ভারতের পরমাণু শক্তি ক্রমশ আরও শক্তিশালী ও আধুনিক হয়ে উঠছে। শুধু পরমাণু অস্ত্রই নয়, সেগুলি শত্রুর ভূখণ্ডের গভীরে পৌঁছে দেওয়ার জন্য দীর্ঘপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র এবং সাবমেরিন-ভিত্তিক ব্যবস্থা গড়ে তুলেছে ভারত। Bulletin of the Atomic Scientists (BAS)-এর নতুন মূল্যায়ন অনুযায়ী, ভারতের হাতে বর্তমানে প্রায় ১৯০টি পরমাণু ওয়ারহেড থাকতে পারে।

ভারতের পরমাণু শক্তি ক্রমশ আরও শক্তিশালী ও আধুনিক হয়ে উঠছে। শুধু পরমাণু অস্ত্রই নয়, সেগুলি শত্রুর ভূখণ্ডের গভীরে পৌঁছে দেওয়ার জন্য দীর্ঘপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র এবং সাবমেরিন-ভিত্তিক ব্যবস্থা গড়ে তুলেছে ভারত। Bulletin of the Atomic Scientists (BAS)-এর নতুন মূল্যায়ন অনুযায়ী, ভারতের হাতে বর্তমানে প্রায় ১৯০টি পরমাণু ওয়ারহেড থাকতে পারে। পাশাপাশি পরমাণু অস্ত্র বহনে সক্ষম বিভিন্ন বিমান, স্থলভিত্তিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং পরমাণুচালিত সাবমেরিন নিয়ে ভারতের একটি কার্যকর ‘নিউক্লিয়ার ট্রায়াড’ রয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভারত দীর্ঘদিন ধরে ‘নো ফার্স্ট ইউজ’ বা প্রথমে পরমাণু অস্ত্র ব্যবহার না করার নীতি বজায় রেখেছে। তবে একই সঙ্গে এমন প্রযুক্তি ও অস্ত্রব্যবস্থা তৈরি করছে, যাতে পরমাণু হামলার ক্ষেত্রে নিশ্চিতভাবে পাল্টা আঘাত হানা যায়।

ভারতের নিউক্লিয়ার ট্রায়াড কী?

ভারতের পরমাণু শক্তির তিনটি প্রধান স্তম্ভ হল—বিমান, স্থলভিত্তিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং সমুদ্রভিত্তিক পরমাণু অস্ত্র ব্যবস্থা। এই ব্যবস্থার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ হল পরমাণু অস্ত্র বহনে সক্ষম যুদ্ধবিমান। Mirage 2000 এবং Jaguar-কে ভারতের পরমাণু হামলার দায়িত্বে থাকা বিমান হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। ভবিষ্যতে পুরনো Jaguar-এর জায়গায় রাফাল (Rafale) আরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে বলেও প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। স্থলভিত্তিক পরমাণু প্রতিরোধ ক্ষমতার মূল ভরসা অগ্নি (Agni) সিরিজের ক্ষেপণাস্ত্র। এই ক্ষেপণাস্ত্রগুলির বড় অংশই দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি করেছে ডিআরডিও (DRDO)।

একাধিক Agni ক্ষেপণাস্ত্র ভারতের হাতে

BAS-এর মূল্যায়নে ভারতের ছয় ধরনের কার্যকর পরমাণু অস্ত্র বহনে সক্ষম ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের কথা বলা হয়েছে। এগুলি হল—Prithvi-II, Agni-I, Agni-II, Agni-III, Agni-IV এবং Agni-V। পাশাপাশি Agni Prime বা Agni-P-ও পূর্ণাঙ্গভাবে মোতায়েনের দিকে এগোচ্ছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, Agni-I-এর পাল্লা প্রায় ৭০০ কিলোমিটার, Agni-II-এর ২,০০০ কিলোমিটারের বেশি, Agni-III-এর ৩,২০০ কিলোমিটারের বেশি এবং Agni-IV-এর ৩,৫০০ কিলোমিটারের বেশি। Agni-V-এর পাল্লা ৬,০০০ কিলোমিটারের কম বলে প্রকাশ্য অনুমান রয়েছে।

Agni-V-এর দীর্ঘপাল্লার ক্ষমতার ফলে ভারতের গভীর ভূখণ্ড থেকেও দূরের লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর ফলে সীমান্তের কাছাকাছি ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েনের প্রয়োজনও তুলনামূলকভাবে কমে যায়।

আরও ভয়ঙ্কর Agni-V

Agni-V-এর ক্ষেত্রে Multiple Independently Targetable Re-entry Vehicle বা MIRV প্রযুক্তির সক্ষমতাও প্রদর্শিত হয়েছে। এই প্রযুক্তির সাহায্যে একটি ক্ষেপণাস্ত্র থেকে একাধিক ওয়ারহেড আলাদা লক্ষ্যবস্তুর দিকে পাঠানো সম্ভব। এটি ভারতের কৌশলগত ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তিতে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে। পাশাপাশি Agni-V-এর ক্যানিস্টার-ভিত্তিক নকশার কারণে দ্রুত উৎক্ষেপণের প্রস্তুতিও নেওয়া সম্ভব বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

সমুদ্রের নিচেও ভারতের পরমাণু শক্তি

ভারতের পরমাণু প্রতিরোধ ক্ষমতার তৃতীয় স্তম্ভ হল পরমাণুচালিত ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রবাহী সাবমেরিন। ২০২৬ সালের এপ্রিল মাসে তৃতীয় দেশীয় পরমাণুচালিত ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রবাহী সাবমেরিন INS Aridhaman কমিশন করা হয়েছে বলে BAS-এর প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এর আগে INS Arihant এবং INS Arighaat ভারতীয় নৌবাহিনীতে যুক্ত হয়েছে। আরও সাবমেরিন তৈরির কাজ চলছে। পাশাপাশি K-4-এর মতো দীর্ঘপাল্লার সাবমেরিন-লঞ্চড ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রও ভারতের সমুদ্রভিত্তিক পরমাণু প্রতিরোধ ক্ষমতাকে আরও শক্তিশালী করছে।

কেন গুরুত্বপূর্ণ ভারতের নিউক্লিয়ার ট্রায়াড?

পরমাণু হামলার পরও যাতে কোনও দেশ পাল্টা আঘাত হানতে পারে, তার জন্য সমুদ্রভিত্তিক পরমাণু অস্ত্র অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ পরমাণুচালিত সাবমেরিন দীর্ঘ সময় সমুদ্রের নিচে গোপনে অবস্থান করতে পারে। ফলে শত্রুর প্রথম হামলায় স্থল ও আকাশভিত্তিক পরমাণু ব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হলেও পাল্টা আঘাতের ক্ষমতা বজায় থাকে।

BAS-এর মূল্যায়ন অনুযায়ী, ভারতের নিউক্লিয়ার ট্রায়াড এখন কার্যকর অবস্থায় রয়েছে। অর্থাৎ বিমান, স্থলভিত্তিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং সমুদ্রভিত্তিক পরমাণু অস্ত্র—তিন ক্ষেত্রেই ভারতের সক্ষমতা তৈরি হয়েছে। সব মিলিয়ে, ভারতের পরমাণু প্রতিরোধ ব্যবস্থা এখন শুধু পরমাণু বোমার উপর নির্ভরশীল নয়। দীর্ঘপাল্লার Agni ক্ষেপণাস্ত্র, যুদ্ধবিমান এবং পরমাণুচালিত সাবমেরিনকে একত্র করে ভারত এমন একটি কৌশলগত ব্যবস্থা তৈরি করেছে, যা কোনও প্রতিপক্ষকে পরমাণু হামলার আগে সম্ভাব্য পাল্টা আঘাতের বিষয়টি বিবেচনা করতে বাধ্য করবে।