে। সেইসঙ্গে তিনি অভিষেককে 'ভাইপো' সম্বোধন করে দাবি করেছেন, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে ঘিরে একটি স্বঘোষিত অন্তরঙ্গ গোষ্টী তৈরি হয়েছে। তাদের তৃণমূল স্তরের রাজনীতির সঙ্গে কোনও যোগ নেই। কিন্তু, তারাই এখন তৃণমূল কংগ্রেসে শেষ কথা বলছে।

এর সঙ্গে, বিজেপির সর্বভারতীয় আইটি সেলের প্রধান, 'স্বরাজ্যম্যাগ ডট কম' পোর্টালের একটি প্রতিবেদন তুলে দিয়েছেন। সেই প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, গত কয়েক সপ্তাহ ধরে তৃণমূলের বেশ কয়েকজন সিনিয়র ও মধ্য স্তরের নেতা রাজনৈতিক কৌশলবিদ প্রশান্ত কিশোর ও তার দলবলের তৃণমূলের দলীয় বিষয়ে আধিপত্যের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে এবং ব্যক্তিগতভাবে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। কিন্তু, এটা আসলে ঝি-কে মেরে বউকে শেখানোর মতো। প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে বিক্ষুব্ধ টিএমসি নেতাদের বিদ্রোহের লক্ষ্য হ'ল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভাইপো অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রশান্ত  কিশোর একজন 'বহিরাগত' হওয়ায় তাঁকে সহজ ও সুবিধাজনক পাঞ্চিং ব্যাগ হিসাবে বেছে নিয়েছেন তাঁরা।

আরও পড়ুন - এআইমিম-এর সঙ্গে কি জোট গড়বে তৃণমূল, বাংলার রাজনীতিতে বোমা ফাটালেন ওয়াইসি

আরও পড়ুন - ফের যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন, শহিদ ১ সেনা জওয়ান - মরিয়া হয়ে উঠেছে পাক সেনা

আরও পড়ুন - সামান্য কেরানি থেকে ফার্স্ট লেডির উপদেষ্টা, বাইডেন প্রশাসনে যুক্ত হলেন আরেক ভারতীয় মালা আদিগা

বস্তুত, গত কয়েক সপ্তাহ ধরেই তৃণমূলের দাপুটে নেতা শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে দলের মনোমালিন্যের খবর ঘিরে উত্তেজনা রয়েছে রাজ্য রাজনীতিতে। রাজ্য বিজেপি ইতিমধ্যেই জানিয়ে দিয়েছে মেদিনীপুরের অধিকারীরা আসতে চাইলে গেরুয়া শিবিরে তাঁরা স্বাগত। তবে সমনে হেঁয়ালি করে যাচ্ছেন শুভেন্দু স্বয়ং। একদিকে তাঁর ছবি দেওয়া পোস্টার-ব্যানারে থাকছে না তৃণমূলের পরিচয়। এড়িয়ে যাচ্ছেন রাজ্য মন্ত্রিসভার বৈঠক। অন্যদিকে আবার বলছেন তিনি দলেই আছেন। তবে শুধু শুভেন্দু নয়, তৃণমূলের বেশ কয়েকজন নেতাই দলীয় নেতৃত্বের প্রতি ক্ষুব্ধ বলে শোনা যাচ্ছে। স্পষ্টতই, ধিকি ধিকি জ্বলতে থাকা আগুনে ঘি ফেলতে চাইলেন অমিত মালব্য।