- Home
- India News
- Krishna River: মাত্র ৬৪ কিমি দূরে আরব সাগর, তবু কেন ১৪০০ কিমি পেরিয়ে বঙ্গোপসাগরে মেশে কৃষ্ণা নদী?
Krishna River: মাত্র ৬৪ কিমি দূরে আরব সাগর, তবু কেন ১৪০০ কিমি পেরিয়ে বঙ্গোপসাগরে মেশে কৃষ্ণা নদী?
Krishna River পশ্চিমঘাটে জন্ম নেওয়া কৃষ্ণা নদীর খুব কাছেই রয়েছে আরব সাগর। কিন্তু সেদিকে না গিয়ে নদীটি কেন হাজার হাজার কিলোমিটার পথ পেরিয়ে বঙ্গোপসাগরে গিয়ে মেশে, জানেন কি?

অবাক করবে কৃষ্ণা নদীর গতিপথ
Krishna River নদীর উৎপত্তিস্থলের কাছে সমুদ্র থাকলে সাধারণত নদী সেখানেই গিয়ে মেশে। কিন্তু কৃষ্ণা নদীর গল্পটা একদম আলাদা। আরব সাগর থেকে মাত্র ৬৪ কিলোমিটার দূরে জন্ম নিলেও, নদীটি সেদিকে যায় না। উল্টে ১৪০০ কিলোমিটারের বেশি পথ পূর্ব দিকে বয়ে গিয়ে বঙ্গোপসাগরে মেশে।

এত দূর কেন যায় কৃষ্ণা?
এর উত্তর লুকিয়ে আছে ভারতের ভৌগোলিক গঠনের মধ্যে। মহারাষ্ট্রের সাতারা জেলায় মহাবালেশ্বরের উত্তরে পশ্চিমঘাট পর্বতমালায় প্রায় ১,৩৩৭ মিটার উচ্চতায় কৃষ্ণা নদীর জন্ম। মহারাষ্ট্র থেকে বেরিয়ে কর্ণাটক ও তেলেঙ্গানা হয়ে অন্ধ্রপ্রদেশে ঢোকে এই নদী। শেষে বিজয়ওয়াড়ার কাছে বঙ্গোপসাগরে গিয়ে মেশে।
কেন আরব সাগরে মেশে না কৃষ্ণা?
নদী সবসময় উঁচু জায়গা থেকে নিচু জায়গার দিকে বয়। সমুদ্র কতটা কাছে, তার ওপর নদীর গতিপথ নির্ভর করে না। কৃষ্ণা নদীর জন্ম পশ্চিমঘাট পর্বতমালায়। এই পাহাড় পশ্চিম উপকূলের কাছে হলেও, এর পূর্ব দিকে থাকা দাক্ষিণাত্য মালভূমির ঢাল পূর্বমুখী।
কৃষ্ণা নদীর অববাহিকা
অর্থাৎ, কৃষ্ণা নদীর অববাহিকা পূর্ব দিকে ঢালু। তাই বৃষ্টির জল আর ছোট-বড় উপনদীগুলো পূর্ব দিকেই বয়ে যায়। ভূগোলের ভাষায় একে 'জলবিভাজিকা' বলে। পশ্চিমঘাট পর্বতমালা ভারতের অনেক নদীর গতিপথ ঠিক করে দেয়। পাহাড়ের পশ্চিম দিকের জল আরব সাগরে আর পূর্ব দিকের জল বঙ্গোপসাগরে গিয়ে পড়ে।
চার রাজ্যের ওপর দিয়ে বয়ে চলে কৃষ্ণা
দীর্ঘ যাত্রাপথে মহারাষ্ট্র, কর্ণাটক, তেলেঙ্গানা ও অন্ধ্রপ্রদেশ ছুঁয়ে যায় কৃষ্ণা নদী। সেন্ট্রাল ওয়াটার কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, কৃষ্ণা অববাহিকার আয়তন প্রায় ২.৫৯ লক্ষ বর্গ কিলোমিটার। কৃষি, পানীয় জল, বিদ্যুৎ তৈরি এবং শিল্পের জন্য এই নদীর জল ভীষণ জরুরি।
ভীমা ও তুঙ্গভদ্রা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ
যাত্রাপথে ভীমা, তুঙ্গভদ্রা, ঘাটপ্রভা, মালপ্রভা, মুসী এবং মুন্নেরুর মতো অনেক উপনদী কৃষ্ণায় এসে মেশে। এর মধ্যে ভীমা ও তুঙ্গভদ্রা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। তুঙ্গা ও ভদ্রা নদী মিলে তৈরি হয় তুঙ্গভদ্রা, যা পরে কৃষ্ণায় মেশে। ভীমা নদীও পশ্চিমঘাটে জন্মে দক্ষিণ ভারতের বিস্তীর্ণ এলাকা পেরিয়ে কৃষ্ণার সঙ্গে হাত মেলায়।
কৃষ্ণা অববাহিকায় বৃষ্টির ভূমিকা
দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমী বায়ুর প্রভাবেই কৃষ্ণা অববাহিকায় সবচেয়ে বেশি বৃষ্টি হয়। সেন্ট্রাল ওয়াটার কমিশন বলছে, জুন থেকে অক্টোবর মাসের মধ্যেই এখানে সারা বছরের বেশিরভাগ বৃষ্টিপাত হয়। বিশেষ করে জুলাই, অগাস্ট ও সেপ্টেম্বরে ভারী বৃষ্টি হয়। তাই বর্ষার ওপর কৃষ্ণা নদীর জলস্তর অনেকটাই নির্ভর করে।
অববাহিকায় বন্যাও দেখা দেয়
বেশি বৃষ্টি হলে অববাহিকায় বন্যাও দেখা দেয়। দক্ষিণ ভারতের অর্থনীতি ও কৃষিতে এই নদীর ভূমিকা বিশাল। কয়না, আলমাট্টি, নারায়ণপুর, শ্রীশৈলম, নাগার্জুনসাগর, পুলিচিন্তলা এবং প্রকাশম ব্যারেজের মতো বড় বড় সেচ ও জলবিদ্যুৎ প্রকল্প গড়ে উঠেছে কৃষ্ণা নদীর ওপর।

